এ ঘড়িগুলোর দাম শুনলে চমকে যাবেন!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১৪ ১৪২৬,   ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

এ ঘড়িগুলোর দাম শুনলে চমকে যাবেন!

মেহেদী হাসান শান্ত

 প্রকাশিত: ১১:৪৪ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১১:৪৪ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

চপার্ড ২০১ ক্যারেট ওয়াচ। ছবি: সংগৃহীত

চপার্ড ২০১ ক্যারেট ওয়াচ। ছবি: সংগৃহীত

কর্মজীবী পুরুষ ও মহিলাদের জন্য মানানসই জুতা কিংবা হ্যান্ডব্যাগের পাশাপাশি ভালো কোনো ঘড়ি থাকে পছন্দের ঠিক শুরুর দিকে। স্মার্টফোনের এই যুগেও পেশাদার ‌'অ্যাপিয়ারেন্স' আনতে ঘড়ির যেন কোনো বিকল্প নেই! আয়ের উপর নির্ভর করে অনেকেই অনেক দামি ঘড়ি হয়তো পছন্দ করতে পারেন, কিন্তু আজ জানাবো এমন পাঁচটি ঘড়ির কথা যেগুলোর দাম সত্যিকার অর্থেই আঁতকে ওঠার মতো-

প্যাটেক ফিলিপ 5004T

প্যাটেক ফিলিপ 5004T: ৩৭,৯৪,৭৩২ মার্কিন ডলার মূল্যের এই ঘড়িটি তালিকার পাঁচ নম্বরে। কিন্তু তবুও দাম শুনে হয়তো বুঝতে পারছেন এই ঘড়িটি আমাদের সাধারণ মানুষের ক্রয়সাধ্যের কতটা বাইরে। এর নামের শেষে ইংরেজি 'T' অক্ষরটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে টাইটেনিয়াম। ঘড়িটিতে রয়েছে ১২ ঘন্টার স্প্লিট সেকেন্ড ক্রোনোগ্রাফ, রয়েছে চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার, আরো দেয়া হয়েছে একটি মুন ফেজ ইন্ডিকেটর, যা দিয়ে চাঁদের আবর্তন ও অবস্থান সম্পর্কে নিখুঁত ধারণা পাওয়া সম্ভব । 'অনলি ওয়াচ ২০১৩' নামের নিলাম অনুষ্ঠানের জন্য ঘড়িটিকে ডিজাইন করা হয় এবং নিলামে কাঙ্ক্ষিত মূল্যে বিক্রিও হয়ে যায়।

প্যাটেক ফিলিপ প্লাটিনাম ওয়ার্ল্ড টাইমপ্যাটেক ফিলিপ প্লাটিনাম ওয়ার্ল্ড টাইম: তালিকার চার নম্বরে বাজিমাত করেছে প্যাটেক ফিলিপ, এটার দাম ৪ লাখ মার্কিন ডলার। তাদের অনিন্দ্য সুন্দর প্যাটেক ফিলিপ প্লাটিনাম ওয়ার্ল্ড টাইম ঘড়িটি তৈরি করে ১৯৩৯ সালে। প্যাটেক ফিলিপ টাইম কালেকশনের জন্য। ২০০২ সালে ঘড়িটিকে নিলামে তোলা হয় এবং সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে সেটি চার লক্ষ ডলারে বিক্রি হয়, তখন যা ছিলো সবচেয়ে দামি ঘড়ির রেকর্ড। এতো আগের ঘড়ি হওয়া সত্ত্বেও সেটি পৃথিবীর বিভিন্ন টাইম জোনের সাথে স্বয়ংক্রিয় ভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে সময় প্রদর্শন করতে পারে। ঘড়িটির ডায়ালে নীল, সবুজ ও ধূসর রঙে আঁকা পৃথিবীর একটি সুদৃশ্য মানচিত্র রয়েছে।

হাবলট বিগ ব্যাং

হাবলট বিগ ব্যাং: সবচেয়ে দামি ঘড়ির তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বিশ্বখ্যাত হাবলট ব্র্যান্ডের এই ঘড়িটি। এর দাম ৫ লাখ মার্কিন ডলার হবার নেপথ্যে যথেষ্ট কারণও রয়েছে। ঘড়িটিতে খোদাই করা আছে ১২৮০ টি ৩ ক্যারেটের হীরার টুকরা। হীরাগুলোর প্রতিটির সাইজ যাতে সমান হয় সেজন্য সেগুলোকে নিউ ইয়র্কের বিশেষজ্ঞ অলংকার প্রস্তুতকারকদের দ্বারা সতর্কতার সাথে কাটানো হয়। পৃথিবীর বহু জায়গায় সন্ধান করে দীর্ঘ এক বছর সময় নিয়ে হীরাগুলোকে সংগ্রহ করা হয়। এটি দেখতে যেমন জাঁকজমকপূর্ণ, ফিনিশিংও তেমন নিখুঁত। আমেরিকান র্যাপার জে-জেড এর ৪৩ তম জন্মদিনে তাকে এই ঘড়িটি উপহার দেন পপ তারকা বিয়ন্সে।

প্যাটেক ফিলিপ রেফ. ১৫১৮

প্যাটেক ফিলিপ রেফ ১৫১৮: ১ কোটি ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪২ মার্কিন ডলার দামের এই ঘড়িটি তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানটি রয়েছে। মানতেই হবে দামী সব ঘড়ি তৈরিতে ‌প্যাটেক ফিলিপ' অপ্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি! তালিকার ৫টি ঘড়ির ৩টিই তাদের দখলে। অন্যন্য দামী ঘড়ির সাথে এর পার্থক্য হলো ঘড়িটির কেসিং এ সোনার পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে স্টেইনলেস স্টীল।

চপার্ড ২০১ ক্যারেট ওয়াচ
চপার্ড ২০১ ক্যারেট ওয়াচ: শেষমেশ আমরা দুনিয়ার সবথেকে ব্যয়বহুল হাতঘড়িতে এসে পৌঁছালাম। এই ঘড়ির দাম, ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। দাম দেখেই বুঝতে পারছেন এই বস্তু আপনার আমার পক্ষে কল্পনাতীত ব্যাপার! ঘড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন ধরণের বিরল ৮৭৪ টি হীরার টুকরা। বলা হয়ে থাকে ঘড়িটি দেখতে এতই চাকচিক্যময় যে এটিকে অমূল্য বলে মনে হয়! হীরাগুলোর মধ্যে তিনটি হলো হার্ট বা হৃদয় আকৃতির যেগুলো প্রতিটি ১১ থেকে ১৫ ক্যারেটের! এছাড়া রয়েছে ২৬ টি নাশপাতি আকারের হীরা, যেগুলো একত্রে মোট ১৭.০৭ ক্যারেট। 

ডেইলিবাংলাদেশ/এনকে