Alexa ওজন না বাড়িয়ে মাংস খান

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ২ ১৪২৬,   ১৭ মুহররম ১৪৪১

Akash

ওজন না বাড়িয়ে মাংস খান

 প্রকাশিত: ১৩:০৭ ৩০ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৩:০৭ ৩০ আগস্ট ২০১৮

কোরবানি ঈদের মৌসুম। খাবারের তালিকায় অন্য কিছু থাকুক না কেন, গরুর মাংস অবশ্যই থাকবে। ওজনাধিক্য, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস, কিডনি রোগীদের গরুর ও খাসির মাংস খেতে নিষেধ করেন চিকিৎসকরা। এসব সমস্যার কারণে অনেকেই গরুর মাংস খেতে চান না। তবে কিছু নিয়ম মেনে গরুর মাংস রান্না করলে আপনি এসব সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন।  অতিরিক্ত গরুর মাংস আপনার পেটে চর্বি জমতে সাহায্য করে থাকে। ফলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। ওজন কমাতে আধপেট খেয়ে থাকেন অনেকেই। তবে পেট ভরে খেয়েও কিন্তু ওজন কমানো যায়। খাবার খেতে হবে হিসেব করে আর ক্যালরি মেপে মেপে। আর গরুর মাংস রান্নার সময় অবশ্যই কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে।-

প্রাণিজ আমিষ, আয়রন, জিংক, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন সেলেনিয়াম ও ভিটামিন– ১২ এর অন্যতম উৎস মাংস। সাধারণত একজন মানুষ দিনে ৫০-৭০ গ্রাম বা সপ্তাহে ৪০০-৫০০ গ্রাম মাংস খেতে পারবে। কিন্তু রেড মিট বা গরু ও খাসির মাংসে সম্পৃক্ত চর্বি বেশি। তাই অতি ভোজনে রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টরেলের মাত্রাও বেড়ে গিয়ে রক্তচাপ, হৃদরোগ, ট্রোক, ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই একটু সতর্কতার সঙ্গে ও মাত্রা বুঝে মাংস খাওয়া উচিত।

চর্বি: মাংস কাটার সময় দৃশ্যমান চর্বি আলাদা করে ফেলে দিতে হবে। মাংস পাতলা ও ছোট টুকরা করে কাটতে হবে। ফলে পেটে তেমন একটি চর্বি জমতে পারবে না।

অল্প তেলে রান্না: অনেকে মনে করে, অধিক তেলে রান্না সুস্বাদু হয়। এ ধরণা মোটেও ঠিক হবে না। মাংস রান্না করার সময় বেশি তেলে ভুনা না করে অল্প তেল দিয়ে পুরো রান্না করতে হবে। আরও ভালো হয় তেল ছাড়া বেক, গ্রিল, স্টোক ইত্যাদি রান্না করে খেতে পারলে।

উচ্চতাপ: উচ্চতাপে দীর্ঘ সময় ধরে মাংস রান্না করলে কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়। তাই অল্প তাপে মাংস রান্না করতে হবে।

সেদ্ধ করে পানি ফেলে দিন: মাংস রান্নার আগে সেদ্ধ করে পানি ফেলে দিতে হবে। এতে চর্বি অনেকটাই কমে আসবে। এছাড়া রান্না করা মাংস বারবার গরম করে খাওয়া যাবে না। এতে মাংসের পুষ্টিগুন নষ্ট হবে আর ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হয়।

রান্নার পূর্বে ও পরে: মাংস রান্না করার আগে অলিভ অয়েল, লেবুর রস এবং রসুন দিয়ে ম্যারিনেট করে রেখে দিতে হবে। তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমে যাবে। মাংস খাওয়ার পরিমাণ যদি বেশি হয় তবে ব্যায়াম করার মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে হবে। দেখা যায়, ঈদের ছুটি পেলেই অলসতার মাত্রাও বেড়ে যায়। তখন মাংস খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। যত বেশি প্রোটিন খাওয়া হবে অনুশীলনের মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে হবে। দীর্ঘদিন মাংস ফ্রিজে রেখে খাওয়া ঠিক না। সর্বোচ্চ দুই মাস ফ্রিজে রাখতে পারেন। এর বেশি ফ্রিজে রেখে খেলে পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি হতে পারে। রান্নার আগে পাঁচ মিনিট পানিতে ফুটিয়ে নিতে পারেন। এতে ফ্যাটি এসিডের পরিমাণও অনেক কমে যাবে। রান্নার সময় পুড়ে গেলে পোড়া অংশটুকু কেটে ফেলে দিতে হবে। কম আঁচে অনেক সময় ধরে রান্না করলে মাংসের ক্ষতিকর পদার্থ অনেক কমে যাবে। পাশাপাশি কলিজাও খেতে পারেন। সঠিক উপায়ে মাংস রান্না করলে করে খেলে অনেক রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে আর ওজন বাড়াও রোধ করা যাবে।

মাঠা, জিরা পানি বা টক দই: কোল্ড ড্রিংকস, ডেজার্টের পরিবর্তে মাঠা, জিরা পানি বা টক দই রাখতে হবে। সবশেষে উৎসব অনুষ্ঠানে ঔষুধ সেবন যেন বাদ না পড়ে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/এসজেড