একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিপাকে আওয়ামী লীগ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১১ ১৪২৬,   ২০ শাওয়াল ১৪৪০

হবিগঞ্জ-৪

একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিপাকে আওয়ামী লীগ

 প্রকাশিত: ১৯:২৩ ১৯ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১৯:২৩ ১৯ জুলাই ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনটি সিলেট বিভাগের প্রবেশদ্বার মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলা সমন্বয়ে গঠিত। চা-বাগানবেষ্টিত আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে আওয়ামী লীগের দখলে। রাজনীতিতে তরুণ স্বচ্ছ আর ক্লিন ইমেজের প্রার্থীর দিকে ভোটারদেরও আগ্রহ বেশি। তারা খুঁজছেন নতুন মুখ।

এরইমধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক মেয়র এস এম মুসলিম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন, মাধবপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন চৌধুরী (অসীম), সাবেক সমাজ কল্যাণমন্ত্রী মরহুম এনামুল হক মোস্তুফা শহীদের ছেলে ‘মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড’ নেতা নিজামুল হক মোস্তুফা শহীদ রানা, শ্রম আফিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান (অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি) মো. আব্দুল হাইয়ের ছেলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা প্রকৌশলী আরিফুল হাই রাজিব, চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট মো. আকবর হোসেন জিতু এলাকায় বিভিন্নভাবে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন।

এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে খ্যাতি থাকলেও বর্তমান অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর বিরুদ্ধে দলীয় নেতা-কর্মীদের রয়েছে অনেক ক্ষোভ। আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও বর্তমান এমপির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

মাহবুব আলী এমপি বলেন, আওয়ামী লীগের দুর্দিনে তিনি কাজ করেছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী কিছু নেতা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।

শাহ মো মুসলিম বলেন, এখন দলীয় নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন নেই। তিনি এ আসনে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে দলীয় নেতা-কর্মীরা মূল্যায়িত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় উন্নয়নে কাজ করবেন বলে দাবি করেন।

ব্যারিস্টার সৈয়দ ছায়েদুল হক সুমন বলেন, তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীসহ জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তিনি মনোনয়ন পেলে এ আসনে নিশ্চিত জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিজামুল হক (রানা) বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে তিনি সবুজ সংকেত পেয়েছেন। চুনারুঘাট থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলে এ আসন থেকে সহজেই জয়লাভ করা সম্ভব। কারণ চুনারুঘাটে আওয়ামী লীগের ভোট বেশি।

এছাড়াও জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী আতিকুর রহমান (আতিক) আতিক ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে, বিএনপির থেকে বার বার মনোনয়নপ্রাপ্ত জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সৈয়দ মো. ফয়সল এবারও বিএনপির প্রার্থী হিসাবে কৌশলী নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি কয়েকটি মতবিনিময় সভায় জীবনের শেষবারের মতো নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

বিগত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মো শাহজাহান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ, অ্যাডভোকেট সুফিয়া আকতার হেলেন বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হওয়ায় আগামী সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা দেখছে অনেকেই। সাবেক সংরক্ষিত নারী এমপি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার শিপা ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরীর নামও শোনা যাচ্ছে নেতা-কর্মীদের মুখে। তাছাড়া ২০ দলীয় প্রধান শরীক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হবিগঞ্জ জেলা শাখার আমীর কাজী মাওলানা মুখলিছুর রহমানেরও জোটের প্রার্থীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জোটের অপর শরীক খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদেরও (বাচ্চু) আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন।

জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি ও মাধবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. শাহজাহান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই মাধবপুর চুনারুঘাটে তৃণমুল পর্যায়ে বিএনপিকে সংগঠিত করে যাচ্ছি। দল নির্বাচনে গেলে এবং সুষ্ঠু ভোট হলে এ আসনে বিএনপির জয় হবেই।

শাম্মী আক্তার শিপা বলেন, আমি হবিগঞ্জ মৌলভীবাজার আসনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ছিলাম। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হব।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ