Alexa ‘ওষুধ লিখে দিছি, প্রয়োজন হইলে বরিশাল নিয়া যা’

ঢাকা, শনিবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১২ ১৪২৬,   ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

‘ওষুধ লিখে দিছি, প্রয়োজন হইলে বরিশাল নিয়া যা’

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৭ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২০:৫০ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এতে হট্টগোল বাধলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

মৃত মো. সামসুল হক তালুকদার উপজেলার চাকামইয়া ইউপির আনিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

মৃত রোগীর ছেলে মিঠু তালুকদার হাতে ছেঁড়া ফর্ম নিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাসপাতালের লেলীন স্যার আমার বাবারে মাইরা ফালাইছে। আমি স্যারের কাছে যাইয়া কয়েক বার পা ধরছি, আমার বাবারে দেখতে চলেন, গ্যাস (লেবুনাইজার) দেয়ার পর বাবায় জানি কেমন করে। কিন্তু স্যারে না গিয়া আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে বলে এখন যাইতে পারবো না। এইমাত্র ওষুধ লিখে দিছি, প্রয়োজন হইলে বরিশাল নিয়া যা। এর কিছুক্ষণ পরেই বাবায় মইরা গেছে। পরে স্যারে যখন আমার মরা বাবারে দেইখা চইলা যায়, তখন আমি দৌড়াইয়া গেলে আমার হাত থাইকা বাবার ভর্তি ফর্ম নিয়া ছিঁড়া ফালায় লেলীন ডাক্তার। আমার বাবারে মাইরা ফালাইছে, উনি ডাক্তার না, উনি কসাই, আমরা এর বিচার চাই। 

হাসপাতালে রোগী দেখতে আসা জাহানারা বেগম জানান, চিকিৎসক লেলীনের কাছে লোকটিকে কয়েকবার যেতে দেখেছেন। তিনি তার বাবাকে দেখতে চিকিৎসককে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসক আসেননি। 

মৃতের বড় ছেলে লিটন তালুকদার জানান, তার বাবা হেঁটে হাসপাতালের জরুরি ওয়ার্ডে ঢুকেছেন। গ্যাস লাগানোর আগ পর্যন্ত কথা বলছিলেন। পড়ে তার শরীরে ঘাম ঝরলে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এ সময় চিকিৎসক এসে বাবার প্রেশারটা মাপলে বুঝতে পারতেন তার আসলে কি হয়েছে। 

উপস্থিত স্বজনরা জানান, চিকিৎসক লেলীন যখন ওষুধ লিখে দিয়েছেন, তখন এক বারের জন্যও মৃতের ব্লাড প্রেশার পরীক্ষা করে দেখেননি। তাহলে কিভাবে প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়েছেন। 

মৃতের চাচা সাবেক উপাধ্যক্ষ নূরবাহাদুর তালুকদার বলেন, মৃত্যু মেনে নিতেই হয়। কিন্তু একাধিবার পায়ে ধরার পর রোগীকে কেন চিকিৎসক দেখতে গেলেন না। 

ড. জে এইচ খাঁন লেলীনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে প্রথমে ওষুধ লেখার কথা অস্বীকার করেন। পরে তিনি জানান, রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ থাকায় দ্রুত গ্যাস দিতে পাঠাই। এরপর সেবিকাদের কাছে ভর্তি ফর্ম জমা দেয়ার আগে রোগীর মৃত্যু হয়। তবে তিনি অবহেলা ও ভর্তি ফর্ম ছেঁড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিনময় হালদার জানান, ড. লেলীনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এছাড়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি।  

কলাপাড়া থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, রোগী মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রোগীর স্বজনরা ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কথা বলেছেন। কিন্তু এখনো তারা লিখিত অভিযোগ দেননি। তাই আইনি পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ