Alexa ‘এবি কিচেন’ ছেড়ে রূপালি গিটারগুলো কোথায়?

ঢাকা, সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৪ ১৪২৬,   ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

‘এবি কিচেন’ ছেড়ে রূপালি গিটারগুলো কোথায়?

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪২ ১৮ অক্টোবর ২০১৯  

রূপালি গিটার হাতে ‘এবি কিচেন’-এ রকরাজা

রূপালি গিটার হাতে ‘এবি কিচেন’-এ রকরাজা

‘এই রুপালি গিটার ফেলে, একদিন চলে যাব দূরে- বহুদূরে..’- ঠিক তেমনটাই হলো। রূপালি গিটার ফেলে  আইয়ুব বাচ্চুর চলে যাওয়ার আজ এক বছর। তবে চলে যাওয়া মানেই প্রস্থান নয়। এখনো প্রতিরাতে কোনো না কোনো শহরে বেজে ওঠে এই রকরাজার গান, শোনা যায় রূপালি গিটারের ঝংকার। তার নিজেরও প্রিয় বাদ্য ছিল গিটার। রূপালি গিটার মানেই যেন তাই আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতি। তার প্রয়াণের এক বছরের মাঝে তাকে স্মরণ করার পাশাপাশি ভক্তদের স্মরণেও বার বার ঠাঁই পেয়েছে রুপালি গিটার।

আইয়ুব বাচ্চুর জন্মস্থান চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ে শিল্পীর রূপালি গিটারের আদলে তৈরি করা হয়েছে ভাস্কর্য। গিটারের জাদুকরের জন্য এটা অনেক বড় সম্মানের। গানে গানে মানুষ জমিয়েছিলেন এই ব্যান্ডতারকা, তার প্রমাণ পাওয়া যায় তার প্রতি মানুষের অফুরান ভালোবাসায়। মগবাজার কাজী অফিসের গলিতে অবস্থিত ‘এবি কিচেন’ এখন আর মুখরিত হয় না গানে গানে, আড্ডায়। প্রতিদিন যেখানে অনেক মুখের মিছিলে জমজমাট হয়ে থাকতো, রকরাজার গিটারে মুগ্ধ হতো সবাই... সেখানে অদ্ভুত এক নীরবতা ছেয়ে আছে।

গিটারের প্রতি এই মানুষটার ভালোবাসা এতটাই প্রখর ছিল যে তিনি পৃথিবীর যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই বাজিয়েছেন। বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে নতুন গিটার কিনতে ভুলেননি। প্রত্যেকটি গিটারের আছে আলাদা আলাদা গল্প। প্রত্যেকটি গিটারই ছিল তার কাছে সন্তানতুল্য। জানা গেছে, পৃথিবীর অনেক দেশেই কনসার্ট করতে গিয়ে তিনি কিনে নিয়ে এসেছিলেন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিখ্যাত সব গিটার। মোট ৫৮টি গিটার ছিল তার। এর মধ্যে কিছু গিটার আইয়ুব বাচ্চু বিক্রি করেছিলেন, কিছু উপহার হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছিলেন।

রূপালি গিটার ফেলে গিটার যাদুকর আইয়ুব বাচ্চু চলে গেছেন গত বছর। আইয়ুব বাচ্চু জীবনের শেষ গিটারটি কিনেছিলেন মৃত্যুর চার দিন আগে। সেটিসহ ৪০টি গিটার রয়েছে আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের সংগ্রহে। তার গিটার সুর তুলছে না। কাঁদছে গিটারগুলো। শুধু গিটার নয়, ভক্তরাও কাঁদছে। এলআরবির সাবেক গিটারিস্ট মাসুদ জানান, কিছু গিটার আইয়ুব বাচ্চু বিক্রি করেছিলেন, ৪০টির মতো গিটার এ বছরের মার্চ মাসে ছবি তুলে ও বিস্তারিত তথ্য দিয়ে গিটারগুলো আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রীর কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি সেগুলো বাসায় নিয়ে গেছেন।

প্রবর্তক মোড়ের ‘রূপালি গিটার’

সেই রূপালি গিটার, এই রূপালি গিটার

প্রিয় শিল্পীর মাত্র ৫৬ বছর বয়সের প্রয়াণকে খুব সহজে মেনে নিতে পারেনি ব্যান্ড প্রেমিক এবং তার ভক্তরা। কথায়, গানে, সামাজিক মাধ্যমে বারবার উঠে এসেছে  ‘সেই তুমি’ বা ‘একদিন ঘুম ভাঙা শহরে’। আর চট্টগ্রাম শহরের সড়ক দ্বীপে ঠিকই আইয়ুব বুাচ্চুর স্মরণে স্থান করে নিয়েছে রুপালি গিটার আরেকবার। রকরাজার স্মৃতি ধরে রাখতে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রবর্তক মোড়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই ‘রুপালি গিটার’। শিল্পীর শহরে তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর এক মাস আগে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এ ভাস্কর্যের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

রকরাজার রূপালি গিটার ঠাঁই পেয়েছে পূজা মণ্ডপেও। রাজশাহী নগরীর রানীবাজার এলাকার টাইগার সংঘের পূজামণ্ডপে ব্যান্ড সংগীতের লিজেন্ড প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুর গিটার ও হ্যাটের আদলে পূজামণ্ডপের প্যান্ডেল তৈরি করেছিল তারা। সেই সৃষ্টিশীলতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা কুঁড়ায়। আইয়ুব বাচ্চুর সেই গিটারের দৈর্ঘ্য ছিল ৫৪ ফিট ও প্রস্থ ১৯ ফুট। এর মাঝে হ্যাট উচ্চতায় ১০ ফিট ও চওড়ায় ২৬ ফিট। ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে এক মাস সময় ধরে এ মণ্ডপ তৈরি করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে