করোনাভাইরাসের প্রভাবে পুতুল ও রীতারা পথে বসেছে, চিকিৎসারও টাকা নেই
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=162192 LIMIT 1

ঢাকা, শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৩ ১৪২৭,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনাভাইরাসের প্রভাবে পুতুল ও রীতারা পথে বসেছে, চিকিৎসারও টাকা নেই

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩১ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:৩৭ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চীনে করোনাভাইরাসের থাবায় প্রাণ গেছে অনেকের। আবার ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে বিছানায় কাতরাচ্ছেন। 

অন্যদিকে, এর প্রভাব পড়েছে কলকাতা থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর এলাকায়। সৈকত শহর দীঘা যাওয়ার পথ থেকেও প্রায় ১৩ কিলোমিটার ভেতরে। আবার চীনের উহান প্রদেশ থেকে এই স্থানটির দূরত্ব ঠিক ২ হাজার ৭৯৯ কিলোমিটার। ভাবছেন এতো দূরে কীভাবে ভাইরাসের প্রভাব পড়লো?

পরচুলা তৈরি করছেন তারাদুই গৃহবধূ পুতুল বেরা ও রীতা মাইতি। তাদের বাস ভগবানপুর এলাকায়। পরচুলা তৈরির পেশায় নিয়োজিত তারা। এই গ্রামে তাদের মতো অনেকেই এ কাজ করে থাকেন। মানুষের বাড়ি গিয়ে কিংবা পার্লারে ঢুঁ মেরে তারা পরিত্যক্ত চুল কিনে থাকেন। সম্প্রতি, তারা এক লাখের বেশি অর্থমূল্যের চুল কিনেছেন পরচুলা তৈরি করার প্রয়াসে। তবে তা জলে পড়তে চলেছে। ভাবছেন, করোনাভাইরাসের সঙ্গে আবার এই গ্রামবাসীর সম্পর্ক কী?

তারা সবাই পরচুলা ব্যবসায়ীপুতুল কিংবা রীতার মতো শিল্পীরা পরিত্যক্ত চুল দিয়ে পরচুলা তৈরি করেন। চুলের রং, ধরন ও দৈর্ঘ্য অনুযায়ী তা পৃথক করে বিভিন্ন ডিজাইনের পরচুলা তৈরি করে থাকে তারা। আর এসব পরচুলাই তারা রফতানি করেন চীনে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে তারা এসব পরচুলা বিক্রি করতে পারছেন না। এছাড়াও পূর্বে তারা যেসব পরচুলা চীনে রফতানি করেছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরাও বকেয়া অর্থ এখনো পরিশোধ করেননি। মহামারী এই রোগে তারাও আক্রান্ত। এজন্যই মাথায় হাত পড়েছে পুতুল ও রীতাদের। 

এবাবেই এক মাপে কাটা হয় চুলগুলোভগবানপুর এলাকায় তাদের মতো অন্তত লাখ খানেক মানুষ এই পেশায় যুক্ত রয়েছেন। তারা কীভাবে পরিত্যক্ত চুল সংগ্রহ করেন? আঁচড়ানো বা কেটে ফেলা চুলগুলোই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিনে নেন কিছু ব্যবসায়ীরা। ট্রেনে বা বিমানে সেসব চুল পৌঁছায় এই ভগবানপুর বা চণ্ডীপুরের বিভিন্ন ঘরে ও কারখানাগুলোতে। জানা যায়, সেখানে সবচেয়ে বেশি দামী চুল আসে কাশ্মীর ও পাঞ্জাব থেকে। সেসব চুল আঁচড়িয়ে, ধুয়ে, রোদে শুকিয়ে, মাপ মতো কেটে তা একসঙ্গে গোছা করে প্রস্তুত করা হয় রফতানির জন্য। এসব চুলই চীনে রফতানি হয়। এখন তো চীনের সঙ্গে সব বাণিজ্যই বন্ধ। এতেই গ্রামবাসীরা বিপদে পড়েছেন। 

এভাবে পরচুলাকে আসল চুলে রূপা্তিরিত করা হয়সেখানকার এক পরচুলা কারখানার মালিক রহমান বলে, করোনাভাইরাসের ফলে আগের পাওনা অর্থও আটকে রয়েছে। আমাদের এলাকার সবারই আয়ের প্রধান উৎস এই কাজটি। তাও যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে পথে বসতে হবে সবাইকে। এমনকি এলাকাবাসী চিকিৎসা পর্যন্ত করাতে পারছেন না অর্থের অভাবে। চীনের উহানের প্রভাব এখন ভগবানপুর, চণ্ডীপুরসহ কয়েক কিলোমিটার দূরের পাজনকুল গ্রামেও। 

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস