Alexa এলিয়েনরাই কি গড়ে তুলেছিল সুমেরীয়ান সভ্যতা?

ঢাকা, রোববার   ২৫ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১০ ১৪২৬,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

এলিয়েনরাই কি গড়ে তুলেছিল সুমেরীয়ান সভ্যতা?

 প্রকাশিত: ১০:৩৬ ৬ জুন ২০১৮  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মাসখানেক আগে ইউটিউবে ট্রেভর মুরের `My computer just became self aware` গানটি শুনছিলাম। সেখান থেকে জানতে পারি আনুনাকিদের কথা, মিউজিক ভিডিওটিতে যারা নিজেদের মহাবিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রাণী হিসেবে দাবি করে। মনের কৌতূহল মেটাতে আনুনাকিদের নিয়ে হালকা পাতলা পড়াশুনা করে যেসব তথ্য পেলাম, তা আশ্চর্য হওয়ার মতো!

পাথরে খোদাইকৃত আনুনাকিদের অবয়ব

প্রায় ৫০০০ খ্রিষ্টপূর্বে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে (বর্তমান ইরাক) সুমেরীয় সভ্যতার বিকাশ শুরু হয়েছিলো। সভ্যতায় তাদের অবদান কিন্তু একেবারেই কম নয়। সুমেরীয়রাই প্রথম খাল কেটে কৃষিভূমিতে সেচ দেয়ার পদ্ধতি চালু করে। চাঁদের উপর ভিত্তি করে পঞ্জিকা তৈরি করে, সময় গণনায় জ্যামিতির ব্যবহার শুরু করে। চাকা, লাঙল, পাল তোলা নৌকা এসবও সুমেরীয়দের আবিষ্কার। যতদূর হদিস মেলে, তারাই প্রথম ভাষার ব্যবহার শুরু করেছিলো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যাপারটি- তারাই প্রথম লেখার প্রচলন করে। সুমেরীয়দের অনেক লিখিত দলিল খুঁজে পাওয়া গেছে, তাদের আগে অন্য কোন সভ্যতা লিখনের প্রচলন করতে পারেনি।

কিন্তু এই সুপ্রাচীন বুদ্ধিমান এবং প্রভাবশালী মানবসমাজ নিয়ে খুব বেশি আলোচনা বা পড়াশুনা হয় না বললেই চলে। কারণটা অদ্ভুত। সুমেরীয়দের উদ্ভাবনকে যতটা গুরুত্ব দেয়া হয়, তাদের লিখিত ইতিহাসকে যদি ততটা গুরুত্ব দেই, তাহলে মানুষের সৃষ্টি রহস্যই যে আমূল পাল্টে যায়! ব্যাপারটা খোলাসা করা যাক।

সুমেরীয় সভ্যতা

১৮৪৯ সালে একজন ব্রিটিশ আরকিওলজিস্ট সুমেরীয় অঞ্চল থেকে ১৪টি প্রস্তরখণ্ড উদ্ধার করেন। সেগুলো `সুমেরীয়ান ট্যাবলেট` নামে পরিচিত। প্রায় আড়াই হাজার খ্রিস্টপূর্বের পুরানো। প্রতিটি ফলকের উপর সুমেরীয় ভাষায় বিভিন্ন লেখা খোদাই করা ছিল। এগুলোই হলো এযাবতকালে প্রাপ্ত সবচেয়ে পুরনো লিখিত দলিল। সেসব লেখা থেকে জানা যায়, মানুষের সৃষ্টি হয় একদল এলিয়েনের প্রচেষ্টায়, যারা আনুনাকি নামে পরিচিত! সুমেরীয়ানরা যেসকল প্রযুক্তি আমাদের উপহার দিয়েছে, তাও আনুনাকিদের দান।

সুমেরীয়ান ট্যাবলেট

সুমেরীয়ান ট্যাবলেটগুলোর মতে, আজ থেকে প্রায় চার লক্ষ পঁয়তাল্লিশ হাজার বছর আগে আনুনাকিরা; যাদের তারা `ক্রিয়েটর গডস` বলে থাকে, তারা পৃথিবীতে আসেন। তখন পৃথিবীর বাসিন্দা ছিল কিছু বন্য এবং অপোষ্য প্রাণী এবং মানুষের আদিমতম পূর্বপুরুষরা। `আনুনাকি` শব্দের অর্থ স্বর্গবাসী। আনুনাকিরা এসেছিলো নিবিরু নামের এক গ্রহ থেকে।

তাদের ভাষ্যমতে, নিবিরুর আয়তন পৃথিবী থেকে শত শত গুণ বড়। প্রচুর পরিমাণে আয়রন অক্সাইডের উপস্থিতির জন্য সেখানকার নদী এবং হ্রদে বইত লাল স্রোতধারা। কিন্তু আস্তে আস্তে নিবিরুর বায়ুমণ্ডল দূষিত হয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ল। এই দূষিত বায়ুমণ্ডল পরিশুদ্ধ করতে একটি মূল্যবান ধাতু আনুনাকিদের খুব প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ালো। সেটি হচ্ছে সবর্ণ। মজার ব্যাপার হচ্ছে আমাদের বায়ুমণ্ডলের ক্ষয়িষ্ণু ওজোন স্তরকে ঠিক করতেও সোনার ন্যানোপারটিকেল ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। মহাশূন্যের তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে স্পেস স্টেশনগুলোকে রক্ষা করতে নাসা সেগুলোর বাইরে গোল্ড ফয়েল ব্যবহার করে।

সোনার ফয়েলে মোড়ানো নাসার স্পেস স্টেশন

আনুনাকিদের আয়ু ছিল অসীম। পৃথিবীতে এসেই তারা একটি স্থায়ী স্বর্ণখনি তৈরি করে। যার নাম তারা দেয় `এরিডাগ`। এর অর্থ আর্থ স্টেশন-১। পারস্য উপসাগরের তীরে এনকি নামের এক দলনেতা তাদের এ সবর্ণ উত্তোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আনুনাকিরা সাথে করে নিয়ে এসেছিলো মহাজাগতিক এক প্রজাতি। তাদের বলা হত `ইগিগি`, যাদের আনুনাকিরা দাস হিসেবে ব্যবহার করত।

খ্রিষ্টপূর্ব আঠারো শতকের ব্যবিলনিয়ান ট্যাবলেটেও ইগিগিদের কথা রয়েছে। যাইহোক , কথিত মহাজাগতিক দেবতা আনুনাকিরা ইগিগিদের অসহনীয় পরিশ্রমের সাথে মানিয়ে নিতে বাধ্য করেছিল। যার ফলে ইগিগিদের দিয়ে তারা সহজেই সবর্ণ উত্তোলনের মত কষ্টসাধ্য কাজ করিয়ে নিতো।

বহু শতাব্দী পরে ইগিগিরা বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নিলো। কিন্তু তাদের অত্যাচারী প্রভুদের সাথে পেরে ওঠা ছিলো দুঃসাধ্য এক কাজ। আনুনাকিরা তাদের সব প্রজাদের মেরে ফেললো। ফলে আনুনাকিদের নতুন প্রজা দরকার হলো। তখন নিবিরু গ্রহের শাসক `আনু` তার ছেলে এনকিকে আদেশ দেন যাতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে নতুন প্রজা শ্রেণি তৈরি করা হয়। এমন এক প্রজা শ্রেণি; যারা বুদ্ধিমতার সাথে কাজ করবে কিন্তু অবশ্যই তাদের প্রভুদের প্রতি অনুগত থাকবে।

অনেক ইউনিক প্রজাতি তখন তৈরি করা হলো বটে, কিন্তু সবচেয়ে পারফেক্ট প্রজাতিটি পাওয়া গেলো আদিম গুহামানব হোমো এরিক্টাস এবং আনুনাকিদের নিজেদের সংকরের ফলে। এই সঙ্কর প্রজাতিই ছিলো হোমো সেপিয়েন্স; অর্থাৎ আজকের মানবজাতি। ট্যাবলেট থেকে এও জানা যায়, প্রথম মানুষটির নাম দেয়া হয়েছিলো `আদামু`। হিব্রু ভাষায় আদম শব্দের অর্থ মানুষ।

আনুনাকিরা মানুষদের দিয়ে মেসোপটেমিয়ার বিভিন্ন খনিতে কাজ করানো শুরু করল। সেমিটিক ভাষায় avod বা worship শব্দের মানে হলো `কারো জন্য কাজ করা`। সুতরাং মানুষরা আনুনাকিদের worship বা উপাসনা করতে লাগল।

বিভিন্ন শিলালিপি থেকে জানা যায়, এই আনুনাকিরা পৃথিবীতে বেশ কয়েক শতাব্দী বসবাস করেছিলো। আকৃতিতে তারা ছিলো দৈত্যের মতো। আনুনাকিদের সেবা করার পুরস্কার হিসেবে তারা মানুষদের সামাজিক ও প্রশাসনিক দক্ষতা, প্রযুক্তি সহ নানা বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছিলো। এসবই সুমেরীয়ান ট্যাবলেটগুলোতে স্পষ্ট ভাষায় লিপিবদ্ধ আছে।

আনুনাকিদের দাস হিসেবে ব্যবহৃত সেইসব মানুষ ছিলো প্রজননে অক্ষম। পুনরায় জেনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের সন্তান উৎপাদনের উপযোগী করে তোলা হয়, যা পরবর্তীতে অতিরিক্ত জনসংখ্যা সমস্যা সৃষ্টি করে। ফলে কিছু মানুষকে প্রধান শহর থেকে বিতারণ করা হয়। এভাবেই সবর্গের ইডেন গার্ডেন বা গন্ধম ফলের কাহিনী গড়ে ওঠে। কিছু কিছু আনুনাকি নেতারা মানুষদের সাথে নিষিদ্ধ যৌনমিলনে লিপ্ত হন। এর ফলে যেসব দৈত্যাকার মানুষের জন্ম হয় তারাই `নেফিলিম` নামে পরিচিত।

ট্যাবলেটগুলো থেকে জানা যায়, এইসব অবৈধ কাজকর্ম এনকির ভাই এনলিলকে রাগিয়ে দেয়। এনলিল কখনোই চাইতেন না মানুষের হাতে পৃথিবীর কর্তৃত্ব চলে যাক। কিন্তু সেই সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছিলো, যতই মানুষ ও আনুনাকিদের মিলনের ঘটনা বাড়ছিলো। কিন্তু তা কোনমতেই ঠেকানো যাচ্ছিলো না। পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছিলো। তাই তা নিয়ন্ত্রণের জন্য নিবিরুর কক্ষপথ থেকে পৃথিবী ও সূর্যে ব্যপক ধ্বংসযজ্ঞ চালালো। নিবিরু গ্রহটি পৃথিবীর বেশ কাছাকাছি চলে এলে বিশাল অস্থিরটা শুরু হয়ে যায় দুনিয়া জুড়ে। প্রথমে সূর্যের গায়ে কালো কালো দাগ দেখা দিতে থাকে, পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র দুর্বল হয়ে পরে, তাপমাত্রা বেড়ে যায়, বড় বড় বরফের চাইগুলো গলতে থাকে। এই ঘটনাটিই নূহের মহাপ্লাবনে নামে পরিচিত।

দুর্যোগ অবশ্যম্ভাবী দেখে এনলিল পৃথিবী থেকে পালিয়ে চলে এলেন। এনলিল নিবিরুতে ফিরলেও অনেক আনুনাকিই পৃথিবীতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। মহাপ্লাবনে আনুনাকিদের এডেন শহর এবং তাদের স্বর্ণখনিগুলো ধ্বংস হয়ে গেলো। মানুষরা মহাপ্লাবনের ভয়ে দিশেহারা হওয়াতে প্রভু এনকি তার স্নেহভাজন কিছু প্রজাকে একটি নৌকা বানাতে বললেন। তাদের একজন ছিলেন জিউসুদ্রা (আমরা যাকে নূহ বলে জানি)। জলোচ্ছ্বাস পূর্ব দিকে এগিয়ে চললো বিরামহীনভাবে, টানা সাতদিন। সাতদিন পর জলস্রোত থামলেও ভারি বর্ষণ চলতে থাকলে ৪০ দিন ও ৪০ রাত ধরে।

আনুনাকিরা আকাশের তারার দিকে তাক করে তাদের স্থাপনাগুলো তৈরি করতো, ঠিক যেমনটা পিরামিডের ক্ষেত্রে দেখা যায়। কেবল পিরামিড নয় সমগ্র ভারত, দক্ষিণ আমেরিকা জুড়ে এ ধরণের স্থাপনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এসব স্থাপনা তৈরির প্রযুক্তি আজো বিজ্ঞানীদের কাছে দুর্বোধ্যই রয়ে গেছে।

ধারণা করা হয়, আনুনাকিরা চলে গিয়েছে কিন্তু সুমেরীয়ানদের এক বিশেষ সমাজব্যবস্থা দিয়ে গেছে। রাজতন্ত্র কায়েম করে তারা রাজাদের উত্তরাধিকারদের বিশেষ জেনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিহ্নিত করে রেখে গেছে। হয়তো তারা আবার ফিরে আসবে তাদের উত্তরাধিকারদের খোজে। অনেকের মতে, নিজেদের হাতে গড়া দাসদের ফিরে পেতে নিবিরুর আবার পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।

এই গল্পগুলো সবই সুমেরীয়ান ট্যাবলেটগুলো থেকে পাওয়া। এখন প্রশ্ন হলো সুমেরীয়দের জ্ঞান বিজ্ঞান যেভাবে আমরা গ্রহণ করেছি, তাদের ইতিহাসকেও কি সেভাবে গ্রহণ করা উচিৎ। সত্যিই কি সর্বপ্রথম উন্নত মানবসভ্যতাটি কিছু ভিনগ্রহবাসীর দান?

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics
Best Electronics