Alexa ওপারের সুন্দরবন

ঢাকা, রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

ওপারের সুন্দরবন

প্রদ্যুত চৌধুরী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪০ ২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:৪৪ ২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পিয়ালি

পিয়ালি

ভারতের সুন্দরবন অংশ কেমন? জবাবে সেখানকার মানুষরাও বললো, সুন্দরবনের বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে জল, জঙ্গল, মাছ ধরার নৌকা, পাখি আর রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। ম্যানগ্রোভ বনটির ভারতের অংশের প্রবেশদ্বারে ‘পিয়ালি’ নামক একটি গ্রাম আছে। শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ, সবুজে ঘেরা গ্রাম্য জীবনের জলছবিতে পরিপূর্ণ গ্রামটি।

কলকাতা থেকে মাত্র ৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পিয়ালি। গাড়ি বা ট্রেনেও দক্ষিণ বারাসাত নেমে, সেখান থেকে অটো করে পৌঁছাতে হবে কেল্লার বাজার। এই বাজারের উল্টো দিকেই পিয়ালি নদীর উপর তৈরি করা হয়েছে কংক্রিটের ড্যাম্প। ড্যাম্পের ব্রিজটি অতিক্রম করলেই পিয়ালি আইল্যান্ড।

চারদিক থেকে নদীতে ঘেরা এই দ্বীপ। পিয়ালির উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীটি মিলেছে সুন্দরবনের মাতলা নদীর বৃহৎ অংশে। এক বৃষ্টি ভেজা সকালে আমরা গাড়ি নিয়ে পৌঁছলাম পিয়ালি। নদীর ধারে সবুজ দৃশ্য অন্যদিকে বিস্তৃর্ণ ধানক্ষেত তার মাঝখান দিয়ে রাস্তা এসে থামল কেল্লার বাজারে। পিয়ালিতে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থাকার জন্য ট্যুরিস্ট রিসোর্ট। খাওয়ারও ব্যবস্থা আছে সেখানে। তবে তার জন্য অগ্রিম বুকিং দিতে হয়। আমরা গাড়ি নিয়ে লজের ভেতরে প্রবেশ করলাম।

আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল রিসোর্টের দোতলায়। প্রবেশ করেই মনটা ভরে গেল। বড় বড় জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে চারিদিকে শুধুই সবুজ। আমাদের মত শহরবাসীর কাছে যেন এটা অসাধারণ প্রাপ্তি। এই অপূর্ব দৃশ্য দেখতে দেখতেই সকালের নাস্তা সারলাম। দেখলাম ঘুরে বেড়াচ্ছে নানা রকমের জানা-অজানা পাখি। পিয়ালি পাখিপ্রেমিদের খুব প্রিয় জায়গা।

পিয়ালির এক জেলে

বেরিয়ে পড়লাম রিসোর্টের ভেতরে থাকা বাগান ভ্রমণে। হেঁটে এগিয়ে চললাম অনেকদূর। চারদিকে সবুজের হাতছানি, বৃষ্টিতে ভেজা গাছগুলোর সবুজ রং যেন আরো গাঢ় হয়েছে। জলাশয় ভেসে আছে শাপলা ফুল। পিয়ালিতে শীতের সময়ে আসে অসংখ্য পরিয়ায়ী পাখির দল। তখন শান্ত নদীটিতে করা যায় নৌকাভ্রমণও।

অনেকক্ষণ ঘুরে ফিরে এলাম রিসোর্টে। সেখানকার এক কর্মকর্তা খবর দিলেন, দুপুরের খাবার প্রস্তুত। খাবারে তালিকায় ছিল পছন্দের  চিংড়ি ও কাঁকড়া।

বিকেলে চললাম ব্রিজ পেরিয়ে গ্রামের বাজার দেখতে। পৌঁছালাম কেল্লা বাজারে। দেখি আম কাঁঠালের পসরা নিয়ে বসেছে চাষীরা। সদ্য পিয়ালি নদী থেকে জেলেদের ধরা চিংড়ি মাছও আছে। বৃষ্টিভেজা বিকেলে বাঁশের বেড়া ঘেরা চায়ের দোকানগুলোতে ভিড় জমিয়েছে গ্রামের মানুষ। কাপ ভর্তি খাঁটি দুধের চায়ে চুমুক দিতে দিতে চলে এল সন্ধ্যা।

ফেরার নদীর পার জুড়ে জেলেদের নৌকার প্রস্তুতি চলছিল। এরা সবাই ভোরেই পাড়ি দেবে মাছ ধরার জন্য। বর্ষায় নদী এখন জলে টইটম্বুর। পাড়ও হারিয়ে গেছে নদীর বুকে। কিন্তু বৃষ্টিতে নদীর যেন এক অন্য রূপ।

পরদিন সকালে বেরিয়ে পড়লাম গ্রাম ও নদীভ্রমণের উদ্দেশ্যে। গ্রামের লোকেদের জীবনযাত্রা থেকে কতই আছে দেখার ও শেখার। সেই বৃষ্টিতে ভিজেই চলছে মাছ ধরা। এবারে আরো জোরে বৃষ্টি পড়া শুরু হল। বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটাগুলো জলে পড়ে মিলিয়ে যাচ্ছিল। দূরে ভাসমান মাছধরার নৌকা, নদী অনেকটা অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এবার বাড়ি ফেরার পালা। সঙ্গে রইল বৃষ্টির পিয়ালি। এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে/টিএএস