একবিংশ শতাব্দীর অভিশাপ: ইন্টারনেট আসক্তি
SELECT bn_content_arch.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content_arch INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content_arch.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content_arch.ContentID WHERE bn_content_arch.Deletable=1 AND bn_content_arch.ShowContent=1 AND bn_content_arch.ContentID=15327 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৯ ১৪২৭,   ০৬ সফর ১৪৪২

একবিংশ শতাব্দীর অভিশাপ: ইন্টারনেট আসক্তি

 প্রকাশিত: ১৬:৪৯ ২২ অক্টোবর ২০১৭   আপডেট: ১৭:৩২ ২২ অক্টোবর ২০১৭

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তি আজকের যুগের একটি অত্যন্ত জটিল সমস্যা এবং অভিশাপ। অন্যান্য নেশার মতই এটি একটি সর্বনাশা নেশা যা ব্যাক্তির সামাজিক,পারিবারিক ও পেশাগত জীবন কে মারাত্মক ভাবে প্রভাবিত করে। ইন্টারনেট ব্যতীত বর্তমানে যুগে চলা অসম্ভব। আবার, এর মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি জীবনকে ধ্বংস করছে।

❏ কখন ইন্টারনেট আসক্তি বলবোঃ
মাথার মধ্যে যখন প্রধান চিন্তা থাকে ইন্টারনেট, সপ্তাহে ৩৮ ঘন্টা বা তার বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করা, ইন্টারনেট ছাড়া থাকতে না পারা, বাদ দিতে গেলে দুঃশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা ও অন্যান্য সমস্যা আসা, মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাভাবিক, পারিবারিক, সামাজিক ও পেশাগত জীবনকে ব্যাহত করা, ইন্টারনেট যদি হয় বিনোদনের প্রধান উৎস, ইন্টারনেটের ব্যবহার যারা লুকিয়ে রাখতে চায় ও তা নিয়ে মিথ্যা কথা বলে, বাস্তব জীবনের চেয়ে ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জীবন যাদের কাছে বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

❏ ইন্টারনেট আসক্তির প্রকারভেদঃ
সাইবার সেক্স, সাইবার রিলেশন প্রবলেম, পর্ণোগ্রাফি, অনলাইন গ্যাম্বলিং বা জুয়া, ইন্টারনেট গেমিং, ফেসবুক আসক্তি, কম্পালসিভ ডেবিলিটেটিং ডিসঅর্ডার।

❏ শারিরীক প্রতিক্রিয়াঃ
ঘাড় ও কোমর ব্যাথা, মাথা ব্যাথা’, আই স্ট্রেন (চোখে অস্বাভাবিক চাপজনিত সমস্যা)।

❏ মানসিক প্রতিক্রিয়াঃ
অনিদ্রা, অতিরিক্ত টেনশন বোধ, বিষণ্ণতা, যৌন সমস্যা, অপরাধ প্রবনতা, মনোযোগ কমে যাওয়া।

❏ পারিবারিকঃ
সম্পর্কের ভয়াবহ অবনতি, দাম্পত্য কলহের একটি প্রধান কারন এখন ফেসবুক চ্যাটিং ও সাইবার সেক্স। বিশেষ করে কিশোরীরা সহজেই অনাকাঙ্ক্ষিত বিভিন্ন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এটা আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ।

❏ পেশাগতঃ
অতিরিক্ত টেনশন, বিষণ্ণতা, অনিদ্রার জন্য সারারাত নেট চালায়, সারাদিন ঘুমায়। স্বাভাবিক জীবন যাপন অসম্ভব হয়ে পড়ে।

❏ চিকিৎসাঃ
সাইকোলজ্যিকাল, ফিজিক্যাল, সোশ্যাল

❏ সাইকোলজিক্যালঃ
সাইকো এডুকেশনঃ ইন্টারনেটের কুফল সম্পর্কে জ্ঞান দান, সেট আ লিমিট বা ইন্টারনেটের সীমিত ব্যবহার, ইন্টারনেটে আনন্দ না খুঁজে বাস্তব জীবনে আনন্দ বের করা।

যেমনঃ গল্প করা, আড্ডা দেওয়া, বাগান করা, ঘুরে বেড়ানো, বই পড়া ইত্যাদি।

পরিবারকে অধিক সময় দেওয়া, বিশেষ করে স্বামী ও স্ত্রীদের, পারিবারিক জীবন যাপন ইন্টারনেটে শেয়ার করাতে নিরুৎসাহিত করা, ইন্টারনেটের কুফল সম্পর্কে মিডিয়ার সহায়তায় জনসচেতনতা সৃষ্টি, বাস্তব জীবনকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া, কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা।

❏ ফিজিক্যালঃ
সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে যদি মরবিডিটি মেন্টাল ইলনেস থাকলে টিসিএ , এস,এস,আর,আই (বিষন্নতানাশক ঔষধ), বেঞ্জোডায়াজেপাইন (৩ সপ্তাহের বেশী নয়) ব্যবহার করা যেতে পারে। ভয়াবহ ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি করা যেতে পারে।

প্রয়োজন পড়বেঃ দীর্ঘ মেয়াদী কাউন্সিলিং, নিয়মিত ডক্টর ফলোআপ, মোরালিটি ইম্প্রুভমেন্ট (নৈতিক শিক্ষাদান)

❏ পর্ণোগ্রাফি আসক্তিঃ
ইন্টারনেট অ্যাডিকশনের একটি ভয়াবহ কারণ হচ্ছে পর্ণোগ্রাফি, কেবলমাত্র প্রাপ্তবয়স্করা নয়, কিশোর কিশোরীরাও এখন এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এটা মস্তিস্ককে চরম ভাবে উত্তেজিত করে। যার ফলে অবৈধ যৌনাচার, ধর্ষণের প্রবনতা জনিত ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।একজন টিনেজার কখনোই এই ভার তাদের মস্তিস্কে বহন করতে পারবে না। ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে বর্তমান সমাজে পর্ণোগ্রাফির ফলে। যদিও দৃশ্যাবলিতে ১৮+ লেখা থাকে তবে সমাজে এই নিয়মের কোন প্রতিফলন নেই।
উন্নত বিশ্বে ইন্টারনেট অ্যাডিকশন সেন্টার আছে। সময়ের প্রয়োজনে আমাদেরও এই উদ্যোগ নিতে হবে।

আমাদের এই মানসিক রোগের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। যেন রোগীরা অন্তত চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পায়। উপরে উল্লেখিত কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে এর জন্য চিকিৎসা সহায়তা করবে ক্রাইম রিসার্চ এন্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশ (ক্রাফ) অথবা যোগাযোগ করতে পারেন ডেল্টা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল সহকারি অধ্যাপক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মোঃ হারুনুর রশীদ এম,বি,বিএস, এম.ফিল, এম.সি.পি.এস, এফ.সি.পি.এস( সাইকিয়াট্রি)।

তিনি প্রাক্তন সহকারি অধ্যাপক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। মনোভুবন সেন্টার, বাড়ী নং- ২/৫, রোড নং-৫ (ব্লক-এ), নীচ তলা , লালমাটিয়া (পানির ট্যাংকের পূর্ব পাশে)।

এছাড়াও আপনাদের যেকোন মানসিক সমস্যা সংক্রান্ত প্রশ্ন জানাতে যদি গোপনে যানাতে চান তাহলে [email protected] এ মেইল করতে পারেন। সাবজেক্টে লিখবেন Psychiatry। আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর ভিডিও এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ