এমপিও কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবে না শিক্ষকরা!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

এমপিও কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবে না শিক্ষকরা!

দেলোয়ার মহিন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১৮ ১২ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৯:৩৪ ১২ জুন ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নতুন জনবল ও এমপিও কাঠমো না দেখে আগের নীতিমালা অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) বরাবর শিক্ষক নিয়োগের চাহিদাপত্র দিয়েছিল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এনটিআরসিএ ওই চাহিদার ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছে। এতে করে নতুন জনবল ও এমপিও কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবে না নিয়োগ প্রাপ্তরা। হয়রানির শিকার হচ্ছেন শত শত শিক্ষক। আর এসব শিক্ষকদের একাধিক অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়ে বেতন পাচ্ছেন না।

এদিকে চাকরি সুরাহার আশায় মাউশি কার্যালয়ে কয়েকজন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে নানাভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন শতাধিক চাকরি প্রার্থী।

নিয়োগপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক আখতারুজ্জামান রায়হান এই প্রতিবেদককে বলেন, সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ায় অন্য চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। আমি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ফকির বাজার হাইসস্কুল অ্যান্ড কলেজে গত ৭ ফেব্রুয়ারি যোগ দিয়েছি। এখন জানতে পারছি নতুন জনবল ও এমপিও কাঠামো অনুযায়ী আমার বেতন হবে না। আগের নীতিমালা অনুযায়ী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক নিয়োগের চাহিদা দিয়েছিল। এনটিআরসিএ ওই চাহিদার ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছে আমাকে। এখন আমি কী করব? কি দিয়ে সংসার চালাবো বুঝতে পারছি না। আমরা জানতে চাই আমার নিয়োগ পাওয়া পদে বেতন-ভাতা হবে কিনা?

নিয়োগপ্রাপ্ত এক জন শিক্ষকের অভিযোগপত্র

এ বিষয়ে মাউশির সহকারী পরিচালক দূর্গা রানী সিকদার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, প্রধান শিক্ষক নতুন জনবল ও এমপিও কাঠমো না দেখে আগের নিয়মে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছেন এনটিআরসিএ বরাবর। তা যথাযথ হয়নি। সে কারণে তার এমপিও দিতে পারবে না মাউশি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বেতন-ভাতা দিতে হবে। এমপিওভুক্তির বিষয়ে মাউশির কিছু করার নেই।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়া চাহিদা ঠিক না থাকায় শত শত শিক্ষক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টির একটা সুরাহা হওয়া দরকার বলে মনে করেন মাউশির এই কর্মকর্তা। নিয়োগ পেয়েও বেতন না পাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে থাকা শতাধিক শিক্ষকদের তালিকায় রয়েছে। তার মধ্যে  মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলিদিয়া বহুজাতিক হাইস্কুলে নিয়োগ পাওয়া ইংরেজি শিক্ষক মেহেদী হাসান, গোলাপগঞ্জ উপজেলার রানাপিং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আলমগীর হোসেন ও ঠাকুরগাঁও পুলিশ লাইন স্কুলে গণিত বিষয়ের শিক্ষক সেলিনা বানুসহ আরো অনেকে।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার মিঠামাইন উপজেলার হাজি তৈয়ব উদ্দিন হাইস্কুলে যোগ দিতে গেলে ইংরেজি বিষয়ে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক মোহাম্মদ মঞ্জুর রাহীকে যোগদান করতে দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

এসব ভুল ও সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান এস এম আশফাক হুসেন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়া চাহিদা আমরা শিক্ষা অফিসারদের দিয়ে যাচাই করে নিয়োগ দিয়েছি। যাচাই না করে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। যদি কোনো সমস্যা থাকে তাহলে শিক্ষা অফিসাররা করেছেন। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাহিদা দিয়ে নিয়োগ দিচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছি। যদি কোনো শিক্ষক নিয়োগ না পেয়ে থাকেন তাহলে আমার কাছে আসলে যোগদান নিশ্চিত করে দেয়া হবে।

এদিকে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের যোগদানে বাধা দেয়াসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির কারণে দেশের ১৮৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি ও শিক্ষকদের এমপিও বাতিলের সুপারিশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

ডেইলি বাংলাদেশ/ডিএম/এসআই