Alexa এক ঝাঁক মনোনয়ন প্রত্যাশী

ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬,   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪০

গোপালগঞ্জ-মুকসুদপুর

এক ঝাঁক মনোনয়ন প্রত্যাশী

 প্রকাশিত: ১৩:৫৪ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

অন্যান্য জেলার মতো গোপালগঞ্জেও আগেভাগে বইছে নির্বাচনী হওয়া। যদিও নির্বাচনের বাকী, আরো বছরখানেক। তারপরও আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জের তিনটি আসনেই জোরেসোরে চলছে দলীয় কার্যক্রম। স্বাধীনতার পর এখন পযর্ন্ত সব নির্বাচনেই এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে।

গোপালগঞ্জ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান। সে কারণে দেশের অন্য জেলাগুলোর তুলনায় এখানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে রয়েছে ভিন্নমাত্রা। এখানকার মানুষ বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসেন, ভালবাসেন তার দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকাকে। এখানে প্রার্থীর যোগ্যতা বিচারের চেয়ে, বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা ভোটারদের অনুপ্রাণিত করে বেশি।

মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ নিয়ে গোপালগঞ্জ-১ আসন। মুকসুদপুর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও কাশিয়ানী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এবং ১ টি পৌরসভা রয়েছে এ আসনে।

বিগত প্রত্যেকটি নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। এখানে বিএনপি বা অন্য দলগুলো নিয়ম রক্ষার নির্বাচনে অংশ নেয়।

এবার নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ-১ আসনে জোট-মহাজোটের সবচেয়ে বেশি সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছে। চলছে মনোনয়ন লড়াইয়ের দৌঁড়ঝাপ। কদর বেড়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের।

আগামী নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগে আসতে পারে নতুন চমক। এখানে বঙ্গবন্ধু পরিবারের দু’জনের নাম শোনা যাচ্ছে বেশি। একজন হলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা। অন্যজন আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ভাগ্নে, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম মোহাম্মদ আলী খান আবু মিয়ার ছোট ভাইয়ের ছেলে ব্যারিষ্টার আলী আসিফ খান। যদি এ দু’জনের একজনকে প্রার্থী করা হয়, তবে বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্ণেল অবসরপ্রাপ্ত মুহাম্মদ ফারুক খান বাদ পড়তে পারেন।
তবে বেশিরভাগ নেতাকর্মীর দাবি এ আসনে নৌকার কাণ্ডারি হবেন ৪ বারের এমপি ফারুক খান।

স্থানীয়রা বলছেন, তিনি এলাকায় যাতায়াত করেন নিয়মিত। তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে রয়েছে তার গভীর সম্পর্ক। রাস্তাঘাট নির্মাণ, ব্রিজ, কালভাট, স্কুল কলেজসহ ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে তার সময়ে। এসব বিবেচনায় তারই মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা স্থানীয় নেতাকর্মীদের। তবে নতুন মুখের প্রত্যাশাও করছেন কেউ কেউ।

এছাড়া কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মুকুল বোস, সংরক্ষিত মহিলা এমপি উম্মে রাজিয়া কাজল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের অর্থ সম্পাদক কে এম মাসুদুর রহমান, যুবলীগের শেখ আতিয়ার রহমান দিপু ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফা রহমান রুমাও প্রার্থীতার দৌড়ে আছেন।

এ এলাকায় বিএনপি অনেকটাই নিয়ম রক্ষার নির্বাচনে অংশ নেয় মাত্র। তবে মনোনয়ন লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কমতি নেই তাদের। কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা মোহম্মদ সেলিমুজ্জামান সেলিম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি সাইফুর রহমান পটু, ছাত্রদলের সাবেক নেতা কামররুজ্জামান টুটুল, গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম এইচ খান মঞ্জু, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদিন মেজবাহ’র নাম আলোচনা হচ্ছে। তবে সেলিমুজ্জামান সেলিম ছাড়া আর কাউকেই দেখা যাচ্ছে না মাঠে।

এদিকে বিএনপির চেয়ে জাতীয় পার্টি অনেকটা ভালো অবস্থানে রয়েছে। জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন সভা সমাবেশ ও বিল বোর্ড টাঙ্গিয়ে প্রার্থীতার জানান দিচ্ছেন। এখানে প্রার্থীতার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বিভারানী মজুমদার।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মিজানুর রহমান এলাকায় জনসংযোগ করছেন। বাসদের মোশায়েদ হোসেন ঢালী, মুকসুদপুর উপজেলা জাসদের (ইনু) সভাপতি আজম শরীফ, অ্যাডভোকেট সহীদুল আলম বাবরের (আম্মিয়া) নামও শোনা যাচ্ছে।
তবে এ আসনে যে দল বা ব্যক্তি যা-ই হোক, নৌকাই শেষ ভরসা। নৌকার মাঝি যিনি হবেন, তিনিই পার হবেন নির্বাচনী বৈতরণী।

>>>কাল থেকে হবিগঞ্জ জেলার রাজনীতি...

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে