Alexa ‘ও তো বাবা’ 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৩ ১৪২৬,   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০

বাবা দিবসের কবিতা

‘ও তো বাবা’ 

মো: জাহাঙ্গীর হোসেন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৩৬ ১৬ জুন ২০১৯   আপডেট: ১২:৪৭ ১৬ জুন ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ও তো বাবা 
ও বোঝে সন্তানের আবদার না পূরণের ব্যর্থতার কষ্টটা কী?
হ্যাঁ, ও তো বাবা
ও বোঝে সন্তানকে ভালো ভরণ-পোষণ না করাতে পারা কী কষ্ট?
ও তো বাবা
ও বোঝে সন্তান হোঁচট খেলে বুকের কোথায় গিয়ে লাগে
ও বোঝে লাল সাইকেলটা কিনে দিতে না পারলে 
কোথায় মনকষ্ট থাকে বলার কিছুই থাকে না
ভালো স্কুলগুলোতে মেধা থাকা স্বত্ত্বেও অর্থকষ্টে সন্তানকে যখন ভর্তি করাতে ব্যর্থ হয় 
কী যে কষ্ট, তা সে বোঝে
বৃষ্টির দিনগুলোতে একটি রেইকোট আর ছাতার জন্য যখন সন্তান কাকা ভেজা কষ্টের পাহাড়টা ভেঙে ফেরে তখন ধূলিকণাগুলোও বুকের ওপরে এসে লাগে
হ্যাঁ, বাবারা যে কী? বাবারাই তা বলতে পারে
শত কষ্ট ও ব্যর্থতার পরও পারবে
সন্তানের শফলতা যে বুকের ভেতর ঝড় তোলে
মনে হয় যদি আকঁড়ে রাখা যেত বুকের ভেতরে
শক্ত করে, স্নেহ ভরে
বড় হয় ওরা, বেড়ে ওঠে দেহে ও মন মানসিকতায়
সবাই কি বড় হয়? 
অনেকে আবার বড় হতে গিয়ে ছোট হয়
নিকৃষ্ট হয় কখনো
তবুও কখনো বাবা সন্তানের অমঙ্গল কামনা করে না
সন্তানের কষ্টে দুঃখে পাজরের এক একটা হাড় খুলতেও দ্বিধাবোধ করে না
বাবা তো বাবা-ই
যে না খেয়ে থেকেও সন্তানের জন্য হাতে নিয়ে আসে উপহার
খুশির ঝাপটার আশায় হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসে এটাই বা কম কিসের
হ্যাঁ রে বাবা, আমি হয়ত তোর মায়ের মত ভালোবাসতে পারি না
কত অদেখা ভালোবাসার হাজারো বিনিদ্র রাতের ছবি যে আমার কাছে জমা আছে
কী করে বোঝাবো তোমাদের?
জানি অনেকেই তোরা বিশ্বাস করবি না! মেনেও নিবি না!
যখন তোরা বাবা হবি, দেখিস ঠিক বুঝতে পারবি।
কেমন করে চাঁদ সন্তানের হাতে এনে দেয় বাবা
বাবা তো আমি, আমরা
ধীরে ধীরে বয়স বেড়ে যায়
প্রিয় সঙ্গীটি একদিন সবাইকে ছেড়ে চলে যায়
জানিস, ভালো লাগে না, ভীষণ কষ্ট হয়
একাকীত্ব যেন গ্রাস করে
তোরা যদি দূরে দূরে থাকিস, তবে যে বেঁচে থাকা দায়
হ্যাঁ  বাবা, বিশ্বাস কর
আমি হাসি মুখে তোদের দূর দেশে পাঠায় আরো বড় হতে
বড় হ তো আরো বড় হ
উজ্জ্বল কর সারা বিশ্ব
আলো ছড়াতে তোদের যে কিছুটা অবদান ছিলো
সে কথা যেন ভুলিসনে তোরা
যেন তোদের সন্তানদের কাছে হইসনে অতিথি
পরম্পরায় জীবন চলমান
জীবন যে তার অবসান অবধারিত
সমাজ সংসারে বাবা-মা, পরিজনের প্রতি কদর যেন সময় ফের
সৃষ্টির বৈপরিত্যে চলে কেউ সফল হয়নি জানিস তো!
হ্যাঁ, তোদের বাবাও যে সন্তানের আদর স্নেহের জন্য থাকে অধির
বড় হতে হতে এমন বড় হইসনে
যেন বাবা-মা পরিজন তোদের থেকে কষ্ট না পায়
পরম আত্মীয় কাছের আত্মীয় নিয়ে সবাই সুখে থাক
পরম্পরা যেন থাকে ভালোবাসার পূর্ণতায়

কবি: অবসরপ্রাপ্ত, সেনা কর্মকর্তা

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস