.ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ১১ ১৪২৫,   ১৯ রজব ১৪৪০

এক স্ট্যাটাসে পরীক্ষা বন্ধ

জাবি প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৬:০৬ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৯:২২ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

শিক্ষিকাকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় পুরো ব্যাচের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা বন্ধ। এমন ঘটনা ঘটেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের। এরইমধ্যে দেড় মাস পার হলেও পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না শিক্ষকরা। বিপাকে মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, ২৫ নভেম্বর বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ৫ম সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। পরীক্ষার আগের রাতে আমির হামজা আরিক নামের এক শিক্ষার্থী 'আন্তর্জাতিক অর্থনীতি' ও এই কোর্সের অতিথি শিক্ষক নওরীন নির্ভানা বৃষ্টিকে ইঙ্গিত করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। যিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষানবিশ শিক্ষক।

ছাত্রের স্ট্যাটাস দেখে কোর্স শিক্ষক নওরীন বিভাগের সভাপতিকে তাৎক্ষণিক বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে বিভাগের শিক্ষকদের সিদ্ধান্তে ২৫ নভেম্বর সকালে সমগ্র ব্যাচের পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগের তৃতীয় বর্ষ (৬ষ্ঠ সেমিস্টার) শেষ হলেও ৫ম সেমিস্টারে আটকে আছে মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এতে ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রায় ৮ মাসের সেশনজটে পড়েছেন বলে বিভাগ সূত্রে জানা যায়।

মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের (৪৫ তম আবর্তন) এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ম্যাডামের সমালোচনা করা হয়েছে অভিযোগে আমাদের পুরো ব্যাচের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। সব শিক্ষার্থী মিলে একাধিকবার ক্ষমা চাইলেও পরীক্ষার বিষয়ে বিভাগ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।'

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, 'আমরা একাধিকবার ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চেয়ে বিভাগের সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু তিনি বারবার আবেদন পত্রে খুঁটিনাটি ভুল ধরে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এভাবে পরীক্ষা স্থগিত রেখে আমাদেরকে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষিকা নওরীন নির্ভানা বৃষ্টি বলেন, 'এক শিক্ষার্থী পরোক্ষভাবে আমাকে সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল যা আমার জন্য বিব্রতকর। বিষয়টি বিভাগের সভাপতিকে জানিয়েছি। তবে তাদের পরীক্ষা কেন স্থগিত রাখা হয়েছে তা বলতে পারবো না।'

এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি নাঈমা আহমেদ জানান, ‘ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নম্বর কম পাওয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষকদের হেয় করে লেখালেখি করায় আমরা বিব্রত। আর ৫ম সেমিস্টার ফাইনালের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ’

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ/এস