Alexa এপস্টেইন যেভাবে আমাকে ধর্ষণ করে; জানালেন আনুশকা

ঢাকা, শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪২৬,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

এপস্টেইন যেভাবে আমাকে ধর্ষণ করে; জানালেন আনুশকা

বিনোদন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১৩ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৮:১৮ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জেফ্রে এপস্টেইন ও আনুশকা ডি জর্জিউ

জেফ্রে এপস্টেইন ও আনুশকা ডি জর্জিউ

সমালোচিত বৃটিশ অভিনেত্রী ও প্লেবয় ম্যাগাজিনের সাবেক মডেল আনুশকা ডি জর্জিউ এবার তার যৌন নিপীড়ন প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তার নিজ মুখের বর্ণনায় নিপীড়ক জেফ্রে এপস্টেইনের হাতে কিভাবে টিনেজ বয়সে ধর্ষিত হয়েছিলেন, এবার সে ঘটনা উঠে এসেছে। 

সম্প্রতি যৌন নিপীড়নের দায়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছেন এপস্টেইন। একটি জেলে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিপুল অর্থের মালিক এই ব্যক্তি কিশোরীদের টার্গেটে পরিণত করতো। তাদেরকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তার বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে ধর্ষণ করতো। 

এনবিসি টেলিভিশনের ডেটলাইন ফ্রাইডে অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে ধর্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন আনুশকা ডি জর্জিউ।

তিনি জানান, এই এপস্টেইনের সঙ্গেই আনুশকা ডি জর্জিউর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মাধ্যমে পরিচয় হয়। তখন লন্ডনে ছিলো এপস্টেইন। পরিচয়ের পর আনুশকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। তাকে নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে থাকে। কখনো নিউইয়র্ক, কখনো বা প্যারিস এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে তার বাড়িতেও নিয়ে যায় আনুশকাকে। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের তার বাড়িটিকে স্থানীয়রা ‘অরগি আইল্যান্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। 

আনুশকা ডি জর্জিউ জানান, এপস্টেইন কাউকে পটালে, তা বোঝা যেতো না। এক পর্যায়ে তাকে ‘গ্রাস’ করে ফেলতো। আমাকে যখন সে ধর্ষণ করেছে তখন অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। যেখানেই আমাকে ধর্ষণ করতো সেখানেই অন্যরা যেন তা মেনে নিতো। তারা এমন আচরণ করতো যে, মনে হতো এটাই স্বাভাবিক। এমনি করে আমাকে অনেক বছর ধর্ষণ করেছে, যৌন নির্যাতন করেছে এপস্টেইন। সে সময় তার চারপাশে যারা ছিলো সবাই চোখ বন্ধ করে রেখেছিল।

তিনি বলেন, যদি আপনি একজন তরুণী হন এবং কারো বাসায় বা দ্বীপে তার বাড়িতে যান, সেখানে যারা উপস্থিত আছেন তারা যদি এমন ভাব দেখান যে এসব ঠিক আছে, তখন আপনি একা হয়ে যাবেন। শুধু আপনিই ভাববেন উদ্ভট ঘটনা ঘটছে। সেখানে অন্যদের কাছে বিষয়টা একদম সাধারণ। 

আনুশকা ডি জর্জিউ আরো বলেন, একজন টিনেজার হিসেবে সে আমাকে যখন যৌন নির্যাতন করতো তখন তার দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো অপরাধবোধ কাজ করতো না। আমাকে দেখলেই তার শরীরে ঝাঁকুনি দিতো। আমাকে কাছে পেতে উদগ্রীব হয়ে উঠতো। বিষয়টি আমার স্নায়ুকে ঠান্ডা করে দিতো। এসব ক্ষেত্রে সে একজন কিশোরীর দুর্বল জায়গাগুলো বেছে নিতো। সে কোনদিক থেকে অনিরাপদ, ঝুঁকিতে সেগুলোতে টার্গেট করতো। আমি এমন অবস্থায় নিজেকে কোনোমতে মানিয়ে নিয়েছিলাম। 

এপস্টেইনের যৌন নির্যাতনের বর্ণনায় আরো জানিয়েছেন, তার ক্যারিবিয়ান দ্বীপের বাড়িতে আরো স্বর্ণালী চুলের কিশোরীদের দেখেছেন আনুশকা ডি জর্জিউ। 

বর্তমানে সেবাদানকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন আনুশকা ডি জর্জিউ। দ্য কিনটসুগি ফাউন্ডেশন নামে প্রতিষ্ঠানটি মানসিক ক্ষত বা কোনো আসক্তিতে আক্রান্তদের নিয়ে কাজ করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর