Alexa এক মাসেই বিয়ে বিচ্ছেদের সেঞ্চুরি! 

ঢাকা, শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৯ ১৪২৬,   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১

এক মাসেই বিয়ে বিচ্ছেদের সেঞ্চুরি! 

পাবনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৩৭ ১৪ অক্টোবর ২০১৯  

সংগৃহীত

সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদীতে অস্বাভাবিকভাবে বিয়ে বিচ্ছেদের মাত্রা বেড়ে গেছে। দাম্পত্য কলহ, স্বামী-স্ত্রীর পরকীয়া, স্বামীর মাদকাসক্ততা এসব কারণে দিন দিন এ মাত্রা বাড়ছে। 

জানা গেছে, গত এক মাসে ঈশ্বরদীর অন্তত ১০০টি পরিবারে বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও অর্ধশতাধিক নারী তাদের স্বামীকে তালাক দেয়ার জন্য বিভিন্ন নিকাহ রেজিস্ট্রার ও আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত আবেদন করেছেন।

পাকশী ইউপি সূত্র জানায়, গত বছর যেখানে এ ইউপিতে ছয়টি বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছিল, সেখানে এ বছরে মাত্র এক মাসে ঘটেছে ১৪ জনের বিয়ে বিচ্ছেদ।  

পাকশী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস বলেন, চলতি বছর বিয়ে বিচ্ছেদের সালিশ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

ঈশ্বরদীর বিভিন্ন ইউপির হিসাব অনুযায়ী, গত এক মাসে উপজেলার সাঁড়া ইউপিতে সাত, মুলাডুলিতে ১১, সলিমপুরে আট, দাশুড়িয়ায় সাত, লক্ষ্মীকুণ্ডায় পাঁচ, সাহাপুরে আট এবং পাকশী ইউপিতে সর্বোচ্চ ১৪ ও ঈশ্বরদী পৌর এলাকায় ৩৫ পরিবারসহ অন্তত ১০০টি পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে।

বাঘইল গ্রামের এক নারী বলেন, ইপিজেডে চাকরি করে বাড়ি ফিরে যদি স্বামীর অত্যাচার সইতে হয়, তার চেয়ে একা থাকাই ভালো। তাই স্বামীকে তালাক দিয়ে স্বাধীন জীবনযাপন করছি, ভালোই আছি।

মুলাডুলি গ্রামের এক নারী বলেন, নিজে চাকরি করি, অথচ স্বামী বেকার। তারপরও স্বামী আমার উপার্জিত পয়সায় মাদক সেবন করে আমার ওপরই শারীরিক নির্যাতন চালাত। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে স্বামীকে তালাক দিয়ে দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে জীবনযাপন করছি।   

জেলা জজ আদালতের শিক্ষানবিশ আইনজীবী আলী আজম জানান, ঈশ্বরদীর ওইসব ইউপি থেকে বিয়ে বিচ্ছেদের আরো অর্ধশতাধিক আবেদন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

পাকশী ইউপি সচিব মিজানুর রহমান খোকন জানান, তালাক দেয়া নারীদের প্রায় সবাই ঈশ্বরদী ইপিজেডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত। তারা বিভিন্নভাবে স্বামীর নির্যাতনের শিকার অথবা দাম্পত্য কলহের কারণে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান ফান্টু বলেন, দাম্পত্য কলহ নিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই আসেন। চেষ্টা করি, সংসারটা টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বনিবনা না হওয়ায় বিয়ে বিচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা।

ঈশ্বরদী পৌরসভার প্যানেল মেয়র (২) ও সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ইপিজেডসহ এ অঞ্চলে নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় আগের দিনের মতো কেউ আর মুখ বুজে সবকিছু সহ্য করছেন না। দাম্পত্য কলহের জেরে এসব চাকরিজীবী নারী খুব সহজেই স্বামীকে তালাক দিয়ে দিচ্ছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে