.ঢাকা, সোমবার   ২৫ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ১১ ১৪২৫,   ১৮ রজব ১৪৪০

এশিয়ার সেরা ৭ বিশ্ববিদ্যালয়, নেই ঢাবি

এহসানুল হাবিব

 প্রকাশিত: ১৯:২১ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ২০:১৬ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সুন্দর পরিবেশ, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক, আধুনিক সিলেবাস, সমৃদ্ধ লাইব্রেরী ও গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগের কারণে ইউরোপ-আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ।

বিশ্বের নানা প্রান্তের তরুণরা উচ্চশিক্ষার্থে পাড়ি জমাচ্ছেন এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে।

তবে এশিয়ার জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড-খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) স্থান পায়নি। 

চলুন, জেনে নিই এশিয়ার সেরা ৭ টি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে :

১. সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনইউএস) অবস্থান প্রথমে। এটি একটি সায়ত্ত্বশাসিত গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীনতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এটি। ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দক্ষিণ-পশ্চিম সিঙ্গাপুরের কেন্ট-রিজ এলাকায়। ১.৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ক্যাম্পাস নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডার গ্রাজুয়েট ও পোস্ট গ্রাজুয়েট পর্যায়ে বিজ্ঞান, ওষুধ, নকশা ও পরিবেশ, আইন, শিল্প, সামাজিক বিজ্ঞান, প্রকৌশল, ব্যাবসায়, সঙ্গীত ইত্যাদি বিষয়ে পড়ানো হয়।

সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনইউএস) আ্যালমনাইয়ের চারজন পরবর্তী জীবনে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। এছাড়াও দু’জন ছিলেন মালেশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, যার একজন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

২. হংকং বিশ্ববিদ্যালয় :

১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি পুরনো ভবন এখনো বৃটিশ ঔপনিবেশের সাক্ষর বহন করে চলেছে। এটির আয়তন ৫৩.১ হেক্টর। শুরুতে শিল্পকলা, প্রকৌশল, মেডিসিন বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এখানে দন্তচিকিৎসা, বায়োমেডিসিন, ভাষাবিজ্ঞান, আইন, অর্থনীতি, ব্যাবসায় প্রশাসন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয় পড়ানো হয়ে থাকে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৯ হাজার। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের একজন ডা. সান-ইয়াৎ-সেন, যাকে আধুনিক চীনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৩. নানয়্যাং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিঙ্গাপুর

নানয়্যাং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিঙ্গাপুরের সায়ত্ত্বশাসিত গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। এটি ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ছিল “নানয়্যাং প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট”। ১৯৯১ সালে এটি “নানয়্যাং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়” নাম ধারণ করে। লণ্ডনভিত্তিক “টাইমস হায়ার এডোকেশন ” সাময়িকীর মতে, এটি বিশ্বব্যাপী দ্রুততম ক্রমবর্ধমান তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। ইকো-ফ্রেণ্ডলি এবং স্মার্ট টেকনোলজি গার্ডেন ক্যাম্পাসের জন্য বিশ্বব্যাপী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে আলাদা কদর। আটটি কলেজ ও বিদ্যালয়ের অধীনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

৪. ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়, চায়না

চারটি পৃথক ক্যাম্পাস নিয়ে গঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় “এক দেহের দুই ডানা”। যেখানে শরীর হ্যান্ডান ক্যাম্পাস এবং জিয়াংওয়ান ক্যাম্পাস, যা ডানাতুল্য ফ্ল্যানগিং ক্যাম্পাস এবং ঝিনজিয়াং ক্যাম্পাস হতে মাত্র দু’মাইল দূরে। এ চারটি ক্যাম্পাসই সাংহাই শহরে অবস্থিত এবং একই প্রশাসনের অধীনে নিয়ন্ত্রিত হয়। চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের প্রায় ১২০টি দেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য বেছে নেয় নৈসর্গিক এ ক্যাম্পাসের এ বিশ্ববিদ্যালয়কে। প্রায় ৩২ হাজার শীক্ষার্থীর এ বিশ্ববিদ্যালয় ১৭টি ফুল টাইম স্কুল, ৬৯টি বিভাগ ও ৭৩টি ব্যাচেলর ডিগ্রির প্রোগ্রাম নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

৫. পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়, চায়না :

“ইয়ানের বাগান” নামে পরিচিত পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় চীনের সমন্বিত ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়। চীনের প্রাচীন ‘গওজিজিয়ান’ বিদ্যালয়ের প্রতিস্থাপন হিসেবে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বেইজিং এর পশ্চিমে হাইদায়ান জেলায় এটির অবস্থান। এটি চীনের প্রাচীনতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটি ৩০তম এবং এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৫ম স্থানে রয়েছে। বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার জন্য পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় খ্যাতি লাভ করেছে বিশ্বব্যাপী। চায়নার নতুন সংস্কৃতি আন্দোলন ও তিয়েনানমেন স্কয়ার প্রতিবাদের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে অসামান্য অবদান।

৬. হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় :

শিক্ষা ও গবেষণার উচ্চমানে প্রতিশ্রুত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। হংকংয়ের সাই-কুং জেলার পরিষ্কার পানির বঙ্গোপসাগর উপদ্বীপের উত্তরাংশে এ বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ৬০ হেক্টর (০.৬০ বর্গকিলোমিটার)। কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংয়ে এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটির অবস্থান ৭ম। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান চারটি একাডেমিক স্কুল হলো- বিজ্ঞান, প্রকৌশল, ব্যবসা ও ব্যাবস্থাপনা। অধ্যয়নরত ১৬ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। প্রায় ৭২০,০০০ প্রিন্ট ও ই-বুক নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে সমৃদ্ধ পাঠাগার, যা দিন-রাত ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে।

৭. কোরিয়া এডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এণ্ড টেকনোলজী, দক্ষিণ কোরিয়া :

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিওল থেকে ৮৫ মাইল দক্ষিণে দায়িজিওন শহরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি এ বিশ্ববিদ্যালয়টি সংক্ষেপে ‘কেএআইএসটি’ নামে সমধিক পরিচিত। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার মাধ্যম ইংরেজী ভাষা তবে

কয়েকটি কোর্স কোরিয়ান ভাষায় পড়ানো হয়। এটির অধিভূক্ত কলেজগুলোতে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, জীবন বিজ্ঞান, বায়োইঞ্জিনিয়ারিং, লিবারেল আর্টস, অভিসৃতি বিজ্ঞান, ব্যাবসায় প্রশাসনসহ প্রভৃতি বিষয়ে পাঠদান করা হয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২০টির বেশি ছাত্রাবাস রয়েছে যার মধ্যে কয়েকটি এ্যাপার্টমেন্ট শুধুমাত্র বিবাহিত ছাত্রদের জন্য বরাদ্দ থাকে। ‘কেএআইএসটি’তে স্থানীয় এবং বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি একই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ