Alexa এক কাপড়েই সাড়ে সাত মাস কাটাতে হয়েছে ডা. ইকবালের

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৫ ১৪২৬,   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

এক কাপড়েই সাড়ে সাত মাস কাটাতে হয়েছে ডা. ইকবালের

 প্রকাশিত: ১৪:০২ ২ জুন ২০১৭  

ঢাকার সাইন্স ল্যাবরেটরি এলাকা থেকে 'অপহৃত' ডা. মুহাম্মদ ইকবাল মাহমুদ তার দুঃসহ দিনের কথা জানালেন। আজ শুক্রবার বিকেলে তিনি জানালেন, টানা সাত মাস ১৭ দিন তাকে একটি কক্ষের মধ্যে একটি টি-শার্ট আর প্যান্ট পরে থাকতে হয়েছে। এ সময় তার চোখ ও পেছন থেকে হাত বেঁধে রাখা হতো। খালি মেঝেতে করতে হতো রাত্রীযাপন। খাবার, নামাজের অজু ও নামাজ পড়তে কিছু সময়ের জন্য হাতের বাঁধন খুলে দেওয়া হতো বলেও জানান তিনি। তবে কে বা কারা, কী কারণে তাকে অপহরণ করেছে- সে সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছুই বলেননি তিনি। ডা. মুহাম্মদ ইকবাল মাহমুদ বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের বাসায় এখন স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। গত বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে ডা. ইকবাল লক্ষ্মীপুর হাসপাতাল সড়কের বাসায় ফেরেন। এর আগে রাত ১১টার দিকে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের নতুন গো-হাটা এলাকায় কে বা কারা একটি মাইক্রোবাস থেকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে যায় তাকে। পরে তিনি একটি অটোরিকশায় করে বাসায় ফেরেন। ২৮তম বিসিএস পাস করা ইকবাল মাহমুদ লক্ষ্মীপুর শহরের হাসপাতাল সড়কের মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম নূরুল আলমের ছেলে। তিনি মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা কর্মকর্তা ছিলেন। অপহরণের পর সুস্থ অবস্থায় ইকবালকে ফিরে পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে লক্ষ্মীপুর ও ঢাকায় তিনবার সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছিল। এ ছাড়া গত বছরের ২০ নভেম্বর ইকবালের বাবা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে তাকে উদ্ধারের দাবি জানান। তাকে উদ্ধারে নিষ্ক্রিয়তা কেন কর্তব্যে অবহেলা হিসেবে গণ্য হবে না— তা জানতে চেয়েও রুল দিয়েছিলেন আদালত। সে সময় স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে ইকবাল লক্ষ্মীপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া রয়েল কোচে ঢাকায় রওয়ানা হন। তিনি ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানেসথেশিয়ার ওপর দুই মাসের প্রশিক্ষণের জন্য যাচ্ছিলেন। রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকার সাইন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় বাস থামলে নামেন তিনি। সেখানে সিসি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বাস থেকে নামার পর অজ্ঞাত ৭-৮ ব্যক্তি ইকবালকে ঘিরে কথা বলছেন। এরপর তাকে দ্রুত একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। এর পেছন দিয়ে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান যেতে দেখা যায়। ওই ঘটনায় ১৬ অক্টোবর রাতে ধানমণ্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন ডা. ইকবালের বাবা। প্রসঙ্গত, ডা. ইকবাল লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে যোগদান করেন। সেখান থেকে তিনি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে বদলি হন। তার স্ত্রী সোহাদা ইয়াছমিনও পেশায় চিকিৎসক। তিনি লক্ষ্মীপুরে থাকেন। তাদের সংসারে আরমান আহসান আরজ (৮) ও আয়েশা (৪) নামের দুই সন্তান রয়েছে। ডেইলি বাংলাদেশ/আইজেকে