.ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১২ শা'বান ১৪৪০

এক ভ্রমণে পাহাড়-সমুদ্র-ঝরনা

 প্রকাশিত: ১৫:৫০ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৫:৪৪ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চন্দ্রনাথ পাহাড়

চন্দ্রনাথ পাহাড়

আমরা সবাই প্রাত্যহিক জীবনে মোটামুটি একই কাজ বারবার করে আসছি। রুটিনে বাঁধা এই জীবন নিয়ে তাই হাঁপিয়ে ওঠাটাও খুবই স্বাভাবিক। এ কারণে কিছুটা মুক্তির স্বাদ পেতে হোক, প্রকৃতির কাছাকাছি খানিকটা সময় কাটাতে হোক বা কিঞ্চিৎ রোমাঞ্চের শিহরণের জন্য হোক, ভ্রমণ বেছে নেই আমরা। বিশেষ করে এখনকার তরুণ প্রজন্মের কাছে ট্যুর বা ভ্রমণ বেশ পছন্দের শখ হিসেবেই বিবেচিত। যেকোনো ছুটিতে বা সুযোগ পেলেই বন্ধুবান্ধব সঙ্গে নিয়ে হৈ-হুল্লোড় করতে করতে ধুলো-ধোঁয়া-মানুষে ভরা এই যান্ত্রিক শহর ছেড়ে দূরে কোথাও দিন কয়েকের জন্য হারিয়ে যাওয়ার লোভ অনেকেই সামলে উঠতে পারেন না। তবে এক্ষেত্রেও অনেকে অনেক রকম বিড়ম্বনায় পড়েন। খরচ, থাকার ব্যবস্থা ইত্যাদি নানা দিক চিন্তা-ভাবনা করে হয়তো যাওয়াও হয়ে ওঠে না আর কাঙ্খিত জায়গায়। তাই আপনাদের খুবই অল্প খরচে এক দিন দুই রাতের একটি চমৎকার ভ্রমণের বুদ্ধি দিয়ে দিচ্ছি। এতক্ষণে হয়তো কেউ কেউ ভাবতে শুরু করেছেন যে কোথায় ট্যুর দেয়ার কথা বলছি। সূত্র দেই একটা, এটি এমন এক জায়গা যেখানে পাহাড়-ঝর্না-সমুদ্র তিনটিরই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। একের ভিতর তিন যাকে বলে। অনুমান করুন তো, ধরতে পারেন কি না... আচ্ছা, আমিই বলে দিচ্ছি। জায়গাটি সীতাকুণ্ড।

ঢাকা থেকে প্রায় ২২১ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই মনোরম ও নয়নাভিরাম স্থানটি, ঘুরে আসার জন্য আসলেই একটি চমৎকার জায়গা। এখানে যাওয়ার পর মন ভালো হয়ে যাবেই, সে ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত থাকতে পারেন। কিছুক্ষণ আগে একের ভিতর তিনের কথা বলেছি না? এক বিন্দু বাড়িয়ে বলিনি। এই সীতাকুণ্ডে আছে সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় ১০২০ ফুট উঁচু চন্দ্রনাথ পাহাড়, আলাদা ৯টি ঝরনাধারার সম্মিলনে সৃষ্ট খৈয়াছড়া ঝরনা এবং গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত। দুই পর্ব বিশিষ্ট প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে থাকছে এই তিনটি স্থান সম্পর্কে বর্ণনা।

সীতাকুণ্ড সম্পর্কে বলতে গেলে সবচেয়ে আগে আসে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের কথা। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরের এই পাহাড়ের চূড়ায় আছে চন্দ্রনাথ মন্দির। পাহাড়ের পাদদেশেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কয়েকটি উপাসনালয় রয়েছে। চূড়ায় উঠতে হলে মোটামুটি ১৪০০টি ধাপ বা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে। পাহাড় চূড়ার শীতল বাতাসে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সব কষ্ট মূহুর্তেই নিঃশেষ হয়ে যাবে, এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। সেখান থেকে দেখতে পারবেন ভেসে বেড়ানো মেঘের অপরূপ দৃশ্য। নিচে তাকালে দেখা যাবে সীতাকুণ্ড উপজেলা।

পাহাড় থেকে এবার যাওয়া যাক সমুদ্র সৈকতে। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে সিএনজিতে মাত্র ২০-২৫ মিনিটের দূরত্ব। গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতে পৌঁছতে হলে হাঁটতে হবে এক কিলোমিটারের মত দূরত্ব। কর্দমাক্ত এই পথে হাঁটা ছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই। এই পথ অতিক্রম করে যখন সমুদ্রের জলরাশিতে পা ভেজাবেন, কাদাময় জায়গাটুকু পেরোনো সার্থক মনে হবে। বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে সামনে বিশাল সমুদ্রের ঢেউ আর পেছনে বিরাট পাহাড়ের দৃশ্য সত্যিই বলে বোঝানোর নয়।

সীতাকুণ্ড থেকে উত্তরে মীরসরাই উপজেলায় বড়তাকিয়া বাজারের কাছাকাছি ৪.২ কিলোমিটার পূর্বে খৈয়াছড়া ঝরনা। বলা হয়, এর জন্ম ৫০ বছর আগে। ভূমিগত পরিবর্তনের কারণে সেই সময় থেকে ঝরনার প্রবাহ শুরু হয়। ৯টি ধারা বিশিষ্ট এই ঝরনা সর্বোচ্চ ধারা ভূমি থেকে প্রায় হাজার ফুট ওপরে। সবচেয়ে নিচের ঝর্নাধারা থেকে ১, ২, ৩... এভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথম ঝরনার কাছে পৌছাঁতেও হাঁটতে হবে ৪০-৪৫ মিনিট। প্রথম দিকে সমতল ভূমিতে হাঁটলেও এরপর আরম্ভ হবে পাহাড়ি পথে হেঁটে ওঠা এবং ক্রমাগত তা হয়ে উঠবে আরো চ্যালেঞ্জিং।

সূত্র: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা

ডেইলি বাংলাদেশ/এসজেড