Alexa এ যেন নৈসর্গিক রূপকথার লেক!

ঢাকা, সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৯ ১৪২৬,   ২৪ মুহররম ১৪৪১

Akash

এ যেন নৈসর্গিক রূপকথার লেক!

সজল জাহিদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১১ ৩১ মে ২০১৯   আপডেট: ১৩:২২ ৩১ মে ২০১৯

পেরিয়ার ফরেস্ট লেক

পেরিয়ার ফরেস্ট লেক

বেরিয়ে পড়লাম কেরালার উদ্দেশ্যে। কেরালার ‘পেরিয়ার ফরেস্ট’ সম্পর্কে অনেকের মতো আমিও এতদিনে অনেক কথা শুনেছি। এবার খুব ইচ্ছে হলো এক ঝলক দেখে নেওয়ার। ভেম্বানাদ লেকের দুই পাড়ে কোচি ও এর্নাকুলাম দুটি যমজ শহর। কলকাতা থেকে এর্নাকুলাম পর্যন্ত ট্রেন লাইনও আছে। কিন্তু এক্সপ্রেস ট্রেনেও তিনদিন লেগে যায়, তাই ফ্লাইট ধরেছি।

কুমালির হোটেলে রাত কাটিয়ে আমাদের গন্তব্য পেরিয়ার লেক। রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবছিলাম আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা, সকাল হলেই পেরিয়ার নিয়ে আমার এতদিনের কল্পনা রঙ পাবে। গাড়ি নিয়ে যেতে হবে পাহাড় ও জঙ্গলের মধ্য দিয়ে। ভারতের কেরালা রাজ্যের ইদুক্কি জেলার মধ্যে পড়ে থেক্কাডি। সেখানেই আছে পেরিয়ার ন্যাশনাল পার্ক নামে একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। পেরিয়ার নদীতে বাঁধ দেওয়ার ফলে বিশাল জায়গা জুড়ে জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে, এর পুরোটাই সংরক্ষিত অরণ্যের মধ্যে পড়ে। পেরিয়ার লেকের জলে লঞ্চে এক পাক দেয়াটাই এখানে বেশ মজাদার। যেহেতু চারপাশে ঘন বন, তাই ভাগ্য ভালো থাকলে বোর্টে বসে বুনো হাতির পালের সঙ্গে মোলাকাত হতে পারে।

যেখান থেকে বাস ছাড়ে, সেটি আমাদের হোটেলের একদম সামনেই হওয়ায় হেঁটেই পৌঁছে গেলাম। পেরিয়ারের মূল প্রবেশ পথ থেক্কাডি কুমিলি থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে। বাসে করে পৌঁছে গেলাম একদম লেকের পাড়ে। পেরিয়ার নদীকে বাঁধ দিয়ে এই বিশাল লেকটি তৈরি হয়েছে। লেককে ঘিরে রয়েছে সুবিশাল অরণ্য। যার মধ্যে ৩০৫ বর্গ কিলোমিটার অরণ্য কে ১৯৮২ সালে পেরিয়ার টাইগার রিজার্ভ এর আওতায় আনা হয়।

আমরা উঠে পড়লাম আমাদের নির্ধারিত বোটে। সেখানে অসংখ্য বানরের উৎপাত, অনেক কষ্টে তা এড়িয়ে এলাম। আমাদের জায়গা দোতলায় হওয়ায় আরো ভালো লাগছিল চারপাশের পরিবেশটা অবলোকন করতে। জলের মধ্যে একটা মরা গাছের শুকনো ডালে প্রথমেই কতগুলো শকুন তাদের অস্তিত্ব জানান দিল। জলযান তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলেছে, আমাদের সদা সতর্ক চোখ দুপাশের জঙ্গলে আতিপাতি করে খুঁজতে ব্যস্ত তাদেরকে, যাদের দেখতে আসা। কিন্তু সে আশায় জল ঢেলে শুধু দূরে পাহাড় চূড়ায় ৪ টা হাতি ছাড়া আর কিছুই দেখা দিলেন না। অথচ পেরিয়ার ফরেস্টে ৪৭টি বাঘ আছে শুনলাম। তাও একটি বাঘেরও দেখা মিললো না। তাই একটু হতাশ হয়ে বোর্টে করে ফিরে আসছিলাম। ঠিক তখনি আমার অপরপাশে বসা যাত্রীদের মধ্যে দেখলাম বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। ভালো ভাবে লক্ষ্য করতে চোখে পড়ল দুটি হরিণ। সম্ভবত বোর্টের আওয়াজে তারা একটু ভয় পেয়ে ছুটে পালিয়ে গেল বনের আরো গভীরে। অপলক দৃষ্টিতে দেখলাম ঘন সবুজের আড়ালে তাদের হারিয়ে যেতে। তবে দেড় ঘণ্টার এই সফর অতি মনোরম লাগলো এটা বলতে কোনো বাধা নেই।

প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক ঘুরতে আসেন এখানে

ভারতের নানা জায়গার লোক আছে বোর্টে, কয়েকজন বিদেশী-বিদেশিনীকেও পেলাম। খুব ধীর গতিতে বোর্ট চলতে শুরু করলো নিস্তব্ধ জলের উপর দিয়ে। জলের মধ্যে অনেক গাছের শুষ্ক কাণ্ড উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রশান্ত সুনীল জলতল। কাকচক্ষু জল একেই বলে বোধ হয়। পানকৌড়ি ও ধনেশপাখিরা ওড়াউড়ি করছে জলের উপরে। ওরা বাসা বানিয়েছে ওই মরা গাছের মাথায়। ধনেশ পাখির বিশাল মোটা ও লম্বা ঠোঁট, আর রঙচঙে ডানা। ক্যামেরা তাক করতে না করতেই উড়ে উড়ে সরে যাচ্ছে দূরে। তাই চলন্ত লঞ্চ থেকে কোনো ভালো ছবি পেলাম না। তবুও আমি খুশি। এমন অসাধারণ জায়গায় ঘোরাটাও ভাগ্যের ব্যপার!

সফর শেষে ফিরে এলাম হোটেলে। একটু বিশ্রাম ও খাবার খেয়ে ফের চললাম মশলা বাগানের উদ্দেশ্যে। কুমিলির ইডেন স্পাইস গার্ডেনের প্রচুর মশলার আর হরেক রকম ঔষধি গাছ দেখলাম। দেখলাম বিভিন্ন এসেনশিয়াল অয়েল। কিন্ত তাদের দাম আমার নাগালের বাইরে মনে হওয়ায় আর কিনলাম না। ওখান থেকে এলাম হাতি সাফারির জন্য আমাদের হোটেলেই কাছেই আর একটি স্পাইস গার্ডেনে।

জীবনে প্রথম হাতির পিঠে উঠে সেই পড়ি কি মরি অবস্থা! পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আট বছরের ছেলেটাও আমাকে দেখে তখন হাসছে। যাই হোক এক প্রস্থ কোমরের ব্যায়াম সেরে হাতির পিঠ থেকে নেমে সোজা হোটেলে। সেখানে ঢুকতে গিয়ে দেখি আরেক কাণ্ড! অসংখ্য বানর আমাদের রুমের সামনে সেই দোলনায় বসে আরামে দোল খাচ্ছে, আর রেলিংয়ে মেলে দেওয়া আমাদের জামা কাপড় গুলোকে নিজেদের মনে করে তার ওপরেই বসে আছে। দেখে তো মাথায় হাত।শেষে হোটেলের লোকজন ককটেল ফাটিয়ে ওদের তাড়ালো। মনে হচ্ছে ওরা আমাদের পিছু ছাড়বে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে