Alexa শুভ দিনে হোক কবিতা পাঠ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৬ ১৪২৬,   ২২ সফর ১৪৪১

Akash

শুভ দিনে হোক কবিতা পাঠ

সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০৯ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৬:১২ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আজ কবি মাহফুজা অনন্যার জন্মদিন। চির তরুণ এ মানুষটির জন্মদিনের হিসেব সংখ্যায় বাড়েনি কখনো। বাড়বেও না। হাসি-খুশি এভাবেই কাটুক লম্বা এক জীবন। কবির জন্মদিনে ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য তার লেখা দুটি কবিতা প্রকাশ হলো। আর কবির জন্য রইল অসংখ্য শুভকামনা। রইল জন্মদিনের শুভেচ্ছা


প্রতিদিনই ভাবি

শহরকেই একদিন স্বপ্নময় ভেবেছি
একটি শহরের জন্য আমার হৃদয়ের ব্যকুলতা
ওরা জানে-দুলি, নার্গিস, জিয়া।

শহরকে ভালবেসে একদিন আমি স্বপ্নের কাছে ছুটেছি ত্রস্ত হৃদয়ে
ঠিকঠাক সময়ে ব্যাগপত্র গুছিয়ে স্টেশনে পৌঁছেছি।
আসার সময় মাকেও খুব ভালো করে দেখে আসতে পারিনি!
সেদিনের কথা মনে পড়ে
ইলেকট্রিক ফ্যান ঘোরে মাথার উপর
মার হাতে ঘোরে তবু হাতপাখা
চোখ মুছে আর বলে- ’আবার কবে আসবা মণি’?

আসবো খুব শীঘ্রই ফিরে আসবো তোমার কাছে,
তোমাদের কাছে,
আমার দুরন্ত সবুজ গ্রামে শৈশবের সকাল ছুঁতে,
রোদের হাওয়ায় গা ভাসাতে আবার ফিরে আসবো নিবিড় আলোর বিকেলে।
আমার চেনা আলোয় পরিচিত সন্ধ্যায় শীতল পাটি বিছিয়ে আকাশ দেখবো না
তা কি হয় মা?

শীতল হাতে মা পিঠে, মুখে হাত বুলিয়ে দেয়
ছোট করে বলে দেয় ‘সাবধানে চ’লো মণি’।
আমি এখন এ শহরে ব্যস্ত নাগরিক
সময় নষ্ট করার মতো সময় নেই
রাজপথে জনস্রোতে ভাসি প্রতিদিন
ভাসতে ভাসতে শুধু ঘ্রাণ খুঁজি অতীতের
স্বপ্নের কাছে এসেও আমি ফিরে যাই অতীতে!
মনে করি ‘ফিরে যাবো’

ফিরে যাবো আমার চিরচেনা দুগ্ধবতী গ্রামের কাছে,
যেখানে আমার মা আছে।
কথা দিয়ে আসা মায়ের মলিন মুখ মনে পড়ে হরদম,
প্রতিদিন ভাবি কংক্রিটের শহর ছেড়ে যাবো।
প্রতিদিন একবার করে ভাবি মাকে দেয়া কথা রাখি,
একবার গিয়ে দেখে আসি কত সহস্র শতাব্দী না দেখা মায়ের মুখ,
কত বছর ধরে পথ বাড়িয়ে অপেক্ষা করে আছে 'আমার মা'।
আমার সব কবিতার একটি সারমর্ম ‘আমার মা’
আমার সব কবিতার একটি শব্দ ‘মা’।
*

জ্ঞানের কঙ্কাল

গর্ভধারিণী রাত জানে কিভাবে তুমি আমার
আঙ্গুল থেকে নতুন ভাষার পাঠ নামিয়ে নিচ্ছ
স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ আমার আঙ্গুলে আঙ্গুল
ছুঁয়েছেন বটে
কিন্তু তোমার মতো আমার আঙ্গুল থেকে
সুগভীর প্রেম নামাতে পারেননি

শুধু তাই নয়
তোমর হৃদয় দিয়ে হৃদয় ছোঁয়ার গল্পে যে
পরদর্শিতা দেখিয়ে যাচ্ছ। তাতে তোমার আমার
প্রেমবিষয়ক সর্বোত্তম নৈকট্য হাসিলের তালিকা
বিদ্যমান

বাখুসের মন্দিরে পূজোপকরণ পেয়ে মজে যায়
যেমন ঠাকর
স্বাধীন বানানরীতিতে চিঠি লিখে তুমি আমার
হৃদয়ের খোরাক মিটিয়ে চলেছো…

উষর ভূমিতে তুমি দিয়ে যাচ্ছ তৃণের হাসি, স্বপ্ন
ও নিয়ম
তোমার নিরঙ্কুশ শব্দ-সম্ভার থেকে আমি কুড়িয়ে নিচ্ছি আক্ষরিক প্রেম
জ্ঞানের কঙ্কাল কেড়ে তুমিও যেমন কুড়াচ্ছ
কিছু ব্যকরণ, শব্দ!

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর