Alexa কমেছে ইলিশের দাম

ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

কমেছে ইলিশের দাম

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৯ ৮ এপ্রিল ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ আসতে এখনো বেশ কয়েকদিন বাকি। পয়লা বৈশাখের দিন সকালে পান্তা ইলিশ খাওয়া বাঙালির ঐতিহ্য না হলেও এখন সেটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিবছর পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে ইলিশের দাম হয় আকাশছোঁয়া।

তবে বরিশালে ইলিশ মাছের মোকামে দেখা গেছে ঠিক উল্টো চিত্র। ইলিশের দাম বাড়ার বদলে কমেছে। মোকামে রয়েছে প্রচুর ইলিশ। পয়লা বৈশাখের জন্য পাইকাররা এসব ইলিশ মজুত করে রাখে। 

সোমবার বরিশালের ইলিশ মোকাম ঘুরে জানা গেছে, গত সপ্তাহে এক কেজি সাইজের ইলিশের মণ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম ছিল দুই হাজার ২৫০ টাকা। খুচরা বাজারে এসব মাছ বিক্রি করা হয়েছে প্রতিকেজি দুই হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকায়। 

সোমবার দাম কমে একই সাইজের ইলিশের মণ ৭২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়েছে এক হাজার ৮০০ টাকা। খুচরা বাজারে এসব মাছ প্রতিকেজি দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম কমলেও বর্তমান দামকেও অনেক বেশি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ক্রেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতবছর পয়লা বৈশাখের এক সপ্তাহ আগে এক কেজি সাইজের ইলিশের মণ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে এবার মণ প্রতি ইলিশের পাইকারি দাম কমেছে আট হাজার টাকা। 

নগরীর পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামের একাধিক আড়তদার বলেন, দাম কমে যাওয়ার কারণ বাজারে হিমাগারে মজুত রাখা প্রচুর ইলিশ সরবারহ করছে দেশের বিভিন্নস্থানের পাইকাররা। ফলে আগের চেয়ে দাম কমেছে। পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে ছয় মাস আগে থেকে হিমাগারে কম দামে ইলিশ ক্রয় করে মজুত করেছেন পাইকাররা। এরপর পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে চাহিদা বাড়ায় ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে মজুত করা এসব ইলিশ বেশি দামে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের মোকামে ইলিশের দাম কমে গেছে।

তবে হিমাগারে মজুত করা এসব মাছের সরবরাহ কমে গেলে আবারো ইলিশের দাম বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ইলিশ ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, হিমাগারে মজুত ইলিশ বিক্রি হয়ে গেলে দাম বাড়তে শুরু করবে। 

নগরীর পোর্ট রোডের আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিৎ কুমার দাস মনু বলেন, ইলিশের আমদানি কম। তবে গত সপ্তাহের চেয়ে দাম কমেছে ইলিশের। গত সপ্তাহে প্রতিদিন আমদানি ছিল ৭০ থেকে ৮০ মণ। চলতি সপ্তাহে তা কমে প্রতিদিন আমদানি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ মণ। 

ইলিশের আমদানি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এ সময়টাতে দেশের প্রধান কয়েকটি নদীর অভয়াশ্রমে ইলিশ ধরা পুরোপুরি বন্ধ থাকে। এ সময় অভিযানও চালায় মৎস্য অধিদফতর, কোস্টগার্ড নৌ-পুলিশের সদস্যরা। ফলে ইলিশের সরবরাহ কম।

অজিৎ কুমার দাস বলেন, মোকামে সোমবার পাইকারি দর ছিল এক কেজি সাইজের ইলিশের মণ ৭২ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজি ইলিশের পাইকারি দাম পড়েছে ১৮০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে এ ইলিশের মণ ছিল ৯০ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজি ইলিশের পাইকারি দাম পড়ে দুই হাজার ২৫০ টাকা। তবে এ সাইজের ইলিশের আমদানি খুব কম। যে পরিমাণ আসে তার সবটুকু প্যাকেটজাত করে ঢাকায় পাঠানো হয়। 

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল দাস বলেন, অভয়াশ্রমগুলোতে জেলেরা মাছ শিকার করতে না পারায় বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম। তবে মে মাসের শুরুতে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে বাজারে ইলিশ সরবরাহ বেড়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে