Alexa ‘কম দাম হলেই শেয়ার কিনতে হবে এটা সঠিক নয়’

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

‘কম দাম হলেই শেয়ার কিনতে হবে এটা সঠিক নয়’

মীর সাখাওয়াত সোহেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৮ ১৮ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ২০:৩০ ১৮ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মো. মনিরুজ্জামান। ২০১১ সাল থেকে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া থেকে বিবিএ ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তিনি একজন সিএফএ চার্টার হোল্ডার এবং সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশের ভাইন্স প্রেসিডেন্ট। ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় দেশের পুঁজিবাজারসহ অর্থনীতির নানা বিষয় তুলে ধরেছেন তিনি।

শুরুতেই দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা নিয়ে কথা বলেন মো. মনিরুজ্জামান। পুঁজিবাজারে অস্থিরতার কারণগুলো নিয়ে তিনি বলেন, কিছু কিছু কোম্পানি ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে অনেকেই বিচার বিবেচনা না করে শেয়ার ক্রয় করেন। অনেকেই কম দাম বলে কিছু কোম্পানির শেয়ার কেনেন। এই জাজমেন্টগুলো সঠিক নয়। বাংলাদেশের মানুষ এখনো শেয়ারকে একটা কমোডিটি (পণ্য) মনে করে। কিন্তু শেয়ার তো কমোডিটি নয়। স্টক কেনা মানে বিজনেসের মালিকের অংশ হওয়া। কিন্তু তারা সেটা মনে করে না। এটা একটা ভয়ঙ্কর প্রবণতা।

পুঁজিবাজারে নেতিবাচক দিকগুলোর বিষয়ে মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের বাজারের আরেকটা খারাপ দিক হলো- প্রায়ই দেখা যায়, কিছু কিছু শেয়ারের দাম এক বা দুই মাসের ব্যবধানে তিন বা চারগুন পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষের যে ইনভেস্টমেন্ট বিহেভিয়ার সেটা বাধাগ্রস্ত হয়। তখন তারা মনে করে, খারাপ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে যদি অল্প সময়ে বেশি লাভবান হওয়া যায়, তাহলে ভালো কোম্পানিতে কেন বিনিয়োগ করব? ‘আল্টিমেটলি যারা এ ধরনের ম্যানুপুলেটিং স্টকসের পেছনে ছোটে, দেখা যায় তাদের ৯৫ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গুটিকয়েক লোক এর সুবিধা পায়। বাকিরা সবাই মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে। এর একটা বাজে প্রভাব পড়ে পুঁজিবাজারে।

মো. মনিরুজ্জামান আরো বলেন, বাংলাদেশের বাজারের জন্য একটি দুর্বল দিক হলো- এখানে ইনভেস্ট করার মতো ভালো কোম্পানি খুবই কম। হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি রয়েছে। যেখানে বিনিয়োগ করলে মানুষ আস্থা রাখতে পারে। এই আস্থার জায়গাটা তৈরি করতে হবে। তবে সেটা দেরিতে হলেও শুরু হয়েছে। দেশে এখন ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট হয়েছে। এটা পুরোপুরি কার্যকর হলে বাংলাদেশের জনগণ এর সুবিধা পাবে। সেই পথেই আমরা অগ্রসর হচ্ছি। এটা যতো দ্রুত হবে, ততোই মঙ্গল। আস্থার সংকটের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন পুঁজিবাজার বিমুখ হচ্ছে। তাদেরকে বাজারে ফিরিয়ে আনতে হলে একটা সাসটেইনেবল মার্কেট দরকার।

মো.মনিরুজ্জামান বলেন, দায়িত্বহীন বিনিয়োগ- সেটা ব্যক্তিগত হোক আর প্রাতিষ্ঠানিক হোক, সেটা কিছুতেই সমর্থনযোগ্য নয়। কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান যখন হঠকারী কাজ করে, তখন সেটাকে আমি বলব চরম দায়িত্বহীনতা। এটা হতে পারে না। এমন সিদ্ধান্ত যারা নেয়, তাদের অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিৎ। আর সেই শাস্তিই হয়েছে পিপলস লিজিংয়ের। তবে এ ঘটনায় অন্তত একটা শিক্ষা হবে। ফাইনান্সিয়াল ইনস্টিটিউটগুলো বুঝবে, রিস্ক বলে একটা বিষয় আছে। এখন সবাই সতর্ক হবে বলে আশা করি।
তিনি বলেন, এর আগে এমএলএম এর নামে অনেক ভূঁইফোঁড় কোম্পানি রাতারাতি কোটি কোটি টাকা নিয়ে চলে গেছে। আমাদের দেশে ফাইনান্সিয়াল লিটারেসির অভাব রয়েছে। আর সেটার সঙ্গে যোগ হয়েছে লোভ। এই দুটোর ফলে অনেকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আর এর খারাপ প্রভাবগুলো পড়ে আর্থিক খাতে।

খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যাংকখাত বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ বিষয়ে মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এখন জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ওপরে।  ব্যষ্টিক বা সামগ্রিক অর্থনীতির দৃষ্টিতে এটা খুবই ইতিবাচক। তবে সবকিছুতেই একটা চ্যালেঞ্জ থাকে। ব্যাংকিং সেক্টরে গত কয়েক বছর ধরে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তাতে করে পুরো সেক্টরটাই একটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আমানত ও ঋণের যে সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে, মার্কেট ডাইনামিক্স এটাকে সাপোর্ট করে না। বাস্তবতার নিরিখে এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আমানত ও ঋণের সুদের হার যথাক্রমে ৬ ও ৯ শতাংশ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসব রেট সব সময় মার্কেটের চাহিদা অনুযায়ী হয়। চাপিয়ে দিলে কার্যকর করা কঠিন। সঞ্চয়পত্রের রেটও তো এর চেয়ে এখনো বেশি। তাহলে রিস্ক ফ্রি ক্ষেত্রে যদি লাভ বেশি হয়, তাহলে মানুষ কেন ব্যাংকে আসবে? গত কয়েক বছর ধরে আমাদের লোনের গ্রোথ ডিপোজিটের চেয়ে বেশি। ডিপোজিট গ্রোথ যেখানে ১০ শতাংশ, সেখানে ঋণের গ্রোথ ১২ শতাংশ। ফলে প্রতি বছরই ব্যাংকগুলোর তারল্যে টান পড়ছে। ব্যাংকিং সিস্টেমে এখন লিকুইডিটি ঘাটতি রয়েছে। যদিও গত কয়েক মাসে সেটা কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে এসেছে।

খেলাপি ঋণ আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা ভালো গ্রাহক তারা তো ইচ্ছা করে খেলাপি হতে চান না। নিজের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায় না। তবে খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য এ ধরনের সুযোগ দেয়াটাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করি না। কারণ এতে করে ভালো গ্রাহকরা নিরুৎসাহিত হবে। খারাপদের এই সুযোগ দেয়ায় এরই মধ্যে ভালো গ্রাহকদের মধ্যে একটা আক্ষেপ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, খারাপরা এমন সুবিধা পেলে আমরা কি দোষ করলাম? তবে এই সার্কুলারে একটা পজেটিভ দিক আছে। ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্মতিতে রিশিডিউলিংটা করতে হবে। ব্যাংক যদি না চায়, তবে গ্রাহক এটা করতে পারবে না। আর ব্যাংককে কিন্তু প্রভিশনিংটা রাখতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো প্রথম প্রান্তিকে হঠাৎ করে ব্যাংকগুলোর খেলাপির পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। এই হারে বাড়তে থাকলে সামগ্রিক ব্যাংকিং সিস্টেমেই একটা সমস্যা তৈরি হবে।  অনেক টাকা আটকে যাচ্ছে সেটা ব্যাংকিং সিস্টেমে ফিরে আসছে না। কালেকশন যদি না হয় তাহলে তারল্য সংকট আরো বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/এস

Best Electronics
Best Electronics