Alexa কমেছে জমি রেজিস্ট্রি

ঢাকা, শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

কমেছে জমি রেজিস্ট্রি

 প্রকাশিত: ১৭:০৫ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:০৫ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজারের রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ অসন্তুষ্ট হওয়ায় জমি বেচা-কেনার হার কমেছে বহুগুনে। একই দিকে রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে অফিস খরচের নামে ঘুষ বাণিজ্য বহুগুণ বাড়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষোভ চরম আকার নিচ্ছে।

রেজিস্ট্রি অফিসে আগের চেয়ে কমিশন বাড়িয়ে দিতে চাপ দিচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। সরকারি খরচের ৩ গুণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে দলিলের নকল বা সহিমুহুরী নিতে। তারপরও ২/৩ মাস অপেক্ষা করতে হয়।

এই অনিয়ম দুর্নীতির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে একটি শক্ত সিন্ডিকেট। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, অফিসে সব কার্যক্রম চলছে আগের নিয়মে।

কক্সবাজার পিএমখালী ইউনিয়নের সিরাজ উল্লাহ বলেন, গত সপ্তাহে আমার বোন কিছু জমি ক্রয় করে। সেই সময় আমি তার সঙ্গে যাই। সেখানে ব্যাংকের পে-অর্ডারের টাকা দেয়ার পরও অফিস খরচ এবং দলিল লেখকের টাকা আগে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দলিল লেখক রেজিস্ট্রি করার সময় ২ বার আমাদের কাছে বাড়তি টাকা দাবি করে।

পরে আমরা ভেতরে গিয়ে দেখি নীচ তলায় টাকা নেয়ার দায়িত্বে থাকা মন্টু বড়ুয়া এবং সজিব পাল টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। তারা বলছে এখন দলিল কম তাই আমাদের অফিস খরচ বেশি। আর কোন মাফ নাই সব টাকা দিতে হবে।

জমি রেজিস্ট্রি করতে আসা কয়েকজন জানান, জমি রেজিস্ট্রি কমেছে। কিন্তু অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতি কমেনি বরং বেড়েছে।  আগে অনুরোধ করলে কিছু কম নিত এখন রেজিস্ট্রি কম তাই খরচ বেশি বলে আরো বেশি টাকা নেয়। এখন প্রতি লাখে ৫০০ টাকার কমে নেয় না। এখানে দৈনিক কয়েক লাখ টাকা ঘুষ আদায় হয়ে থাকে। এই টাকা রেজিস্ট্রি অফিসের সবার মধ্যে ভাগ-ভাটোয়ারা হয়।

নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক ২ জন দলিল লেখক বলেন, কক্সবাজারে জমি রেজিস্ট্রি বা ব্যবসার এক সময় স্বর্ণযুগ ছিল। কিন্তু এখন সেটা একেবারে মৃত। গত কয়েক বছরে খরচ জমির মূল্যের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় রেজিস্ট্রি কমেছে বহুগুণ। সঙ্গে অফিস খরচ বেড়েছে বহুগুণ। আগে লাখে ৩০০ টাকা হিসাবে দিলে হতো। এখন ৫০০ টাকার কমে মানে না। 

রামু থেকে আসা রশিদ আহাম্মদ বলেন, আমার একটি জরুরি প্রয়োজনে সহিমুহুরী নকল দরকার। সেজন্য এখানে একজনকে ২২০০ টাকা দিয়ে নকল তুলতে দিয়েছি। কিন্তু এখন ২ মাস হলেও নকল পাইনি। জানিনা আরো কতদিন অপেক্ষা করতে হয়। 

রেকর্ড রুমে রেকর্ড কিপার হিসাবে মকসুদ আহাম্মদ নাম থাকলেও কার্যত অফিস চালাচ্ছে অনুলিপি বড়ুয়া নামের একজন কর্মচারী। তার নির্দেশেই সব কিছু হচ্ছে। আর অফিসের যাবতীয় লেনদেনও তিনিই করে থাকেন।

অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বিশেষ খাতিরের কারণে রাইটার শিবলী বড়ুয়া দাপটে তটস্থ থাকে বাকিরা।

রামু রেজিস্ট্রি অফিস এলাকার এক দলিল লেখক জানান, ১২% এর কমে জমি রেজিস্ট্রি হয় না। সরকারিভাবে ব্যাংকে ৯ % এর মত আর বাকিগুলো অফিস খরচ।

এব্যাপারে অ্যাড. হারুন উর রশিদ বলেন, রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম দুর্নীতির যে একটি হাট বসে সেটা সবাই জানে। জমি রেজিস্ট্রি করতে সরকারি খরচ বাদে অন্যকোনো খরচ নেই। তাছাড়া সরকারি অফিসে প্রকাশ্যে এভাবে ঘুষ নেয়ার নজির খুব কম। এটা দীর্ঘদিনের রীতি হঠাৎ করে হয়েছে এমন নয়।

জেলা রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও কক্সবাজারে জমি রেজিস্ট্রির ধুম ছিল। সে হিসাবে বছরে ১৫ কোটি টাকাও রাজস্ব আদায় হতো। এখন সেটা ৮ কোটিতে নেমে এসেছে। সে হিসাবে জমি বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

অফিসের রেকর্ড কিপার মকুসদ আহাম্মদ জানান, ভলিয়ম বাধাই করার কাজ চলছে। তাই জনগণকে দলিলের কপি দিতে সময় লাগছে। আর এখানে যে টাকা নেওয়া হয় সেটা বহুবছর ধরে নেওয়া হচ্ছে। এখানে আমার কোন হাত নেই।

এব্যাপারে সদর সাব-রেজিস্ট্রার মাজেদা বেগম বলেন, আমাদের অফিসে কোন অনিয়ম হয় না। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন আমি কোন ব্যক্তিকে কোন ধরণের চাপ দিয়ে কিছু করেছি কিনা। আমি যোগদান করার পর থেকেই দেখছি কক্সবাজারে দলিলের সংখ্যা খুব কম।

জেলা রেজিস্ট্রার এ একে এম রায়হান মণ্ডল বলেন, জমি বেচা বিক্রি কমেছে সত্য। তবে কমার পেছনে কারণ হচ্ছে সদরে জমি বেচাকেনা করতে একটি অনুমতির প্রয়োজন হয়। সেই কারণে মানুষ অনেকটা ঝামেলা মনে করে। আর মৌজা রেইট স্বাভাবিকভাবে একটু বেশি হওয়ার কারণেই জমির বেচাকেনা কমেছে। 

তবে আমরা সেই বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আর আমি দেড় বছর দায়িত্ব পালন কালে অফিসের অনিয়ম বিষয়ে কেউ আমাকে অভিযোগ করেনি। কেউ অভিযোগ করলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসকে/আরআর