Alexa এবার ইরানি ড্রোন ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ঢাকা, রোববার   ১৮ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৩ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

এবার ইরানি ড্রোন ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১১ ১৯ জুলাই ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী উপকূলে ইরানের একটি ড্রোন ধ্বংসের দাবী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ড্রোনটি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ ইউএসএস বক্সারের খুব কাছে চল আসায় সেটিকে ধ্বংস করা হয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সদর দফতর পেন্টাগনও এ খবর নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। 

তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, তাদের কোনো ড্রোন ধ্বংস হওয়ার খবর তারা এখনও পাননি। 

এর আগে এ অঞ্চলেই সীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছিলো ইরান।

হরমুজকে প্রণালীকে ঘিরে ওয়াশিংটন-তেহরান ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই সেখানে ফের ড্রোন ভূপাতিতের দাবি উঠল।

হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “ড্রোনটি ইউএসএস বক্সারের ১ হাজার গজের মধ্যে উড়ে এসেছিল, সরে যাওয়ার জন্য সেটিকে কয়েকবার বলা হলেও ড্রোনটি তা অবজ্ঞা করে।”

যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে ইরানের ধারাবাহিক উসকানির অংশ হিসেবেই দেখছে।

“নিজেদের লোকজন, স্থাপনা ও স্বার্থ রক্ষার অধিকার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তাৎক্ষণিকভাবে ওই ড্রোনটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়,” বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

পেন্টাগন জানিয়েছে, হরমুজ উপকূলে চলাচলের সময় উড়ে আসা একটি ড্রোনের বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ নিয়েছে ইউএসএস বক্সার।

পেন্টাগনের মুখপাত্র কমান্ডার রেবেকা রেবারিচ বলেন, “আমাদের মূল্যায়ন বলছে, ড্রোনটি ইরানি ছিল।”

এদিকে ওয়াশিংটন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করলেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জাভেদ জারিফ তাদের কাছে এখন পর্যন্ত ড্রোন হারানোর কোনো খবর নেই বলে জানিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরান ও এর মিত্রদের ওড়ানো ড্রোনগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত ড্রোন দিয়ে ইরাকের ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়ারা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও সেনাবাহিনীর ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে বলে অনুমান পেন্টাগনেরও।

বৃহস্পতিবার ইউএসএস বক্সারের কাছে উড়ে আসা ড্রোনটিকে ‘ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের’ মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন।

এর আগে গেল মাসে ইরান তাদের আকাশসীমায় ‘অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করা’ একটি মার্কিন ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র সেসময় বলেছিল, তাদের ড্রোনটি ইরানি নয়, আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে জিব্রাল্টারে ইরানি একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটকের ঘটনায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও তেহরানের সম্পর্কে অবনতি দৃশ্যমান হচ্ছে।

সুপার ট্যাংকার গ্রেস ১ সিরিয়ার বানিয়াস তেল শোধনাগারের জন্য জ্বালানি নিয়ে যাচ্ছে এমন সন্দেহে ব্রিটিশ মেরিনের সহায়তায় ও নৌযান এবং এর কার্গোগুলো জব্দ করা হয়।

বানিয়াস শোধনাগারের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা আছে।

‘সন্দেহের বশবর্তী’ হয়ে তেলবাহী ট্যাংকার আটকের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে ইরান গ্রেস ১-কে শিগগিরই ছেড়ে না দিলে পাল্টা ব্যবস্থারও হুমকি দিয়ে রেখেছে।

জ্বালানি চোরাচালানের অভিযোগে তেহরান বৃহস্পতিবার ‘বিদেশি একটি ট্যাংকার’ ও এর ক্রুদের আটক করার কথাও জানিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী
 

Best Electronics
Best Electronics