Alexa কথা না শোনায় স্ত্রীকে মাথায় তুলে আছাড়

ঢাকা, শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ৩০ ১৪২৬,   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

কথা না শোনায় স্ত্রীকে মাথায় তুলে আছাড়

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৫:২৫ ৬ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামে মাদক ব্যবসায় সহায়তা না করায় স্ত্রীকে এক আছাড়ে পঙ্গু করে দিয়েছেন পাষণ্ড এক স্বামী।

নগরীরর বাকলিয়ার দর্জি সমিতির মাঠ ক্ষেতচর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নগরীর বাকলিয়ার নোমান কলেজের পরে ক্ষেতচর এলাকায় মরিয়ম আক্তার চম্পা স্বামী নুরুল ইসলাম ওরফে বাচার সঙ্গে বসবাস করে। তাদের সংসারে ১ বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। ওই এলাকার আবুল বশরের ছেলে বাচার সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয় প্রায় ৮-১০ বছর আগে।

মরিয়মের স্বামী বাচা একজন মাদক বিক্রেতা। সে ইয়াবা, গাঁজা এবং চোলাইমদসহ নানা প্রকার মাদকদ্রব্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত। মরিয়মকে সে প্রায় সময় তার ব্যবসায় সহযোগিতা করার জন্য মারধর করতো বাচা। মরিয়ম রাজী না হলে চলত অমানবিক অত্যচার।

স্বামীর মাদক ব্যবসায় সহায়তা না করার দায়ে সম্প্রতি মরিয়মকে তার স্বামী বাচা প্রথমে মাথায় তুলে আছাড় দিয়ে পঙ্গু করে এবং পরে গরম ছ্যাঁকা দিয়ে তার শরীর ঝলসে দেয়। এতে মরিয়ম এক প্রকার পঙ্গু ও শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে যায়।

ঘটনার ১০-১৫ দিন পর তার বাপের বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরে তার অবস্থার অবনতি দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তাকে রিলিজ দিয়ে দিতে বাধ্য হয়। ফলে মরিয়ম বর্তমানে মৃত্যু শয্যায় রয়েছে।

এ ব্যাপারে মরিয়মের বাবা শামসুল আলম বলেন, আমার মেয়ে স্বামীর অবৈধ মাদক ব্যবসার সহযোগী না হওয়ায় তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এ মাদক ব্যবসায়ী বাচা ও তার সহযোগী বোন জামাই আলমগীর, বোন বুচুনির গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ব্যাপারে নুরুল ইসলাম বাচার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এদিকে নির্যাতিত ময়িরমের পরিবার দরিদ্র হওয়ায় তারা অসহায়বোধ করছেন। তারা মামলা করতে সাহস না পেলেও থানায় যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন মরিয়মের মা আয়শা খাতুন জানিয়েছেন। বাচা মামলা না করার জন্য হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

বাকলিয়া থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি শুনিনি বা কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি নির্যাতিতাকে থানায় যোগাযোগ করে বিষয়টি জানানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মুজিবুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, অভিযোগটি পেয়ে শনিবারেই তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালিয়েছিলাম। কিন্তু ধরতে পারিনি। তবে অভিযান অব্যাহত আছে। যেকোনো সময় সে ধরা পড়বে।

একমাস আগে বাচা মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়। ছাড়া পেয়ে আবার মাদক ব্যবসা শুরু করে। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদকের মামলাও রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ