একাই ১০ প্রাণ বাঁচালো ছোট্ট সুমন

.ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৫ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১১ ১৪২৬,   ১৯ শা'বান ১৪৪০

একাই ১০ প্রাণ বাঁচালো ছোট্ট সুমন

 প্রকাশিত: ১৪:৫১ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১২:০৯ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শৈশব পেরিয়ে কৈশরের বেশি দূর এগোয়নি। কিন্তু এরইমাঝে বীরত্বগাঁথা কাজ করে দৃষ্টি কেড়েছেন সবার। তার অপরিসীম বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতায় বেঁচে গেছে ১০ তাজা প্রাণ। কাজটি করেছে পাবনার চলনবিল হান্ডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সুমন হোসেন।

তার বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পাবনার ডিসি তাকে ভূষিত করেছেন বীর উপাধিতে। শিক্ষা সহায়তা হিসেবে দিয়েছেন নগদ পাঁচহাজার টাকাও।

সম্প্রতি সুমন বিলের মধ্যে ছোট একটি ডিঙি নৌকা নিয়ে যখন তার প্রতিবেশী এক আত্মীয়কে খাল পার করে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলো। এমন সময় তার পাশেই ২২ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা ডুবে যায়। ডুবন্ত যাত্রীদের আর্ত চিৎকারে তাৎক্ষণিক তাদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে এগিয়ে যায় সুমন। এ সময় বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ডুবন্ত যাত্রীদের তার নৌকায় না উঠে আত্মরক্ষার্থে শুধু নৌকা ধরে ভেসে থাকার পরামর্শ দেয়। কারণ সে জানে সবাই একযোগে নৌকায় উঠতে গেলে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। উল্টো তার নৌকাটিও ডুবে যাবে। এভাবে কৌশলে ১০ জনকে পাড়ে নিয়ে আসে। তাদের জীবন রক্ষা করে। পরে সে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীদলকেও উদ্ধার কাজে সহায়তা করে।

পাবনার ডিসি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ডুবে যাওয়া নৌকা যাত্রীদের উদ্ধারে শিশু সুমনের কর্মতৎপরতার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সুমন একজন  বীর। দুর্ঘটনার পর পরই সে একাই দশ জনকে উদ্ধারে সাহসী ভূমিকা রেখেছে। তার শিক্ষা সহায়তায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে।’

শিশু সুমনসহ তার পরিবারকে তিনি ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে সুমনের মতো সব শিশুরাই যেন এমন মানবিক কাজে এগিয়ে আসে সেই প্রত্যাশাও করেন তিনি।

সুমনের বাবা কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমার ছেলে বড় হয়েও যেন এমন আদর্শ ধরে রাখতে পারে। যদিও আমরা গরিব, তবে ছেলের এমন কাজ দেখে সব দুঃখ কষ্টের কথা ভুলে গেছি। আমার ছেলে ডিসি স্যারের হাতে এমন কাজের জন্যে পুরষ্কার পাওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ। আমার ছেলের মতো দেশের সব সন্তানই যেন এই ধরনের কাজে এগিয়ে আসে সেটাই আশা।’

গজাইল ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাকির সেলিম বলেন, ‘ছেলেটি যে কাজ করেছে, তা অত্যন্ত মানবিক। ওই দুর্ঘটনার সময় নিজের জীবনবাজী রেখে অন্যের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসা শিশু সুমনের কর্মযজ্ঞ বড়দের জন্যে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

হান্ডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রজ্জাক বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী মানবতার সেবায় যে ভূমিকা রেখেছে তাতে আমি গর্ববোধ করি। তার এই কাজের মূল্যায়ন করা খুবই কঠিন।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় চলনবিলের পাইকপাড়ায় নৌকা ডুবির ঘটনায় শত শত মানুষ ভিড় করে। এ সময় সবাইকে চমকে দিয়ে সুমন একাই একটি ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে উদ্ধার তৎপরতায় এগিয়ে যায়। তার একান্ত সহায়তায় একেএকে উদ্ধার পেয়েছে ডুবন্ত নৌকার ১০ যাত্রী। শিশু সুমনের এমন সাহসিকতা বড়দের জন্যে সত্যিই একটি বড় দৃষ্টান্ত।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পাবনার চলনবিলের পাইকপাড়ায় নৌকার মাচার উপর দাঁড়িয়ে যাত্রীদের সেল্ফি তুলার সময় মাচা ভেঙে যায়। এ সময় সবাই একযোগে দ্রুত মাচা থেকে নামতে গিয়ে নৌকাটি কাৎ হয়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর