এক্স-রে,ইসিজি সচল থাকলেও যেতে হয় ক্লিনিকে

ঢাকা, রোববার   ১৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৩ ১৪২৬,   ১২ শাওয়াল ১৪৪০

মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতাল

এক্স-রে,ইসিজি সচল থাকলেও যেতে হয় ক্লিনিকে

আবুল বাসার আব্বাসী, মানিকগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১২ ১০ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৬:৫২ ১১ জুন ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতাল ধারাবাহিকভাবে ৫০ শয্যা থেকে ১০০, এরপর ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তারপরও প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত জেলাবাসী। হাসপাতালের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ঠিক থাকলেও রোগীদের উপকারে আসছে না। রোগীরা টাকা খরচ করে বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিচ্ছেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেবা। ফলে কম টাকায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মানিকগঞ্জের মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে জেলা সদরের ভুল জয়রা মৌজায় ৫০ শয্যার মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালটি স্থাপিত হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে এটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়। আর ২০১৩ সালে হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে এখনো ৫০ শয্যার চিকিৎসক দিয়েই চলছে হাসপাতালটির কার্যক্রম। বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের পরিধি বাড়লেও নার্স ব্যাতিত বাড়েনি এর জনবল। এখানে সিনিয়র কনসালটেন্ট রয়েছেন দুইজন, মেডিকেল অফিসার একজনসহ বিভিন্ন দফতর মিলে কর্মরত রয়েছেন ২২ জন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে সিটিস্ক্যান, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনা হলেও রোগীদের কোন উপকারে আসছে না। রোগীরা অধিক টাকা ব্যয় করে বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। হাসপাতালে এক্স-রে, ইসিজি, ইকো মেশিন সচল থাকার পরও এসব অকার্যকর বলে দালালরা রোগীদের হাসপাতাল থেকে ভাগিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালে রোগী আনা নেয়ার জন্য দুইটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও ড্রাইভার আছেন একজন। ফলে সচল অ্যাম্বুলেন্স থাকার পরও রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন সেবা থেকে।

নার্সদের ব্যবহার নিয়েও অভিযোগ রয়েছে রোগীদের। সম্প্রতি গ্রাম থেকে আসা ইসলাম নামের এক রোগীর স্বজনরা বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত নার্স থাকলেও বেশিরভাগের ব্যবহার খারাপ। আমরা গরিব মানুষ, টাকা-পয়সা তেমন নেই। তাই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসি। কিন্তু এখানে এসে সঠিক সেবা পাই না। অনেক ওষুধই বাহির থেকে কিনে আনতে হয়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালটিতে বহুতল ভবন থাকার পরও সিট না পেয়ে অনেক রোগী মেঝেতে আছেন। পুরাতন ভবনের ৪টি ওয়ার্ডে ও বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছে অনেক মুমূর্ষ রোগী।

হাসপাতালটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ওইসব সেন্টারের নিয়োগকৃত দালালরা গ্রাম থেকে আসা রোগীদের দুর্ভোগকে পুঁজি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। তারা ভাল ডাক্তার দিয়ে কম খরচে পরীক্ষা নিরীক্ষার নাম করে ফুসলিয়ে রোগীদের ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করায়। এতে বিপুল অর্থ হারিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন গরীব রোগীরা।

হাসপাতালের ডাইরিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমসিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। এখানে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুন। অনেকেই বেড না পেয়ে ফ্লোরে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স নাসরিন আক্তার জানান, হাসপাতালে রোগী ভর্তির ব্যবস্থা আছে ১০ জনের। কিন্ত  প্রচণ্ড গরমের কারণে রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে।   

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক লুৎফর রহমান বলেন, হাসপাতালটি ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও চিকিৎসক আছে ৫০ শয্যারই। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালটির কর্মরত চিকিৎসকের পাশাপাশি প্রেষণে আসা চিকিৎসকদের দিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক যুক্ত হলে আমরা আরো ভালো সেবা দিতে পারবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস