Alexa একবার ডুবলে আর উদ্ধার সম্ভব নয়!

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

একবার ডুবলে আর উদ্ধার সম্ভব নয়!

শামীম আহমেদ, বরিশাল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৬ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দেশের বিভিন্ন নৌপথে একের পর এক দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে নৌযান নিমজ্জিত হচ্ছে। কিন্তু তা উদ্ধারে নেই উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ। নিমজ্জিত নৌযান উদ্ধারে শক্তিশালী নৌযানের অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আর নিমজ্জিত নৌযানের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে নৌপথ।

আর তাই লঞ্চ, ট্রলার, পণ্যবাহী কার্গো দুর্ঘটনার পর তা নদীর তলদেশেই ধ্বংস হচ্ছে। এ বছর বর্ষা মৌসুমে নৌপথে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে একের পর এক দুর্ঘটনায় নিমজ্জিত নৌযান উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। নাব্যতাসংকট, অদক্ষ চালক, লঞ্চে আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, নৌ-মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মনিটরিং সংকটের কারণে নৌপথে দুর্ভোগের সীমা নেই। তার ওপর ঢাকা-বরিশাল নৌপথের মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনায় নিমজ্জিত কার্গো, বাল্কহেড উদ্ধার না হওয়ায় দিনে দিনে ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নৌ-মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রানুযায়ী, নিমজ্জিত বিভিন্ন পণ্যবাহী নৌযানের ওজন এক হাজার ২০০ টনের বেশি হওয়ায় ২৫০ টন ধারণক্ষমতার বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজের পক্ষে তা তোলা সম্ভব হচ্ছে না। 

৬ আগস্ট মেঘনার গজারিয়ায় দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে দুটি নৌযান নিমজ্জিত হয়। গজারিয়ায় সারবোঝাই এমভি টপশিপ কার্গো ও গোবিন্দপুর সংলগ্ন অপর একটি মালবাহী কার্গো নিমজ্জিত হয়। এর আগে ২৫ মে বালুবাহী বাল্কহেড এমভি সিয়াম মেঘনা নদীর মিয়ারচর এলাকায় নিমজ্জিত হলেও এখন পর্যন্ত তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মেঘনা নদীতে এ তিনটি কার্গো প্রায় কাছাকাছি স্থানে নিমজ্জিত হওয়ায় বর্ষায় ঝুঁকি আরো বেড়েছে। বিশেষ করে মেঘনা নদীতে ডুবোচরের পাশাপাশি কার্গো নিমজ্জিত থাকায় নদীপথ সরু হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী নৌযান হামজা ও রুস্তুম অনেক আগেই অকেজো হয়ে গেছে। হামজা সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৯৬৫ সালে, যা এখন আরিচা ফেরিঘাটে রয়েছে। রুস্তুম সংগ্রহ করা হয় ১৯৮৪ সালে, যা এখন মাওয়া ফেরিঘাটে রয়েছে। 

দীর্ঘ বছর পর ২০১৩ সালে কোরিয়া থেকে আমদানি করা হয় নির্ভীক ও প্রত্যয় নামের দুটি উদ্ধারকারী নৌযান। এ দুটির প্রত্যেকটির ভার বহনের ক্ষমতা ২৫০ টন। প্রয়োজনের তুলনায় কম ক্ষমতাসম্পন্ন হলেও নতুন দুটি উদ্ধারকারী নৌযান আশার সঞ্চার করেছিলো। তবে উদ্ধার অভিযানে এ দুটি যানও সংশ্লিষ্টদের হতাশ করেছে। ৫০০টন উদ্ধার ক্ষমতা হলেও বরিশালে অবস্থানরত নির্ভীক ও নারায়ণগঞ্জ অবস্থানরত প্রত্যয় পুরনো জলযান রুস্তুম ও হামজার মতো একযোগে উদ্ধার অভিযান চালাতে পারে না।

তবে গভীর পানি ছাড়া নতুন এ দুটি উদ্ধারকারী ভারী জাহাজ চলতে পারে না। রুস্তুম ও হামজা সাত থেকে আট ফুট পানিতে চলাচল করতে পারলেও নির্ভিক ও প্রত্যয় চলাচলের জন্য এর দ্বিগুণ গভীরতা প্রয়োজন হয়। চলাচলে শক্তিহীন এ উদ্ধারকারী জাহাজ কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে টাগ বা অন্য জাহাজের সাহায্যে তাকে টেনে নিয়ে যেতে হয়। এতে জ্বালানির প্রয়োজন হয় প্রতি ঘন্টায় ৩০০ লিটার। ভাটার সময় এর গতি আরও কমে যায়।

ফলে মেঘনা, লক্ষ্মীপুরসহ চাঁদপুরের বিভিন্নস্থানে কিংবা বরগুনার বিষখালী, খাতাচেড়া ও আগুনমুখা নদীতে দুর্ঘটনা ঘটলে বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধারকারী নৌযানগুলোর ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘসময় লেগে যায়। তাছাড়া দেশের বিশাল নৌপথ যখন নাব্যসংকটে রয়েছে, তখন গভীর জলে চলাচল উপযোগী প্রত্যয় ও নির্ভীক দুর্ঘটনাস্থলে কীভাবে পৌঁছাবে তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। জোয়ার-ভাটার হিসেব মিলিয়ে ওই দুটি ইউনিট দুঘর্টনাস্থলে পৌঁছলেও কাজ করতে পারে মাত্র একটি ইউনিট।

নিমজ্জিত নৌযান প্রসঙ্গে বরিশাল নৌ-সংরক্ষণ বিভাগের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, নিমজ্জিত স্থানগুলো বয়া দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিগত ছয় বছরে একাধিক নৌযান নিমজ্জিত হলেও এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের তদন্ত কমিটি গঠন ও পরবর্তী সময় উদ্ধার অভিযান পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এতে নিমজ্জিত নৌযানের অধিকাংশ পানির নিচেই ধ্বংস হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা সরকার মিঠু জানান, মিয়ারচরে নিমজ্জিত বাল্কহেড এমভি সিয়াম উদ্ধারে বিআইডব্লিউটিএ ৬০ লাখ টাকার উন্মুক্ত দরপত্র দিয়েছে। কিন্তু নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় তা উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস