ওসি প্রদীপের ‘নিপীড়ন বাহিনী’

ঢাকা, সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৭,   ১০ সফর ১৪৪২

ওসি প্রদীপের ‘নিপীড়ন বাহিনী’

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:৪১ ১২ আগস্ট ২০২০  

প্রদীপ কুমার দাশ

প্রদীপ কুমার দাশ

থানার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এলাকাভিত্তিক কয়েকজন দালালকে সঙ্গে নিয়ে টেকনাফে ‘নিপীড়ন বাহিনী’ গড়ে তুলেছিলেন প্রদীপ কুমার দাশ। এই বাহিনীর কাজ ছিল লোকজনকে টার্গেট করা। এরপর চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে ইয়াবা বা অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে মামলায় ফাঁসানো।

মিথ্যা মামলাই শুধু নয়, মাদক নির্মূলের নামে একটি মার্কেট গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রদীপ কুমার দাশ। অথচ এর নেপথ্যে ছিল তার দাবি করা ২০ লাখ টাকার অর্ধেক না পাওয়ার ক্ষোভ।

টেকনাফের পথে পথে প্রদীপ কুমার দাশের এমন অন্ধকারের গল্প আর শত শত অভিযোগ। ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু প্রদীপই নয়, আইনের আওতায় আনতে হবে তার সহযোগীদেরও।

ঈদুল আজহার দুইদিন আগে বিদেশ থেকে বাড়ি ফেরেন টেকনাফের ছোট হাবিবের পাড়ার মহিউদ্দিন কামাল। যাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। পরিবার সাড়ে চার লাখ টাকা দেয়ার পরও তার মুক্তি মেলেনি।

মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয় ডেলপাড়ার রিকশাচালক রশিদ আহমদের ছেলেকেও। রশিদ আহমদ বলেন, আমার বাসার পাশে এক দালালের ১০ কড়া জায়গা আছে। আমার জায়গাটা নেয়ার জন্য উনি আমার ছেলেকে আটকে মামলা দিয়ে আদালতে চালান দিয়েছে।

ভুক্তভোগী রিকশাচালক রশিদ আহমদ

ওসি প্রদীপের রোষানল থেকে রেহাই পাননি জনপ্রতিনিধিরাও। ইউপি মেম্বার হামজা লালকে আটকে ১০ লাখ টাকা দাবি করলে পরিবার ছয় লাখ টাকা দিয়েও মামলা থেকে মুক্ত করতে পারেনি।

হামজা লালের বাবা বলেন, আমি মনে করেছিলাম এমপি আশেক উল্লাহ রফিকের অনুরোধে পুলিশ আমাকে ছেড়ে দেবে। কিন্তু থানা থেকে বললো ১০ লাখ টাকা দিলে আমার ছেলেকে মামলা না দিয়ে ছেড়ে দেবে।

প্রদীপের মিথ্যা মামলার ফাঁদে পড়েছেন রাজনৈতিক দলের থানা কমিটির নেতা, ক্ষুদে খেলোয়াড়ও।

ভুক্তভোগী রাজনৈতিক নেতার বড় ভাই

ভুক্তভোগী ওই নেতার বড় ভাই বলেন, ধার করে এসআই সাগর ও সঞ্জিব দত্তের হাতে চার লাখ টাকা দিয়েছি। এরপরও আমার ভাইকে দুই হাজার ইয়াবা দিয়ে চালান দিয়ে দেয় পুলিশ। থানা থেকে বলে ওসি সাহেব মানছেন না।

ভুক্তভোগীরা জানান, টাকার নেশায় থানার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নূর হোসেন, আলম, জেসন, হাফেজসহ পাড়া মহল্লার দালালদের নিয়ে ‘নিপীড়ন বাহিনী’ গড়ে তুলেছেন প্রদীপ কুমার দাশ। এরা ডেলপাড়ায় বেশি অত্যাচার চালিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, যারা এলাকায় থাকে না, তাদেরও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। প্রদীপের এই নিপীড়ন বাহিনীর সদস্যরা এলাকা ছেড়ে না গেলে টেকনাফে এমন নির্যাতন চলতেই থাকবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর