Alexa এবার কারাগারেও মানবতার দেয়াল

ঢাকা, শনিবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১২ ১৪২৬,   ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

এবার কারাগারেও মানবতার দেয়াল

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৯ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৭:১৭ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো তৈরি করেছে মানবতার দেয়াল। যেখান থেকে একের রেখে যাওয়া জিনিস অন্যের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে নিয়ে যেতে পারছে। কিন্তু এবার খুলনা জেলা কারাভ্যন্তরে স্থাপন করা হয়েছে ‘মানবতার দেয়াল’। 

এ দেয়ালের মাধ্যমে বন্দীদের কারো অপ্রয়োজনীয় পোশাক বা কাপড় অন্য বন্দীর প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ তৈরি করেছে। যা শুধুমাত্র খুলনা বিভাগেই নয়, সারাদেশের কারাগারের মধ্যেও প্রথম উদ্যোগ। কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে এ উদ্যোগ বিভাগের অন্য কারাগারগুলোতেও ছড়িয়ে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন।

জেলা কারাগারের সূত্রে জানা যায়, বন্দীদের সংশোধন, তাদের মধ্যে মানবিক গুণাবলী এবং সর্বোপরি সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির লক্ষ্যেই খুলনা জেলা কারাভ্যন্তরে ‘মানবতার দেয়াল’ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। নভেম্বরের শেষের দিকেই এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিসি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। এ সময় জেলা কারাগারের সুপার (তত্ত্বাবধায়ক) মো. কামরুল ইসলাম ও জেলার মো. জান্নাতুল ফরহাদ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, কারাগারে এমন অনেক বন্দী আছেন যারা খুবই দরিদ্র-অসহায়। একই পোশাক বা কাপড় পরেই তাদের দিনের পর দিন কাটাতে হয়। কিন্তু কারো কাছে হাত পেতে কিছু নিতে পারেন না। আবার অনেকেই আছেন যারা ধনী, সচ্ছল। তাদের কাছে নিত্য নতুন পোশাকের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হয় না। মূলত এ দুটি শ্রেণির মধ্যে এক ধরনের সমতা ও পরস্পরের মধ্যে সহানুভূতি তৈরি করতে ‘মানবতার দেয়াল’ স্থাপন করা হয়েছে।

সচ্ছল বন্দীরা তাদের অপ্রয়োজনীয় কাপড় কি করবেন, কাকে দিবেন- এ বিষয়ে চিন্তিত না হয়ে অনায়াসেই তারা সেগুলো ‘মানবতার দেয়াল’- এ ঝুলিয়ে রাখছেন। আবার যাদের প্রয়োজন তারা সেখান থেকে নিয়ে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে কাউকে বলা বা কারো থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেয়ারও দরকার হচ্ছে না। এতে অনেকেরই প্রয়োজন মিটছে।

খুলনা জেলা কারাগারের জেলার মো. জান্নাতুল ফরহাদ জানান, কারাগারের ভেতরে একটি টিনের শেডের নিচে কিছু জায়গায় টাইলস লাগিয়ে ‘মানবতার দেয়াল’ স্থাপন করা হয়েছে। যাতে এসএম’র রড ও স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। এ দেয়ালের এক প্রান্তে ‘আপনার অপ্রয়োজনীয় কাপড় এখানে রাখুন’ এবং অপর প্রান্তে ‘আপনার প্রয়োজনীয় কাপড় এখান থেকে নিয়ে যান’ লিখে রাখা হয়েছে। বিত্তবান কয়েদিরা তাদের পরিত্যাক্ত পোশাক-আশাক রেখে যান, অন্যদিকে কয়েদিরা প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই তা গ্রহণ করে তাদের চাহিদা মিটাচ্ছেন। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশজেলা কারাগারের সুপার (তত্ত্বাবধায়ক) মো. কামরুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই কারাভ্যন্তরে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। বিষয়টিতে বন্দীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে এবং তাদের মধ্যে এক ধরনের মানবতাবোধও পরিলক্ষিত হচ্ছে।

কারা অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় সদর দফতরের ডিআইজি প্রিজন ছগির মিয়া জানান, দুই/তিন মাস আগে তার সঙ্গে এ উদ্যোগের বিষয়ে খুলনা কারাগারের কর্মকর্তারা আলোচনা করেন। তখনই তিনি এ বিষয়ে সম্মতি দেন। সেভাবেই কাজটি করা হয়েছে। এটি দেশের মধ্যে প্রথম উদ্যোগ।

তিনি বলেন, এটি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে, একটি মহতী উদ্যোগ। কারাগারগুলোকে সংশোধনাগারে রূপান্তরে সরকারের সিদ্ধান্তেরই একটি অংশ এটি। এ উদ্যোগের কারণে খুলনা কারাগারকে মডেল হিসেবে নিয়ে পর্যায়ক্রমে খুলনা বিভাগের অন্যান্য কারাগারেও ছড়িয়ে দিতে চান বলেও উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম