কবির জন্মদিনে হোক কবিতার পাঠ
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=187542 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

কবির জন্মদিনে হোক কবিতার পাঠ

সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৬ ১৩ জুন ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আজ ১৩ জুন শনিবার। নব্বই দশকের শক্তিমান কবি ওবায়েদ আকাশের জন্মদিন। ডেইলি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

১৯৭৩ সালের এই দিনে রাজবাড়ী জেলার সুলতানপুর গ্রামে ওবায়েদ আকাশ জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মো. ইমারত হোসেন ও মা মৃত হাজেরা বেগমের ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ওবায়েদ আকাশ ১৯৮৮ সালে সুলতানপুর হাইস্কুলের মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি, ১৯৯০ সালে ফরিদপুর ইয়াসিন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, মতিঝিল টিএ্যান্ডটি কলেজ থেকে স্নাতক ও ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৯৫ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ সম্পন্ন করেন।

১৯৯৫ সালে সিনেমা ম্যাগাজিন স্টার ভিশনে প্রতিবেদক হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক পত্রিকায় প্রদায়কের কাজ করেন। বর্তমানে দৈনিক সংবাদে সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কবির জন্মদিন উপলক্ষে ডেইলি বাংলাদেশ’র পাঠকদের জন্য তার কয়েকটি কবিতা প্রকাশ করা হলো-

কবন্ধ মানুষ তবু হাঁটে

মানুষের দ্বারপ্রান্তে এই বসবার আসন
মানুষ হয়ে মানুষের আমৃত্যু-আজন্ম অভ্যাস সমস্ত শরীরে ঝুলিয়ে
ত্রিস্তর উড়িয়ে দেই স্বস্তির নিশ্বাস

আর দেখি কাঁটাতারের গৃহে রিরংসা বিবাদ
তারা দীর্ঘ টানা বারান্দার মতো বিছিয়ে রেখেছে প্রত্যেকের অব্যর্থ দাবি
শ্রেণি সংগ্রামের আগেই একে অপরের মস্তক চেয়ে পেশ করেছে প্রত্যয়ন
এবং প্রথমত তারা দখল করেছে মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সুশৃঙ্খল প্রতিটি আসন

এক টুকরো সুস্থিরতার বিপরীতে অন্যায্য দৃশ্যগুলো
একে একে তুলে নিয়েছে মনুষ্যরচিত প্রাক-পৌরাণিক হত্যার বৃত্তান্ত

ব্যবহৃত গুহামানবের অস্ত্রে সেই যে দণ্ডিত হলো সভ্যতা
সেই যে পশু হত্যার জিঘাংসায় আদিম মগজে চাগিয়ে উঠত ক্ষুধা
আজও সেই মানুষ প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসে উগড়ে দিচ্ছে খুনের পর খুন

এখনো প্রতিটি সভ্যতার ইশতেহার চেয়ে রচিত প্রতিটি পত্রে
কান পেতে শোনো গড়ানো রক্তের নদী কতকাল ধরে গর্জে গিয়েছিল
এখনো মানুষের মৌলিক বিশ্বাসে ভর করে দেখো
প্রয়োজনে ব্যক্তিগত মস্তক বিচ্ছিন্ন হয়ে কবন্ধ হেঁটে যাবে মানুষ
যতটুকু হাঁটা যায়, মানুষ তবু হেঁটে যাবে অন্তিম মুদ্রায়

আর একবার পেছনে তাকাবে মানুষ
প্রজন্মের সিঁড়িগুলো কতগুলো মস্তক চেয়ে একদিন পত্র লিখেছিল
আর একবার সম্মুখে তাকাবে মানুষ 
তাদের বিকল্প আগামীগুলো ধানক্ষেতের সবুজ প্রান্তরে ঘুমিয়ে পড়েছিল

আবার বর্ষা কিংবা জলোচ্ছ¡াসে সমস্ত রক্তবর্ণ ধুয়ে 
অবিশ্বাস্য নির্ভরতায় সবুজাভ সভ্যতায় পাল তুলে দেবে নতুন মানুষ?
***

সরাইখানার মাঠ

সরাইখানা প্রতিদিন আহ্লাদ ফেরি করে
কাগজ পেলেই লেখে ভেজা বাতাসের রেণু

প্রতিদিন ঘুমাতে ঘুমাতে আঁকি
সরাইখানার মাঠ; তালগাছ সুদীর্ঘ খুব
বাতাসে সম্ভ্রমে ভাসে বেথুল বনের ছায়া

চোখের পাপড়িতে ঘুমায় টালমাটাল 
অক্ষরের রাত; তুমি আঁকো কৃত্রিম সমুদ্রের ফেনা
কাঁপা কাঁপা বিস্তর পরিণতি

সরাইখানা দুলে ওঠে খুব
ঝড়ের সৌগন্ধ ঘিরে স্নিগ্ধ ভেজা বন
প্রান্তরে পাতার কারুছায়া
চেতনা ছাপিয়ে জাগে তোমার আশ্বস্ত খেয়া
***

মৃত পাতা, হলুদ পত্রালি, অতঃপর

চুম্বন ফিরিয়ে দিয়েছ বলে এই নয়
ভালবাসায় নিতান্ত অবহেলা আছে!

স্বপ্নে দেখা অগণিত নীল পাখির ঠোঁট
এক টুকরো আহারে কী করে
সমন্বিত ক্ষুধা নিবৃত্ত করছে?

অর্থাৎ পৃথিবীতে ভালবাসা অবশিষ্ট আছে

তোমাদের শহরে এতো মৃত পাতা, হলুদ পত্রালি
কোথা থেকে আসে?

এর মানে কিশলয়ে পৃথিবীটা
নতুন আনন্দে বাঁচে!
***

নদীকথা

এঁকেছিলে ময়ূর যখন ছুঁয়েছিলে নদী
ছোড়ো নি তো পাথর তখন, ব্যথাভরা গান
গেয়েছিলে শুনিয়ে তাকেই যাকে দিলে আলো
ময়ূর ছিল রোদে আঁকা এ পৃথিবীর প্রাণ

এ পৃথিবী অবাক যখন উড়ে যেত ডানা
মেলে দিত পেখম তখন দূরে যেতে যেতে
আঁকত কথা ঝড় সন্ত্রাস যেমন মনে হতো
ভাবতে তুমি আঁকছে নদী আর উঠতে মেতে

ঝড়ে ওঠা শঙ্খে যখন পেতেছিলে কান
হু হু করে উঠলে তখন নদীকথা যত
ভেঙে গেছে ভাঙনপ্রিয় এ তল্লাটে আজ
পড়ে আছে নিথর ঘাটে পেখমছোঁয়া ক্ষত

বসে ছিল অবাক সারস খেতে খেতে দানা
পালক দুটো মেলে দিল শীতের নাভিমূলে
শীতার্ত ঘুম জুড়ে নেবে ক্লান্ত দুটি চোখে
এলোমেলো একটি দুপুর হঠাৎ পড়ল খুলে
***

সুরা ও খেজুর বাগান

সুরার ওপারে একাই যাবো না ভাবি
খেজুর বাগানে যারাই হেঁটেছে তারা
আলোক জ্বেলেছে একা ও অনেকজন
সুরার ওপারে একাই যাবো না আমি
যদি বলো তবে এটাই করেছি দাবি

আমাকে টেনেছে সুরার্ত দুধভাত
আমি কি একাই নিয়ম ভাঙতে পারি?
ওপারে রয়েছে শেকসপিয়ার আর 
রাজরাজড়ার মন, আমি কি কখনো
রাজার উপরে ভরসা হারাতে পারি?

আমি তো যাবো না সুরার ওপারে, যাবো
খেজুরের স্বাদু ত্বকে, অনাবিল তাকে
কবিতা বোঝাবো, বেদনার ফাঁকে ফাঁকে

ঝিরি ঝিরি দোলে খেজুরের পাতা, আর 
নারকেল পাতা দূরে, পঙ্ক্তিরা বড় 
বেসামাল তাতে, অনেকে যেখানে যায়
পদ্য রচে না কবিতা রচেÑ তাও কিছু বোঝা 
দায়; আমি তো যাবো না সুরার ওপারে 
সমুদ্র সীমানায়

পদ্য রচি না কবিতা রচেছি আজ
খেজুর বাগানে পাতাদের মাঝে উঠে
একা ও অনেকে কিংবা সকলে মিলে
খেজুরের ত্বকে বুঝে নিও স্বভাষায়
***

নামমাত্র মাথায় চলে না আমার

শরীরের যাবতীয় অসুখ চিকিৎসা করায়ে
একমাত্র মাথাব্যথা হৃদয়ে পুষি

আবরার হত্যার দৃশ্যে আবার চাগিয়ে উঠল মাথাব্যথা

এরপর পায়ের কাছে বলি : ঘুরছ-ফিরছ পা?

এবং চোখের কাছে বলি : দেখতে পাচ্ছ চোখ?

অতঃপর মনের কাছে বলি : কোনো কিছু ভুলে যাচ্ছ না তো?

তারা সমস্বরে বলে, প্রত্যেকের যাবতীয় রোগের চিকিৎসা শেষে
একমাত্র বাঁচিয়ে রেখেছে মাথাব্যথা

এবার সমস্ত শরীরে ধমক বসায়ে বলি:
সত্যি করে বলো তো তোমার কয়টি মাথা দেহে?

এবার ক্রোধোন্মত্ত শরীর নিজেকে উন্মুক্ত করে দেয়Ñ
আর কিলবিল করে ছড়িয়ে পড়ে অগণিত মাথা

এবং প্রতিটি মাথাই লাল নীল বাদামি ব্যথায় 
স্তব্ধ বিক্ষত হয়ে আছে-

আমার শরীর দৌর্দণ্ডে মুখ খুলে বলে-
আজকাল এত এত বিচিত্র ব্যথা আকাশে বাতাসে যে
কেশাবৃত নামমাত্র মাথা তা ধারণে সক্ষম নয়-

প্রতিটি হত্যার বিয়োগ-যন্ত্রণা এতটাই বিস্তৃত যে
তাকে অন্তত সহস্র মাথায় পুষে যেতে হয়!
***

কোথাও ভোর, কোথাও সূর্যাস্ত

আজ শহরতলীর মেয়েটি 
কিছু জিগ্যেস করবার আগেই ভোর হলো

সে তার সমস্ত মান অভিমান খুলে জলে ফেলে দিল

তবু তার নামেই পৌঁছেছে এই প্রসিদ্ধ সাম্পান
তাকে আটকে দিচ্ছে সোনাদানা, হিরে-জহরত, ক্ষমতার দৌর্দণ্ড আভা

শহরতলীর মেয়েটির আমাকে কিছু জিগ্যেস করবার প্রয়োজন ছিল

তবু তাকে একা একা বন্দিত হতে হলো অচেনা বন্দরে

তার সারা দেহে লাফিয়ে উঠছে বন্দরের রোদ
নিশ্বাসের আসা যাওয়ায় বিপুল জলোচ্ছ্বাস আর
সমুদ্রচিলের ক্রন্দনের মতো তার সমস্ত আর্তনাদ উড়ে যাচ্ছে ঝড়ে

আমি মেয়েটিকে টেনেহিঁচড়ে পুনর্বার মধ্যরাতে ফিরিয়ে নিয়ে যাই
হাতে হাতে পৌঁছে দেই নক্ষত্রের চিঠি, দিগ্বিজয়ের ভাষা

আর এই অস্তাচল ঘিরে হামলে পড়া অন্ধকার তখন প্রতিভা পোহায়

পৃথিবীর কোথাও না কোথাও ভোর হয় তখন
কোথাও না কোথাও সূর্য ডুবে যায়

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর