ঢাকা, রোববার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৫ ১৪২৫,   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪০

এটুআই’র ওস্তাদ-সাগরেদ প্রশিক্ষণ

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১১:১৫ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১১:১৫ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের কারিগরি সহায়তায় এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় ওস্তাদ-সাগরেদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মানব সম্পদে পরিণত করা হচ্ছে। 

এরই ধারাবাহিকতায় শেরপুরের নকলায় ছয় মাস মেয়াদী ওস্তাদ-সাগরেদ প্রশিক্ষণে অন্তত ৬০ পরিবার সুদিনের নাগাল পেয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় আগ্রহী সেলুন শ্রমিক, বাঁশ-বেত শ্রমিক ও লৌহজাত পণ্যের শ্রমিকদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসের সূত্রানুযায়ী, নকলায় সাত সেলুনে, দুই কামাড়ের দোকানে এবং অন্তত ১১ বাঁশ-বেতের দোকানে একজন করে ওস্তাদ, দু'জন করে সাগরেদকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ করাচ্ছেন। 

এতে করে উপজেলায় ২০ ওস্তাদ ৪০ জন সাগরেদকে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা দিচ্ছেন। ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে আজ সবাই নিজ নিজ দোকানের মালিক হয়েছেন। ফলে উপজেলার অন্তত ৬০টি প্রান্তিক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে জীবন কাটাচ্ছেন। 

কাজ শিখতে ও শিখাতে নতুন সাগরেদ ও পুরাতন ওস্তাদদের উৎসাহিত করতে সরকার অভিনব কৌশল অবলম্বন করে। সরকারের পক্ষ থেকে সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে প্রতি ওস্তাদদের মাসে ৮০০ টাকা করে এবং প্রতি সাগরেদদের এক হাজার ৬৩০ টাকা করে ছয়মাস ব্যাপী নিয়মিত মাসিক ভাতা প্রদান করা হয়।

ঝুসুর সিনেমা হল মোড়ে মতি হেয়ার এন্টার প্রাইজ’র মালিক তথা ওস্তাদ মতি মিয়াসহ বেশ কয়েক জন সাগরেদ বলেন, সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগের ফলেই আজ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেড়েছি। 

তাদের সন্তানরা অন্যান্য স্বাবলম্বী পরিবারের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সু-শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়েছে। সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলছে ওস্তাদ-সাগরেদ পরিবারের শিক্ষার্থীরা।

ইউপি সমাজ কর্মী ও ভারপ্রাপ্ত অফিস সহকারী মো. ছায়েদুর রহমান এবং ফিল্ড সুপার ভাইজার ফাতেমা খাতুন বলেন, উপজেলায় একজন ওস্তাদের মাধ্যমে দু'জন করে সাগরেদকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ পরবর্তী সময়ে নিজে দোকান দিয়ে সাগরেদরা সবাই স্বাবলম্বী হয়েছেন।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. তানজিল আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের মধ্যে ওস্তাদ-সাগরেদ প্রশিক্ষণ এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ওস্তাদ-সাগরেদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রান্তিক সবাইকে মানব সম্পদে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে শতভাগ সফলতার দেখাও মিলেছে।
 
ইউএনও জাহিদুর রহমান বলেন, সরকারের এই মহৎ উদ্যোগটি সারাদেশ ব্যাপী দ্রুত সম্প্রসারণ করতে পারলে দেশের মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বলতে কিছু থাকবে না। আর তখনই আমরা হব মধ্যম আয়ের বা উন্নত জাতির নাগরিক। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস