একুশের চেতনায় চির ভাস্বর জাহাঙ্গীরনগরের ‘অমর একুশ’

ঢাকা, বুধবার   ০৮ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৬ ১৪২৬,   ১৫ শা'বান ১৪৪১

Akash

একুশের চেতনায় চির ভাস্বর জাহাঙ্গীরনগরের ‘অমর একুশ’

ফারুক রহমান, জাবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪০ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একুশের চেতনায় ‘অমর একুশ’ ভাস্কর্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একুশের চেতনায় ‘অমর একুশ’ ভাস্কর্য

প্রধান গেইট দিয়ে ঢুকে সড়ক ধরে একটু সামনে এগুলেই সড়কের ডানপাশে দেখা মিলবে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের। সড়কটির বামপাশে তাকাতেই দেখা মিলবে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা একুশের চেতনায় চির ভাস্বর ‘অমর একুশ’ ভাস্কর্যের। 

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে অমলিন করে রাখতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ‘অমর একুশ’ ভাস্কর্যটি। ক্যাফেটেরিয়া, মুক্তমঞ্চ, টিএসসির সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই স্থানটির যে নান্দনিক রূপ, তাতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে অমর একুশ। সব মিলিয়ে এটি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যেও বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

একুশের চেতনার ধারক ও বাহক হয়ে এটি মানুষের হৃদয়ে বিকিয়ে দিচ্ছে মাতৃভাষার জন্য বাঙালির সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস। অমর একুশ আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা বাঙালি, আমরা বীরের জাতি এবং বাংলা আমাদের মাতৃভাষা।

ভাস্কর্যটির গাঠনিক বৈশিষ্ট্য আমাদেরকে তিনটি স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। মুষ্টিবদ্ধ হাতে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, মৃত্যু আর সন্তান হারা মায়ের আকুলতা। এই বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভাষা আন্দোলনের রুপ। দারুণভাবে ফুটে উঠেছে ভাস্কর্যটিতে। এ ভাস্কর্যটি বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও বাংলা ভাষাকে যেমনি ধারণ করে, তেমনি এটি একটি শাণিত চেতনাকেও শরীরী রূপ দিয়েছে শিল্পী জাহানারা পারভীন।

স্তম্ভসহ মোট উচ্চতা ৩৪ ফুট উচ্চতার এ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে চুনাপাথর, সিমেন্ট, ব্যাক আইড, বালি, মডেলিং ক্লে প্রভৃতি দিয়ে।

ভাস্কর্যের মাঝখানে একজন মহিলার প্রতীক একুশের ভাষা আন্দোলনে পুরুষের সাথে নারীদের ত্যাগের স্মৃতি বহন করছে। উপরের দিকে তাকিয়ে থাকা নারী প্রতিকৃতি সন্তান বা ভাই হারানোর শোকে দুঃখিত নারীদের সাহসের অভিব্যক্তি প্রকাশ করছে।

এছাড়া ভাস্কর্যটির ৬ সিঁড়ি ৬ দফাসহ আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তি আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের ৬টি বছরের স্মারক। ভাস্কর্যটির পাদদেশে পলাশ ফুলের গাছ বাংলার ঋতু বৈচিত্র্যে পলাশ ফুল ফুটিয়ে একুশের আগমনকে জানান দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক কাজী সালেহ আহমেদ ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অসম্পূর্ণ অবস্থায়ই ভাষা আন্দোলনের স্মারক ভাস্কর্য হিসেবে এর উদ্বোধন করেন। এরপর দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল সংস্কার করে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্টির উদ্বোধন করেন।

এ ভাস্কর্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের দ্বিতী বর্ষের শিক্ষার্থী বিপ্লব কান্তি সরকার বলেন, মাতৃভাষা বাংলার জন্য যেসব দামাল ছেলে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাজপথে অকাতরে রক্ত ঢেলে দিয়েছে তাদের স্মৃতিকে ধারণ করে ভাস্কর্যটি। যা আমাদেরকে একুশের এই চেতনায় উজ্জীবিত করছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম