এক সঙ্গীকে নিয়েই জীবন পার করে ছোট্ট এই অপরূপ পাখি!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

এক সঙ্গীকে নিয়েই জীবন পার করে ছোট্ট এই অপরূপ পাখি!

মো. হাসানুজ্জামান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১১ ২৮ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৮:৪৯ ২৮ মার্চ ২০২০

ছবি: পাফিন পাখি

ছবি: পাফিন পাখি

বিশ্ব ব্রাহ্মাণ্ডের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে পাখির সরব উপস্থিতি অপরিহার্য। পৃথিবীতে অসংখ্য প্রজাতির পাখি আছে। প্রতিটি প্রজাতির পাখির মধ্যেই রয়েছে স্বকীয়তা।

জীবন ধারণ, শারীরিক কিংবা আচরণগত বৈশিষ্টের কারণেও ভিন্ন প্রজাতির পাখিরা একে অন্যের চেয়ে পৃথক। প্রজাতি অনুযায়ী তাদের সৌন্দর্যতাও ভিন্ন হয়ে থাকে।   

পাফিনের সারিঅক প্রজাতির গোষ্ঠীভুক্ত একটি পাখি পাফিন। এটি এক প্রকার সামুদ্রিক ছোট আকৃতির পাখি। অনেকেরই ধারণা, পাফিন পৃথিবীর সুন্দর পাখিগুলোর মধ্যে অন্যতম। ছোট ডানা এবং লেজযুক্ত পাখিটির উপরের অংশ কালো এবং বুকের নিচের অংশ বাদামী-ধূসর রঙের।

মাথার উপরের অংশে কালো রঙের ক্যাপ আকৃতির অবয়ব আছে। পাখিটির মুখ সাদা এবং পা কমলা রঙের।প্রজনন মৌসুমে পাখিটির ঠোঁট রঙিন ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। উজ্জ্বল রঙিন ঠোঁট প্রজননের সময় সঙ্গী পাখিটিকে আকর্ষণ করে। অবশ্য প্রজনন মৌসুম চলে গেলে ঘোলাটে হয়ে যায় অনেকটা।  

পাখিটির ঠোঁট রঙিন ও উজ্জ্বলসাধারণত তিন প্রজাতির পাফিন দেখা যায়। সেগুলো হলো আটলান্টিক, হর্নড এবং টাফটেড পাফিন। আটলান্টিক পাফিন সাধারণত উত্তর আটলান্টিক, উত্তর ইউরোপের উপকূলীয় ফ্রান্স, ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ, ফারো দ্বীপপুঞ্জ, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড, নরওয়ে এবং আটলান্টিক কানাডা অঞ্চলে দেখা যায়। এছাড়াও শীতকালে মরোক্কো ও নিউ ইয়র্কেও এর দেখা মেলে। 

হর্নড পাফিনের বিচরণ ক্ষেত্র সাইবেরিয়া উপকূল অঞ্চল, আলাস্কা এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়া অঞ্চলে। আর টাফটেড প্রজাতির পাফিন পাখির দেখা মেলে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, দক্ষিণ আলাস্কা এবং আলেউত দ্বীপপুঞ্জ, কামচাটকা উপদ্বীপ ও কুড়িল দ্বীপপুঞ্জে। তবে অন্য কয়েকটি অঞ্চলেও এর বিচরণ আছে। পাফিন পাখির প্রধান বৈশিষ্ট্য এরা সারা জীবন একটি মাত্র সঙ্গীর সঙ্গেই থাকে। সারা বছর সমুদ্রে থাকলেও প্রজনন মৌসুমে পাফিন উপকুল বা দ্বীপে এসে বাসা বাধে। 

ঠোঁটে অনেকগুলো মাছছেলে এবং মেয়ে উভয় পাখি মিলে বাসা তৈরি করে। মেয়ে পাফিন বছরে শুধু একটি ডিম পাড়ে। ছেলে ও মেয়ে পাখি পালা করে ডিম তা দেয়। বাচ্চা ফুঁটলে তাকে নিয়ম করে খাওয়ায় দুটি পাখিই। পাফিন পাখি সাধারণত মাছ এবং সামুদ্রিক পোকা মাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করে। ছোট বাচ্চা পাখিদের খাদ্য ছোট ছোট মাছ। একটি বাচ্চা পাফিনের দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার খাবার প্রয়োজন হয়।

সমুদ্রের উপরে এরা উড়ে বেড়ায়। পানির উপর থেকে মাছ দেখলেই ঠোঁটের সাহায্যে মাছ শিকার করে পাফিন। এরা একসঙ্গে এক ডজনেরও বেশি মাছ শিকার করতে পারে। পাফিন পাখির ডানাগুলো ছোট হলেও এরা উড়ার ক্ষেত্রে বেশ পারদর্শী। প্রতি মিনিটে এরা প্রায় ৪০০ বার ডানা ঝাপটায় এবং ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। 

ঠোঁটে মাছ নিয়ে উড়ছে পাফিনএই পাখিটি পানিতে ডুব দিয়ে সাঁতার কাটতেও পটু। কখনো শিকার ধরতে এরা ৬০ মিটার পর্যন্ত পানির নিচে ডুব দিতে পারে। পাফিন পাখি বছরের আটমাস অর্থাৎ দুই-তৃতীয় অংশ সময় শীতল মাঝ সমুদ্রে থেকে মাছ শিকার করে। বাস্তবে প্রজনন মৌসুমে তারা স্থলে এসে বাসা বাধে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় কূলে আসে এবং আগস্টের দিকে সমুদ্রে চলে যায়।  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস