করোনায় আক্রান্ত হলে যেমন অনুভব করবেন

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনায় আক্রান্ত হলে যেমন অনুভব করবেন

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১৯ ২৭ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৯:২০ ২৭ মার্চ ২০২০

করোনায় আক্রান্ত রোগী। ছবি- সংগৃহীত

করোনায় আক্রান্ত রোগী। ছবি- সংগৃহীত

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বজুড়ে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। ভয়াবহতার কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এরইমধ্যে এই ভাইরাসকে ঘোষণা করেছে মহামারি। করোনাভাইরাসে আক্রান্তরা শুরুতে সাধারণ অসুখের মতোই বোধ করে। তবে ধীরে ধীরে ভয়াবহ হয়ে উঠে। নভেল করোনাভাইরাসে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অধিকাংশরা এমনটাই বলেছেন। 

ডব্লিউএইচও’র মতে, করোনাভাইরাস প্রথমে চীনে অনেক মানুষের ফুসফুসে মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করেছে। এরপর তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। 

চিকিৎসকেরা জানান, করোনাভাইরাস শরীরে প্রবেশের পরপরই কোষগুলোতে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, যার আনুষ্ঠানিক নাম সার্স-সিওভি-২। এটি নিশ্বাসের সঙ্গে দেহে প্রবেশ করতে পারে (আশপাশে কেউ হাঁচি বা কাশি দিলে) বা ভাইরাস সংক্রমিত কোনো জায়গায় হাত দেয়ার পর মুখে হাত দিলে ভেতরে প্রবেশ করে।

শরীরের প্রবেশের পরই প্রথমে গলা, শ্বাসনালী ও ফুসফুসের কোষে আঘাত করে করোনাভাইরাস। সেসব জায়গায় করোনার কারখানা তৈরি করে। পরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নতুন ভাইরাস ছড়িয়ে দেয় এবং আরো কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে শুরতে জ্বর, ক্লান্তি ও শুকনো কাশি হবে। কিছু রোগীর শরীরে ব্যথাও হয়। পাশাপাশি নাক বন্ধ, সর্দি, গলা ব্যথা বা ডায়রিয়াও হতে পারে। এই লক্ষণগুলি সাধারণত হালকা হয় এবং ধীরে ধীরে শুরু হয়।

করোনাভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৪ দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। তবে কিছু কিছু গবেষকের মতে, এর স্থায়িত্ব ২৪ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচদিন সময় লাগতে পারে।

কিছু লোক সংক্রমিত হয় তবে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না এবং অসুস্থ বোধ করে না। এতে আক্রান্ত ৮০ ভাগ লোকই বিশেষ কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সেরে ওঠে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত প্রতি ৬ জনের মধ্যে  ১ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং শ্বাস নিতে অসুবিধা বোধ করে।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বয়স্ক ব্যক্তিরা এবং উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা বা ডায়াবেটিসের রোগীরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। জ্বর, কাশি এবং শ্বাস নিতে সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের বিশেষ চিকিৎসা নেয়ার প্রয়োজন হয়।

এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা নিজের অভিজ্ঞতা হিসেবে জানিয়েছেন, দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনুভূতি হয়।

ইতালির গাভাটেসনি হাসপাতালের চিকিৎসক ড্যানিয়েল ম্যাককিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখা চিঠিতে করোনাভাইরাসে রোগীদের মৃত্যুর ঘটনা এবং পরিস্থিতির এক হৃদয়বিদারক বর্ণনা দিয়েছেন, যা থেকে ইতালির পরিস্থিতির ভয়াবহতা টের পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি লিখেছেন, এই রোগ ফ্লুর চাইতেও ভয়াবহ। বিশ্বাস করুন, ফ্লুর চাইতে এটি অনেক ভিন্ন ধরনের অসুখ। করোনাভাইরাসকে কেউ দয়া করে ফ্লু বলবেন না।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে খুব জ্বর আসে। রোগীর দম এমনভাবে বন্ধ হয়ে আসতে চায়, যেন সে ডুবে যাচ্ছে। রোগীরা হাসপাতালে আসতে চায় না। শুধু একটু অক্সিজেন পাওয়ার জন্য তারা বাধ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের খুব সামান্য কিছু ওষুধ কাজ করে। আমরা সাহায্য করার সাধ্য মতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু সব কিছুই নির্ভর করছে রোগীর অবস্থার ওপর।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর