এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ মামলার চার্জশিট দাখিল আজ

ঢাকা, রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৩ ১৪২৭,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ মামলার চার্জশিট দাখিল আজ

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:০৯ ৩ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:১৯ ৫ ডিসেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে তরুণী গণধর্ষণ মামলার চার্জশিট বৃহস্পতিবার আদালতে দাখিল করা হচ্ছে। ঘটনার দুই মাসের বেশি সময় পর চার্জশীট দাখিল করা হচ্ছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার বি এম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার আদালতে মামলার চার্জশীট দেয়া হবে। এ নিয়ে বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিংয়ে আয়োজন করা হয়।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭ টার দিকে সিলেট এমসি কলেজের হোস্টেলে ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে কয়েকজন নেতাকর্মী। এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে এসএমপির শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্যাতিত ওই তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক, হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর, দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের রবিউল ইসলাম ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুমকে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো তিনজনকে আসামি করা হয়।

মামলার প্রেক্ষিতে র‍্যাব ও জেলা পুলিশের অভিযানে আটক ৮ জন কারাগারে আছে। গ্রেফতারদেরকে ৫ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে তাদেরকে আদালতে হাজির করা হলে তারা সবােই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

অপরদিকে গণধর্ষণের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে এরই মধ্যে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও মহি উদ্দিন শামিম গঠিত বেঞ্চে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের হলরুমে গত ৪ অক্টোবর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত এ ঘটনায় গণশুনানি হয়। পরে কমিটির সদস্যরা এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের গণধর্ষণের ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ সাক্ষীদের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করে গত ১৬ অক্টোবর ১৭৬ পৃষ্টার একটি তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্ট বেঞ্চে জমা দেয়া হয়েছে। যার শুনানি হয় ২০ অক্টোবর। এদিন শোনানি শেষে প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এদিকে গণধর্ষণের এ ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে ২৬ অক্টোবর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলেও কলেজের অধ্যক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দোহাই দিয়ে কলেজ কমিটির এ প্রতিবেদনটি সিলগালা করে রাখেন।

তাছাড়া গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত চার আসামির ছাত্রত্ব এবং সার্টিফিকেট বাতিল করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি তাদের স্থায়ীভাবে এমসি কলেজ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাসুম ও রবিউল হাসান।

এদিকে গত ১ অক্টোবর ও ৩ অক্টোবর ২ দিনে এ মামলায় গ্রেফতার ৮ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের পর পাঠানো হয় ঢাকার ল্যাবে। এরপর ২৯ নভেম্বর ডিএনএ রিপোর্ট হাতে আসে। ডিএনএ রিপোর্টে কয়েকজন আসামির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পাওয়া গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/জেডএম