এফ আর টাওয়ারের ৭ ফ্লোরই অবৈধ

ঢাকা, বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৫ ১৪২৬,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

এফ আর টাওয়ারের ৭ ফ্লোরই অবৈধ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৯ ২২ মে ২০১৯   আপডেট: ১৬:০১ ২২ মে ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সম্প্রতি আগুনে পুড়ে ক্ষতি হওয়া বনানীর এফ আর টাওয়ারের ১৬ তলা থেকে ২২ তলা পর্যন্ত পুরো অংশ অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম।

বুধবার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুটি তদন্ত কমিটির দেয়া প্রতিবেদন উল্লেখ করে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ১৬ তলা থেকে ১৮ তলা পর্যন্ত নির্মাণে তৎকালীন ইমারত নির্মাণ নীতিমালা মানা হয়নি। সেখানে বিদ্যমান আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে। ১৮ তলা থেকে ২২ তলা পর্যন্ত সবগুলো ফ্লোর সম্পূর্ণরুপে অবৈধ। এখানে আইনগত কোনো ভিত্তি নেই।  

তিনি বলেন, আমরা তদন্ত কমিটিকে বলেছিলাম তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে একটি সুপারিশমালা দিতে। তারা একটি সুপারিশমালা দিয়েছে। তাদের উল্লেখযোগ্য পর্যালোচনা ছিল ভবনটির শুরুর ১৫ তলার অনুমোদন ছিল সঙ্গত। এরপর ১৮ তলা পর্যন্ত একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়। সেটা সঙ্গত ছিল না। তৎকালীন সময়ে ভবন নির্মাণে যে বিধি ছিল তার আওতায় তা দেয়া হয়নি। 

এফ আর টাওয়ারের ডেভেলপার কোম্পানি (রুপায়ন) বর্ধিত অংশের যে অনুমোদন কপি দেখিয়েছিল সে বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে, রাজউকের কোনো অস্তিত্ব নেই। ওই বর্ধিত অংশ নির্মাণের জন্য ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার নিয়ম আছে। কিন্তু তা না করে ভুয়া একটি রিসিটের নম্বর রাজউকের রেজিস্টারে সংযুক্ত করা হয়।
 
রাজউকের কাছে যে নথি রয়েছে, সেখানেও কোনো অনুমোদনের কপি নেই বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ফলে তৎকালীন সময়ে রাজউকের কোনো অসাধু কর্মচারী কর্মকর্তার সঙ্গে অবৈধ যোগাযোগের মধ্য দিয়ে বিল্ডিংয়ের মালিক ও ডেভেলপারেরা একটি প্ল্যান তৈরি করতে পারে। কিন্ত আইনগতভাবে এ প্ল্যানের কোনো বৈধতা নেই। 

এ কাজে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সে সময়ে যারা রাজউকে কর্মরত থেকে এ অপরাধ করেছে, তারা হয়তো এখন অন্য মন্ত্রণালয়ে যুক্ত আছেন। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করবো। 

এছাড়া যারা অবসরে গেছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সে সময় রাজউকের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে রিপুটেশন ও লোন পাশসহ রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগ এসেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএইচআর/আরএইচ