Alexa এসপি-ওসিসহ চারজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৭ ১৪২৬,   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

এসপি-ওসিসহ চারজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫৫ ২৪ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৩:৫৯ ২৪ অক্টোবর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যায় ১৬ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া রায়ে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত এসপি ও ওসিসহ চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।  

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার রায়ের ৮০৮ পৃষ্ঠায় ফেনীর তৎকালীন এসপি এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

মামলায় পুলিশের অবহেলার অভিযোগে ১৩ মে ফেনীর তৎকালীন এসপি এসএম জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া থানায় নুসরাতকে হেনস্তার ভিডিওটি প্রকাশের পর ৮ মে সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেমসহ পুলিশের দুই এসআইকে ৮ মে বহিষ্কার করা হয়। এরপর ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় ১৬ জুন মোয়াজ্জেমকে রাজধানীর শাহবাগ থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ আনেন। অভিযোগগুলো হলো- মামলার কালক্ষেপণ, এজহার নিয়ে কূটচাল, গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের নাম বাদ, নুসরাতকে থানায় জবানবন্দির নামে ওসির হেনস্তা, আইন বহির্ভূত জিজ্ঞাসাবাদ, প্রথমে অজ্ঞাত মামলার পরে ৮ জনের নাম উল্লেখ।

নিহত নুসরাত জাহান রাফি ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী ছিলেন। ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতকে যৌন হয়রানি করেন। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলাটি তুলে নিতে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি-ধমকি দেয় অধ্যক্ষ ও তার অনুসারীরা। কিন্তু মামলা তুলে না নেয়ায় জেল থেকে নুসরাতকে হত্যার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ।

সেই নির্দেশনা অনুযাযী ৬ এপ্রিল তার অনুসারীরা নুসরাতকে সাইক্লোন সেন্টারের ছাদে ডেকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়। তবে মামলা না তোলার কথা জানালে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া অধ্যক্ষের অনুসারীরা। পরে নুসরাতকে উদ্ধার করে ফেনী হাসপাতাল ও এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান। এর আগে ৮ এপ্রিল আগুনে পুড়ি মারার চেষ্টায় মামলা করেন নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান। পরে সেই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।

মামলাটির তদন্তে থানা পুলিশ প্রশ্নবিদ্ধ হলে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই মামলা একে একে ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম তদন্ত শেষে ২৯ মে ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় পাঁচজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অভিযোপত্রভুক্ত ১৬ আসামির মধ্যে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১২ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন।

৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত। মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর ৯২ সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জন সাক্ষ্য দেন আদালতে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/টিআরএইচ