কবিতা || অদিতি ফাল্গুনী  

ঢাকা, বুধবার   ২৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

কবিতা || অদিতি ফাল্গুনী  

সাহিত্য ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২৩ ২২ মে ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শুভরাত্রি

শোন এই ২০১৯-এর ওথেলো...
বরং তুমি মধ্যযুগের ওথেলোর মতো আমাকে একটি দীর্ঘ ছুরিতে হত্যা করলেও পারতে।
তিলে তিলে সন্দেহ করে এমন হত্যা করার চেয়ে সে-ও ছিল ভালো।
বরং একবারে ছুরি বসিয়ে তার আগে করতে পারতে চুম্বন?
দীর্ঘ ও গাঢ়- প্রলবিম্বত আষাঢ়ের মতো?
তোমার মতোই শ্যামল ও ক্রুদ্ধ, তোমার মতোই কোমল, সজল...
একবার চুম্বনের পর হত্যা করে যেও...
আর তখনি দেখে নিও নাহয়
ক’জনের কাছে বাস্তবিক অবিশ্বাসীনী হয়েছি আমি...
অথবা আদৌ হয়েছি কিনা কোনোদিন...
তারপর নাহয় রক্তে ভরে ফেলো ছুরিকা তোমার...
আপাতত: শুভরাত্রি জানাতেই পারি। 

***

অন্তহীণ চিত্রাঙ্গদা

সখী, উত্তর গোলার্দ্ধে এই 
বসন্ত আসে না শুধু
এসে সে ক্যালেন্ডার থেকে চলেও ত’ যায়
সময় হলেই তার থাকে না আর একটি ক্ষণও...
সরোবর ঘেঁষে ওই কোকিলেরা যত
শুনে দ্যাখো ‘কুহু’ ডাক থামিয়ে দিয়েছে...
তবু থাকবে কি আর রোদনভরা বসন্তের সেই রেশ?
শোন...শোন...চিত্রাঙ্গদা...
যে তুমি বালিকা ছিলে যুবতী দেহেও 
(আর যুবতী মনকে খুঁজে পাও প্রায় মধ্যবয়সে)...
তোমার গল্প ছিল নাকি নিতান্ত অন্যরকম?
বড় হয়েছিলে বাঙালি ঘরের যথারীতি মাতৃশাসনে,
মণিপুর নৃপ দুহিতার মত তরবারি শিক্ষা আর অশ্ব চালনা হয়নি তোমার,
শরীরে নারীর পোশাকই ছিল, দীর্ঘকেশী তরুণী তুমি...
তবু অপরিণত মনে কত না বালকের সাথে হাসি-গল্পে বেলা কাটিয়েছো,
অর্জুন বা অর্জুনেরা নারী ভেবে যদিওবা এসেছে কাছে,
দেখেছে তোমার ভেতর বালক দলের সাথে মিশে বরাহ শিকারের নেশা,,
তারপর ঘৃণা ভরে চলে গেছে তারা...
যদিবা বুঝেছে তোমার আত্মায় নারীর অনুপস্থিতি
কর্ণ অশ্বত্থামা জয়দ্রথসহ আরো যত বীর...
একা অর্জুন ক্ষিপ্ত আজো ...
এখন তার সামনে আছে স্বর্গের যত অপ্সরা...
তোমাকে ঘৃণা করে নিদারুণ সে চিত্রাঙ্গদা...
ভাবে তুমি ছলনাময়ী...
তোমার তীরন্দাজির প্রশংসা করেছে যে অন্য যুবক...
তুমি বুঝি গোপণে হয়েছিলে তার নর্ম সহচরী...
এই কল্পিত ঘৃণায় আজো ক্ষিপ্ত অর্জুন!
সুতরাং চিত্রাঙ্গদা...আজ এই মধ্যবয়সে 
যত গাও হারানো বসন্তের গান
সেসবই পরিহাস যেন,
ক্ষিপ্ত, আরক্ত অর্জুন তোমাকে জানাতে ঘৃণা
নিয়েছে, নেবেই ডেকে আজ তার কাছে 
কোন নতুন অপ্সরা!

***

নীল নদে বন্যা এলে পুনরায়

এই যে ভুল বোঝাবুঝি থেকে পারষ্পরিক মৃত্যু আমাদের,
তবু মৃত দুই মানব-মানবীর গত তিন বছরের গুঞ্জন...
এতটাই মিথ্যে ছিল বুঝি?
তোমার প্রাণপণ অস্বীকৃতির যত স্বীকৃতি...
এক কণা ধূলো দিতে অস্বীকার করেও
সাত পৃথিবী প্রতারণার অভিযোগ আর 
সেই কল্পিত প্রতারণার শোধ নিতে 
তোমার হাস্যকর যত খেলা ও ছেলেমানুষী...
আমাকে দেখিয়ে অন্য নারীদের সাথে যত প্রেম,
তবু সত্য এটাই পরষ্পর মৃত আমরা আজ
মৃত একে অপরের কাছে...
এতটা জেনেও তবে বিগত তিনটি বছর কেন খেলেছো
পুনরুজ্জীবনের খেলা? হোক ছদ্ম-পরিচয় থেকে?
নীল নদে বন্যা এলে পুনরায় 
বিগত বসন্তের অশোক-রক্তরাগে ডানা কি করবে রঙিন
সেই সুদূর রাতের পাখি?

***

নিত্যবৃত্ত অতীত

মেয়েটি কি ছেলেটির কাছে নিত্যবৃত্ত অতীত?
আর ছেলেটি মেয়েটির কাছে পুরাবৃত্ত বর্তমান!
না জানি কতটা ভুল বোঝা থেকে আর কোনদিনই 
ওরা পরষ্পরের ঘটমান বর্তমান হতে পারবে না-
পারবে না ভবিষ্য কাল হতেও। 

অথবা হতে পারে অতীত...
আর কখনো বড়জোর ইচ্ছাপূরণের বাক্য যা পূরণ হবার নয়-
‘যদি ...!’

যেমনটা স্বপ্নে...যদি (আহা যদির কথা নদীতেই থাক)-
আই উইশ আই ক্যুড...
জেস্পেরে কো...জো সুহেইত কো...
ইচ্ছা...উইশ...সুহেইত কো...

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস