করোনার এমন দুর্যোগে বিএনপির অবস্থান কী?

ঢাকা, শনিবার   ১১ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৭ ১৪২৭,   ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনার এমন দুর্যোগে বিএনপির অবস্থান কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩০ ৩০ মে ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সমসাময়িক সময়ে করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক মহামারি রূপে পৃথিবীর বুকে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশের মানুষই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। উন্নত দেশগুলোতে করোনার তাণ্ডবে কয়েক লাখ প্রাণহানি ঘটেছে। বিশ্বের প্রায় সকল উন্নত রাষ্ট্রই করোনাভাইরাসের প্রকোপে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে, অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, একমাত্র আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নাই, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপে কন্তের ভাষণও একইরকম।

এমতাবস্থায় প্রায় আড়াই মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশেও করোনার প্রকোপ বাড়ছে। দেশের এই প্রেক্ষাপটে দল-মত নির্বিশেষে জনগণের পাশে সব রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। তবে এক্ষেত্রে বিএনপির কোন সাড়া তো নেই-ই, বরং তারা সরকারের নানা রকম সমালোচনায় ব্যস্ত রয়েছে। দেশের এই ক্রান্তিকালে এটি সত্যিই অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। 

বৈশ্বিক এই মহামারিটি শুরু হয় গত বছর ডিসেম্বরের শেষ দিকে, চীনের উহান শহরে। দেশে গত ৮ মার্চ করোনা ভাইরাস শনাক্তের কথা প্রথম সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়। এরপর দেশের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। করোনাভাইরাসের প্রকোপ মোকাবেলায় সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে। উপজেলা পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনা মোকাবেলায় প্রায় তিন মাস ধরে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।

সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন একযোগে সারাদেশে করোনার এই মহামারীতে ঢাল হিসেবে জনগণের পাশে থেকে সেবা করে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণ দিচ্ছে, ক্ষুধার্ত মানুষদের রান্না করা খাবার বিতরণ করছে, বাজার ও জনবহুল স্থানে স্প্রে করছে, কৃষকের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনাআক্রান্ত রোগী মারা গেলে তাদের জানাজা, মাটি দেয়া, হিন্দুদের মৃতদেহ সৎকার করাসহ মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রভৃতি নিয়মিত বিতরণ করছে।

আওয়ামী লীগ যখন এ সময় মানুষকে সচেতন ও নিরাপদে থাকতে পরামর্শ দিচ্ছে, ঠিক তখন বিএনপি সহযোগিতার পরিবর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা রকম গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। জানা গেছে, লন্ডন থেকে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন ২০ দল করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক ও নেতিবাচক তথ্য ছড়াচ্ছে। জনগণের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে নানা গুজব ও মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে।

দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলছে, বিএনপি এর আগেও পেট্রোল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, জঙ্গিবাদের পেছনে অর্থায়ন ও তৃণমূলে জঙ্গি তৎপরতা ছড়িয়ে দেয়াসহ পদ্মা সেতুতে মাথা লাগার গুজব, ছেলে ধরা গুজব, ভোলায় ধর্মীয় উসকানি দিয়ে মানুষ হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ করেছে। তারা এগুলো মূলত সরকারকে চাপে ফেলতেই করেছে। যেমনটা শুরু করেছে আবার এখন। চক্রটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে মিথ্যাচার করছে। সেই মিথ্যাচারিতা এমন পর্যায়ের, যা দেখে যে কেউ তাদের ফেলা ফাঁদে পা দিতে পারেন। কারণ তারা এমনভাবে উপস্থাপন করছেন যেন, দেশে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে। অথচ বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। 

এদিকে, লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় হাইকমান্ডের পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটের মিডিয়া উইংকে মোটা উৎকোচের বিনিময়ে নির্দেশনা দিয়েছেন নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে করোনাভাইরাস ইস্যুকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে উচ্চমানের গুজবে পরিণত করতে। যাতে মানুষ সেটাকে বিশ্বাসযোগ্য ভাবে, সে ব্যাপারেও নেতাকর্মীদের খেয়াল রাখতে বলেন তারেক।

এ বিষয়ে দেশের রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএনপি গুজব সৃষ্টিতে ওস্তাদ। অতীতেও তারা পদ্মা সেতুতে মাথা লাগার গুজব, ছেলে ধরা গুজব, ভোলায় ধর্মীয় উসকানি দিয়ে মানুষ হত্যার মতো জঘন্য কাজগুলো করেছে। এখনো চেষ্টা করছে করোনাভাইরাস ইস্যুতে ফায়দা লুটতে, সে কারণে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপতৎপরতা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা বাজারে কৃত্রিম মাস্ক সংকট সৃষ্টিরও চেষ্টা করছে। এমতাবস্থায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আপামর সাধারণ জনগণকেও অতন্দ্র প্রহরী হয়ে জেগে থাকতে হবে, যাতে তারা কোন ধরণের অপকর্ম করতে না পারে।

এদিকে, শুধু গুজব ছড়ানোতেই ব্যস্ত নয় বিএনপি। সম্প্রতি রাজশাহীর বাঘায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ‘ব্যঙ্গাত্মক’ লিফলেট বিতরণ করেছে বিএনপি। লিফলেটটি দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কর্তৃক প্রচারিত বলে সেখানে উল্লেখ রয়েছে। 

সেই লিফলেটে লেখা রয়েছে, ‘হাত ধোয়ার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার না পাওয়া গেলে বা দাম বেড়ে গেলে সাবান কিনেন। সাবানের দাম বেড়ে গেলে লেবু কচলে হাত ধোবেন, লেবুর দাম বেড়ে গেলে লবণ দিয়ে হাত ধোবেন, লবণের দাম বেড়ে গেলে গরম পানিতে হাত ধোবেন, পানির দাম বেড়ে গেলে আগুনের ওপর কিছুক্ষণ হাত রাখবেন।’ সবশেষে লেখা রয়েছে, খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। প্রচারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি।

বাঘা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান পিন্টু বলেন, দেশের এই দুর্যোগ মুহূর্তে সরকারকে তাচ্ছিল্য করে এ ধরনের লিফলেট বিতরণ মোটেও কাম্য নয়।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে করোনাভাইরাস নিয়ে যখন জনসচেতনতার বার্তা দেয়া হচ্ছে, তখন এ ধরনের উসকানিমূলক লিফলেট বিতরণ কাম্য নয়।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিএনপি করোনাভাইরাস নিয়েও রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নামে সংগঠনটি আজকে আন্দোলন, নির্বাচনে ব্যর্থ। আজকে তারা আইনি লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়ে বেগম জিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনীতি করে বেড়াচ্ছে, ইস্যু খুঁজে বেড়াচ্ছে। করোনাভাইরাস নিয়েও তারা সেই নিকৃষ্ট রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমি বিএনপিকে অনুরোধ করবো, এ ধরনের একটা মানবিক ও সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে রাজনীতির বিষোদগার করা থেকে বিরত থাকতে। সব বিষয় নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয়। করোনাভাইরাস মোকাবিলা যারা সরকারের আন্তরিকতায় ঘাটতি খুঁজে, তারা রাজনৈতিক কারণে এটা করছে।

তিনি আরো বলেন, অসহায় জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে, গণমাধ্যমে কথামালার ফুলঝুরি বর্ষণ তাদের জননিন্দিত হাতিয়ার। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে কর্মহীন মানুষের জন্য এবং ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ধারে কাছেও দেশের জনগণ তাদের দেখেনি। তারা রাজনৈতিক আইসোলেশনে ছিল এবং আছে। লকডাউনের নামে দেশ ও জনগণের জীবনকে স্তব্ধ করার পাশাপাশি জীবিকা রুদ্ধ করে অর্থনৈতিক স্থবিরতার সৃষ্টির অপকৌশল তাদের মনের কথা। শেখ হাসিনা সরকার দক্ষতা ও সহযোগিতার সঙ্গে অভিজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেই জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য তৈরি করার চেষ্টা করছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ