করোনাভাইরাস আতঙ্কে চীনের প্রাচীরসহ বিভিন্ন স্থাপনা বন্ধ

ঢাকা, বুধবার   ০৮ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৫ ১৪২৬,   ১৪ শা'বান ১৪৪১

Akash

করোনাভাইরাস আতঙ্কে চীনের প্রাচীরসহ বিভিন্ন স্থাপনা বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০২ ২৬ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:০৬ ২৬ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস আতঙ্কে নবর্ষের একদিন আগে চীনের মহা প্রাচীরের একাংশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া বেইজিংয়ের বার্ডস নেস্ট স্টেডিয়াম, মিং রাজবংশের সমাধি, ইনশান প্যাগোডা এবং সাংহাইয়ের ডিজনিল্যান্ডসহ বিখ্যাত স্থাপনাগলোও বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার দেশটির সরকার এ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এনডিটিভির তথ্যানুযায়ী, করোনাভাইরাসের জেরে উহান প্রদেশসহ পুরো দেশটি রীতিমতো স্তব্ধ। দেশের বহু এলাকায় মানুষ গৃহবন্দী হয়ে জীবন কাটাচ্ছেন। এই ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে  এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৬ জন মারা গেছে। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা হাজারের বেশি।  যার মধ্যে উহানের রাজধানী হুবেই শহরে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে এ সংক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে দেশটির ১০টি শহরে ভ্রমণের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীনা সরকার।

এদিকে ভাইরাস সংক্রমিত শহরগুলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় চার কোটিরও বেশি মানুষ সমস্যায় পড়েছেন।  তবে চীন যেভাবে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় নেমেছে তাতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে  প্রশংসাও পাচ্ছে।

লুনার নিউ ইয়ার চিনের অন্যতম প্রধান উৎসব। ঘটা করে পালন করা হয় এই উৎসব। দেশটিতে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এ উৎসব। তবে এ বছর করনাভাইরাসের কারণে পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর যে মানুষ বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন। বন্ধ দোকান, স্কুল, কলেজ।

শুক্রবার চীনের সরকার নির্দেশ জারি করেছে, জ্বরে আক্রান্ত কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেয়া যাবে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২৫,০০০ বর্গমিটার এলাকার ওপর ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল বানাচ্ছে চীন। দশ দিনের মধ্যেই তা তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) প্রধান তেদরোস আধানোম ঘেবরেইয়েসুস অবশ্য বলেছেন, ‘চীনের অবস্থা নিশ্চিত ভাবেই খারাপ। তবে পরিস্থিতি এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্যের পক্ষে ‘জরুরি অবস্থা’ হয়ে ওঠেনি।’

উহানের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা স্বীকার করে নিয়েছেন, সেখানে হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বেইজিংয়ের সরকারি সূত্রে মাত্র ৮০০ জনের আক্রান্ত হওয়ার কথা স্বীকার করা হলেও বাস্তব ছবিটা হল, এত লোক হাসপাতালে ভিড় করছেন যে, তাদের চিকিৎসা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, উহান শহরের সি-ফুড ও মাছ-মাংসের বাজার থেকে এ ভাইরাসটি ছড়িয়েছে। এই বাজারে বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীর মাংস বেআইনিভাবে বিক্রি হতো। একটি সূত্রের দাবি, হুবেই প্রদেশের বাসিন্দাদের অনেকেই যেহেতু চীনা কালাচ এবং চীনা গোখরার মাংস খান, সেখান থেকেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে থাকতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ