এক ভ্রমণে নিঝুম দ্বীপ ও দমার চর

ঢাকা, সোমবার   ৩০ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৬ ১৪২৬,   ০৫ শা'বান ১৪৪১

Akash

এক ভ্রমণে নিঝুম দ্বীপ ও দমার চর

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৩ ৩ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৫:২৬ ৩ মার্চ ২০২০

দমার চর

দমার চর

নিঝুম দ্বীপ, নামটা বেশ পরিচিত। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত এ দ্বীপ অবারিত সবুজ ও বৈচিত্র্যময় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। একদিকে ম্যানগ্রোভ বন এবং অন্যদিকে বিস্তীর্ণ বালুরাশির এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাও বেশ বৈচিত্র্যময়। শুধু দেশ নয়, বহিঃবিশ্বের ভ্রমণপিপাসুদেরও ব্যাপক কৌতুহল ও আগ্রহ রয়েছে জায়গাটির প্রতি। এর অন্যতম কারণ দ্বীপের সবুজ-শ্যামল মনোরম পরিবেশ।

নিঝুম দ্বীপের প্রধান পর্যটন আকর্ষণ চিত্রা হরিণ। ১৯৭৪ সালে চার জোড়া চিত্রা হরিণ ছেড়ে দেয়া হয়। ১৯৯৬ সালের হরিণশুমারি অনুযায়ী হরিণের সংখ্যা ছিল ২২ হাজার, যা পরবর্তীতে বেড়ে ৩০ হাজারে দাঁড়ায়। নোনা পানিতে বেষ্টিত নিঝুম দ্বীপ কেওড়া গাছের অভয়ারণ্য। কিন্তু বন উজাড় হওয়ায় এ দ্বীপে হরিণের সংখ্যা কমে যায়। এ বনে হরিণের সংখ্যা এখন পনেরো হাজারেরও বেশি।

বিশাল সমুদ্র সৈকতও রয়েছে নিঝুম দ্বীপে। প্রায় ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘের সৈতটিতে বসে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের স্বর্গীয় দৃশ্য দেখা যায়। মূল দ্বীপসহ আশপাশের দ্বীপগুলোতে শীতকালে আসে হাজার হাজার অতিথি পাখি। এদের মধ্যে আছে সরালি, লেনজা, জিরিয়া, পিয়ং, চখাচখি, রাঙ্গামুড়ি, ভূতিহাঁসসহ নানারকম হাঁস, রাজহাঁস, কাদাখোঁচা, জিরিয়া, বাটান, গুলিন্দাসহ জলচর নানা পাখি, হরেক রকমের গাংচিল, কাস্তেচরা ইত্যাদি। কদাচিৎ আসে পেলিক্যান।

নিঝুম দ্বীপে হরিণের বিচরণ

নিঝুম দ্বীপের পূর্ব পাশে জেগে উঠেছে দমার চর। জলচর নানান পাখির নিরাপদ আবাসস্থল এ চর। তবে দমার চরের প্রধান আকর্ষণ দেশী গাঙচষা। এই চরই মহা বিপন্ন পাখিগুলোর বাংলাদেশে অন্যতম আবাসস্থল। এছাড়া বছরজুড়ে শঙ্খচিল, বকসহ নানা স্থানীয় পাখি তো আছেই। দ্বীপের আশপাশের জঙ্গলেই আছে হরিণ, শেয়াল, বন্য শূকর, নানা রকম সাপ ও বানর।

দমার চরকে এক কথায় বলা যায় দুর্গম অঞ্চল। চারদিকে নোনা পানি, থকথকে কাদা। এখানে এসে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। পাখি গবেষকদের মতে, বাংলার আর কোনো চর বা দ্বীপে রংবাহারি এমন পাখির মেলা দেখা যায় বলে জানা নেই। সত্যিই, দমার চরে পাখি দেখতে দেখতে সময় ফুরিয়ে বেশ দ্রুত।

যাওয়া

ঢাকার সদরঘাট থেকে সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে এমভি ফারহান-৩ বা ফারহান-৪ লঞ্চে উঠে সকাল ৬ টায় হাতিয়া। সেখান থেকে মাছ ধরা লঞ্চে সোজা নিঝুম দ্বীপ অথবা বাইকে (৩০০/৪০০টাকা) করে চলে যান ঘাটপার। সেখান থেকে নৌকায় নিঝুম দ্বীপ। এবার মূল বাজারে যাবার পালা। তাই আবার বাইকে করে চলে যান একদম আসল নিঝুম দ্বীপের নামারবাজার।

দমার চরে পাখির বিচরণ

কোথায় থাকবেন

নিঝুম দ্বীপের নামা বাজার কিংবা বন্দরটিলায় থাকতে পারেন। নিঝুম দ্বীপে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা অবকাশ পর্যটনের নিঝুম রিসোর্ট। এখানে দুই শয্যার কক্ষ ভাড়া ১ হাজার ৫শ’ টাকা। তিন শয্যার কক্ষ ১ হাজার ৮শ’ টাকা। চার শয্যার কক্ষ ২ হাজার টাকা। ৫ শয্যার ডরমিটরির ভাড়া ১ হাজার ৮শ’ টাকা। ১২ শয্যার ডরমিটরি ৩ হাজার টাকা। ঢাকা থেকে এ রিসোর্টের বুকিং দেয়া যায়। যোগাযোগ: অবকাশ পর্যটন লিমিটেড, শামসুদ্দিন ম্যানশন, ১০ম তলা, ১৭ নিউ ইস্কাটন।

খাবেন কোথায়

লোকাল কিছু খাবারের হোটেল আছে। যেমন- হোটেল সি-বার্ড, দ্বীপ হোটেল এবং ভাই-ভাই হোটেল। এখানে আপনি মাছ, মুরগি,হাস, কাকড়া, শুটকি খেতে পারবেন। তবে ভালো মিষ্টি জাতীয় খাবার পাবেন না।

প্রয়োজনীয় তথ্য

ঢাকা থেকে দমার চরে ভ্রমণের জন্য কমপক্ষে দু’দিনের সময় প্রয়োজন। নিঝুম দ্বীপ থেকে নৌকায় দমার চরে যেতে কমপক্ষে দুই ঘণ্টার সময় প্রয়োজন। তাই মোক্তারিয়ার ঘাট কিংবা বন্দরটিলার স্লুইজগেইট থেকে নৌকা ভাড়া করে দমার চরে যাওয়া সহজ। লঞ্চে ঢাকা ফিরতে চাইলে খুব সকালেই বের হতে হবে তমরুদ্দির উদ্দেশ্যে। তমরুদ্দি থেকে ঢাকাগামী লঞ্চ ছেড়ে আসে দুপুর বারোটায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে