Alexa ঐতিহাসিক বিতর্ক: প্রথম এভারেস্ট জয়ী কে?

ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ১ ১৪২৬,   ১৬ মুহররম ১৪৪১

Akash

ঐতিহাসিক বিতর্ক: প্রথম এভারেস্ট জয়ী কে?

ফিচার প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৯ ৩০ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৪:১৫ ৩০ আগস্ট ২০১৯

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া থেকে নেমেই সাক্ষাৎকার দিতে বসে গেলেন এডমন্ড হিলারি। ন্যাশনল জিওগ্রাফিক পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘সেদিন (১৯৫৩ সালের ২৯ মে) সকাল থেকেই, যখন তেনজিং নোরগে এবং আমি প্রথমবারের মত পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ আরোহণ করতে সক্ষম হলাম, আমাকে এক মহান অভিযাত্রী হিসেবে বর্ণনা করা হতে থাকে। কিন্তু আমি আসলে স্রেফ এক পোড় খাওয়া কিউয়ি, যে জীবনের বহু প্রতিকূলতাকে উপভোগ করেছে মনে-প্রাণে।’

এভারেস্ট শিখর থেকে নামার পথে অনেকটা সময় পরে প্রথম যে মানুষটির সঙ্গে হিলারি ও তেনজিং-এর দেখা হল, তিনি ছিলেন সেই ঐতিহাসিক অভিযানের আরেকজন কিউয়ি, এডমন্ড হিলারির ঘনিষ্ঠ বন্ধু জর্জ লোয়ে। যিনি হিলারি এবং তেনজিং-এর জন্য গরম স্যুপের পাত্র নিয়ে বেশ খানিকটা উপরের দিকে এগিয়ে আসছিলেন। বন্ধুকে দেখতে পেয়ে হিলারি বললেন তার সেই অমর বাক্য- ‘Well, George, we knocked the bastard off.’

নামার পরই এডমন্ড হিলারি এবং শেরপা তেনজিং একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন, প্রথম এভারেস্ট শিখরে কে উঠেছেন? সে থেকে শুরু এক ঐতিহাসিক বিতর্কের। এভারেস্টের নামকরণ থেকে প্রথম পরিমাপকর্তা নিয়ে যেমন বিতর্কের অবসান নেই, ঠিক তেমনই এভারেস্ট শীর্ষে প্রথম আরোহণের কৃতিত্ব কার–তা নিয়েও বিতর্ক তুঙ্গে।

নিজের অ্যাডভেঞ্চার জীবন নিয়ে হিলারি লিখেছেন দু’টি বই। একটি ‘হাই অ্যাডভেঞ্চারস’, অন্যটি ‘ভিউ ফ্রম দ্য সামিট’। দুটো গ্রন্থেই তিনি লিখেছেন, ‘আমরা একসঙ্গে শীর্ষে পৌঁছালাম।’

কিন্তু তাতেও বন্ধ হলো না বিতর্ক। আর সেটা শুধু মাত্র একটি ছবিকে কেন্দ্র করে। এভারেস্ট শীর্ষে মানুষের প্রথম আরোহণের ছবিটি আজও পৃথিবীর সেরা আলোকচিত্রগুলোর মধ্যে একটি। ছবিটি জনসমক্ষে প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে জোর শোরগোল পড়ে যায়। সেই চিত্রটিতে দেখা যায়, এভারেস্টের বরফসাদা শৃঙ্গে পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আর কেউ না, শেরপা তেনজিং। আর সেটি তুলেছেন এডমন্ড হিলারি।

বিতর্কের শেষ এখানেই নয়! এভারেস্টে হিলারির কোনো ছবি ছিল না। তবে নেই কেন? অনেক প্রশ্নের পর হিলারি স্বয়ং এর কারণ জানান। এভারেস্টে আরোহণের পর হিলারি জানতে পারেন, তেনজিং ক্যামেরা ব্যবহার করতে জানেন না। অতএব তাকে দিয়ে ছবি তোলানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এভারেস্টের স্মৃতি হিসেবে তাই হিলারি তেনজিং-এর ছবি তুলে দেন, যা ইতিহাস রচনা করে। সে যুগে সেলফি থাকলে হয়ত এই বিতর্ক উঠতই না।

তেনজিংয়ের এমন স্বীকারোক্তির পর বিতর্ক থেমে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার উল্টোটা হলো। প্রশ্ন কার শুরু করলো, তেনজিং ভারতের, না নেপালের? তবে তেনজিংকে নেপালি নাগরিকের চেয়ে ভারতীয় প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লাগলো একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহল। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তেনজিংকে ভারতে রাখার ব্যবস্থা করলেন দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। দার্জিলিং-এ হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট স্থাপন করে তেনজিংকে সেখানকার প্রথম ডিরেক্টর করে দিলেন তিনি।

তবে তেনজিং তার আত্মজীবনী ‘ম্যান অব এভারেস্ট’-এ স্পষ্টভাবে জানালেন, হিলারিই প্রথম শিখর জয় করেছিলেন এবং সেই চল্লিশ ফুট উঁচু আপাত-অসম্ভব পাথুরে দেয়ালটি। যার নামকরণ পরবর্তীতে করা হয় ‘হিলারি স্টেপ’। অতিক্রমের উপায় হিলারিই খুঁজে বের করেন। তেনজিং কেবল তাকে অনুসরণ করে শিখরে পৌঁছেছিলেন।

কিন্তু তাতেও যখন মানুষের জল্পনা থামল না তখন তেনজিং মানুষের কৌতূহলে বিরক্ত হয়ে বলতে বাধ্য হলেন- যদি এভারেস্টে হিলারির এক কদম পিছনে থেকে দ্বিতীয় মানুষ হিসেবে আরোহণ কোনো লজ্জাজনক বিষয় হয়ে থাকে, তাহলে এই লজ্জা নিয়েই আমাকে বাকি জীবন অতিবাহিত করতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে