Alexa এটা এয়ারপোর্ট, তাই দাম একটু বেশিই

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৭ ১৪২৬,   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

বিমানবন্দর রেল স্টেশন

এটা এয়ারপোর্ট, তাই দাম একটু বেশিই

মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১৮ ৬ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৯:২৩ ৬ নভেম্বর ২০১৯

ঢাকা বিমানবন্দর রেল স্টেশন

ঢাকা বিমানবন্দর রেল স্টেশন

রাজধানীর বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে উত্তরবঙ্গগামী ধূমকেতু ট্রেনের জন্য ১ নম্বর প্লাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন সুলাইমান হোসেন নামে একজন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা। পাশেই ‘আর এবং সি কর্নার’ নামে একটি দোকান থেকে এক বোতল পানি ও একটি বাটার বন (রুটি) কিনেন তিনি। দুটি পণ্যের মূল্য ২৬ টাকা হলেও দোকানি তার কাছ থেকে রাখেন ৩৫ টাকা।

বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী সুলাইমান হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, পণ্যের গায়ে লেখা মূল্য হিসাব করলে ২৬ টাকা হয়। কিন্তু তিনি আমার কাছ থেকে ৩৫ টাকা রাখলেন। প্রতিবাদ করায় দোকানদার অস্বীকার করছেন। আমি না কি এখান থেকে পানিই ক্রয় করিনি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশটা কি মগের মুল্লুকে পরিণত হলো।

ঢাকা বিমানবন্দর রেল স্টেশন

ট্রেন চলে আসায় বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী সুলাইমান হোসেন ব্যর্থ হয়ে চলে যান। এক লিটার পানির মূল্য বোতলে লেখা ২০ টাকা আপনি নিলেন ২৫ টাকা এবং একটি বাটার বনের দাম (রুটি) ৬ টাকা আপনি কেন ১০ টাকা নিলেন? জানতে চাইলে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের প্রথম দোকান "আর এবং সি কর্নার"-এর মালিক এনামুল আহসান বলেন, "আরে ভাই এনে মজা নিলে য়ইবো! এডা এয়ারপোর্ট। এডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এনে মজাগিরি চলে না।"

পাশের আরেকটি দোকানে মোহাম্মদ জামান কবির নামে একজন বয়স্ক লোক তার নাতির জন্য একটি কোমল পানিও কিনছিলেন। পেশায় তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। পণ্যটির গায়ে মূল্য লেখা ৩৫ টাকা। কিন্তু দোকানি তার কাছ থেকে নিলেন ৪০ টাকা। প্রতিবাদ করে কোনো ফল পেলেন না তিনিও।

আপনি কেন ৪০ টাকা দিয়ে পণ্যটি ক্রয় করলেন জানতে চাইলে তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, "তাহলে উপায় কি? জিনিসটা তো আমাকে নিতেই হবে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, দোকানদার যা করছেন তা অন্যায়, মহা অন্যায়।

এ বিষয়ে ওই দোকানির কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "আমি এই দোকানে চাকরি করি। এটা মালিকের নির্দেশ। উনি বলছেন বলেই আমরা পণ্যের দাম একটু বেশি রাখি। তাছাড়া এটা স্টেশন, তাই দাম একটু বেশিই।"

ঢাকা বিমানবন্দর রেল স্টেশন

বিমানবন্দর রেল স্টেশনে এ চিত্র অহরহ। সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় সব পণ্যের দামই বেশি রাখেন স্টেশনের দোকানিরা। এখনে সরকারিভাবে ১৫টি দোকানের অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে দোকানের সংখ্যা শতাধিক। প্রতিটি দোকানদার যাত্রীদের পকেট কাটছে নির্বিচারে। আর যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে অপমান করা হয়।

যাত্রীদের অভিযোগ, স্টেশনের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রকাশ্যেই চলছে এসব প্রতারণা। যেন এসব দেখার কেউ নেই।

রাজধানীর বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে এ নৈরাজ্য সাধারণ মানুষকেও ভাবিয়ে তুলছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সুষ্ঠু নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ যাত্রীদের এর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।

বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের প্রতিটি দোকানেই যাত্রীদের কাছ থেকে পণ্যের দাম বেশি রাখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্টেশন মাস্টার মরণ চন্দ্র দাস ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। এখানে প্রায় প্রতিটি দোকানেই সব ধরনের পণ্যের দাম বেশি নেয়া হচ্ছে। আমরা তো প্রতিনিয়ত দোকানে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না।

ঢাকা বিমানবন্দর রেল স্টেশন

তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ পেলে মোবাইল টিমের মাধ্যমে তাদেরকে জরিমানা করে থাকি। অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল টিমকে জানায় এবং তারা এসে জরিমানা করে। এভাবেই চলছে। তিনি আরো বলেন, একটা দোকানের বিরুদ্ধে ৩ থেকে ৪টির বেশি অভিযোগ পড়লে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

জানতে চাইলে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবার হোসেন ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও বিব্রত। যদিও বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আমার না। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ দলের বিষয়। প্রায়ই যাত্রীরা মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ জানান। আমি তাদের কাছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও র‌্যাবের ফোন নম্বর দিয়ে দেই।

তিনি আরো বলেন, যাত্রীদের বলি আপনারা ভ্রাম্যমাণ দল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে কোনো যাত্রী আর শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করেন না। তারা অভিযোগ দিয়ে চলে যান। ফলে দোকানিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবেও মনে করি এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এস