করোনাভাইরাস নিয়ে তরুণদের ভাবনা

ঢাকা, বুধবার   ০৩ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭,   ১০ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনাভাইরাস নিয়ে তরুণদের ভাবনা

এম জাহিদুল ইসলাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১৬ ৮ এপ্রিল ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

করোনা আতঙ্কে থমথমে পুরো বিশ্ব। জনমনে নানা ভয়, আতঙ্ক। চারদিকে বেঁচে থাকার হাজারটা চেষ্টা। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতিও ভয়ানক। নানা সঙ্কট আর ক্রান্তিলগ্নে পুরো দেশ। দেশের বর্তমান এই পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সচেতন কয়েকজন তরুণ ভাবনা জানাচ্ছেন এম জাহিদুল ইসলাম

বাংলাদেশে মোট করোনা আক্রান্ত ১৬৪ জন। বাংলাদেশের জন্য এটা খুবই এলার্মিং বিষয়। যদিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন মিল -কারখানা, অফিস আদালত। সুতরাং এ সংকটময় মুহূর্ত এড়ানোর জন্য জনগণ এবং সরকারকে একযোগে কাজ করতে হবে। সাধারণ জনগণকে অবশ্যই এই ভাইরাস থেকে বেঁচে কিভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা যায় সে সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। সবাই সরকারের নির্দেশনা মেনে চলি, গরিবদের পাশে দাঁড়াই। আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করছি সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের সব স্তরের মানুষের খাদ্য, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

তাহিরা আখতার, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

জীবনে প্রথম এমন কোনো ঘটনা দেখলাম যা পুরো পৃথিবীকে স্থবির করে দিচ্ছে। আর আমরা তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। আর্থ-সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় আমাদের জনগণকে আরো ধৈর্যশীল হওয়া দরকার। যাবতীয় নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা পরিহার করে ইতিবাচকতা গ্রহণ করতে হবে।

সাইদুল  ইসলাম,নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয

পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ লকডাউনে থাকায় বিশ্ব অথর্নীতে চরম মন্দার সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্ম এর জন্য কাজ করছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়েছে নানা পদক্ষেপ। সচেতনতা ও সহযোগিতাই পারে এর ভয়াবহতা থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে।

মীর নিয়ামুল জান্নাত পুষ্প, ব্রিটেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ষাট হাজারেরও বেশি মানুষ। যাদের মধ্যে রয়েছে বেশিরভাগ ব্যক্তিই ষাট বছরের বেশি বয়সের। এই মহামারি ভাইরাসটি বেশি প্রভাব ফেলেছে চীন, ইরান, আমেরিকা, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, বাহরাইনসহ অনেক দেশে। বিভিন্ন সংস্থাগুলো বলছে যে, আমাদের দেশে করোনার প্রভাবটা অনেক ভয়ঙ্কর আকারের হবে। কারণ উন্নত দেশেরগুলো তুলনায় আমাদের দেশে  চিকিৎসাসেবা উপক্রম কম। আমাদের দেশে অনেক লোকজন আছে করোনার লক্ষণ থাকা সত্বেও ডাক্তাররা বুঝতে পারছে না যে, তাদের করোনা হয়েছে কিনা। সরকার বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে কিভাবে তা মোকাবিলা করতে হবে। আসলে সরকারের একার পক্ষে কখনোই সম্ভব না, যদি আমাদের দেশের জনগণ একটু সচেতন না হই।

আশরাফুল ইসলাম ,নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আমরাই আমাদের নিজেদের পরিবার এবং সমাজকে এ ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত করে ফেলতে পারি। যারা বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে এসেছেন তাদের উচিৎ ১৪ দিন কোয়ারেনন্টাইনে থাকা। যারা তা না মেনে চলে গেছেন তাদের হোম কোয়ারেনন্টাইন এর নিয়ম টি পালন করা অবশ্যই দরকার।

চীন কি ইচ্ছে করে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে তা এখন চিন্তা না করে কিভাবে আমরা মুক্তি পাব, তা থেকে বাঁচার উপায়, কিভাবে আমরা প্রতিহত করতে পারব তার ভিডিও তৈরি করে অনলাইনে দেয়া আমাদের কাজ।

নাজমুল হাসান ভূঁইয়া, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ

আজ করোনার থাবায় সারা বিশ্বে মৃতের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে। সারা বিশ্ব আজ লকডাউন। বাংলাদেশের পরিস্থিতি দিনে দিনে অবনতির দিকে চলে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা খুবই প্রয়োজন। এখনো কিছু কিছু মানুষ অসচেতন, তারা বুঝতে পারছেনা করোনার থাবা যে খুবই ভয়ংকর। এখনই সময় আমাদের  সকলের সচেতন হওয়া, তা নাহলে সামনে ভয়ানক পরিস্থিতির শিকার হতে হবে।

রফিকুল ইসলাম তানজিম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম