Alexa একদিকে ঘরে ফেরার প্রস্তুতি, অন্যদিকে দুর্ভোগ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৫ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

একদিকে ঘরে ফেরার প্রস্তুতি, অন্যদিকে দুর্ভোগ

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২২ ২৮ জুলাই ২০১৯  

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনার পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে বাঙ্গালী নদীর পানি কমতে শুরু করলেও এখনো বিপদসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনার পানি কমায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া বন্যার্তরা ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি যাদের বিধ্বস্ত চাইলেই এই মূহূর্তে তাদের বাড়ি ফেরা সম্ভব হচ্ছে না।

বাঙালী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌর এলাকা সারিয়াকান্দি সদর, নারচী, ফুলবাড়ী, কুতুবপুর এবং ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে নতুন করে ফসলের মাঠ তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবারের সংখ্যা আরো বেড়েছে। বানভাসি মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি গবাদী পশুর খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে।

ভেলাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রুবেল উদ্দিন জানান, বাঙালী নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে তার ইউনিয়নের ৬টি গ্রামের সবকটি গ্রামের ফসলের মাঠ তলিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

হাওড়াখালি গ্রামের মজিদ ফকির জানান, তাদের গরু-ছাগল নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। গরু-ছাগল লালন পালন করেই তাদের সংসার চলে। বন্যার আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে ঘাস কেটে এনে গরু ছাগল লালন পালন করতে খরচ কম হওয়ায় গরু বিক্রি করে লাভ বেশি পেয়েছেন। এখন মাঠ-ঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ঘাস সংগ্রহ করতে পারছে না। ধানের কুড়া-ভুষিসহ অন্যান্য গোখাদ্য ক্রয় করে গরু-ছাগল পালনে খরচ বেশি হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, যমুনার পানি কমে বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। কিন্তু বাঙালী নদীর পানি কমলেও এখনও বিপদসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা ও বাঙ্গালী নদী বেষ্টিত সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনট, গাবতলী ও শেরপুরের উপজেলায় ২৩টি ইউনিয়নের ২৫৪টি গ্রামের ৬৭ হাজার ৫০৭টি পরিবারের ২ লাখ ৬৭ হাজার ৫৪৪ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

নদী ভাঙনে তিন উপজেলায় ১৪৫টি আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৬৩০ ঘরবাড়ি। বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন ২ হাজার ৯শ পরিবার। অন্যান্য স্থানে আশ্রয় নিয়েছে ৯২৩ পরিবার। বন্যায় ১৭টি  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ন এবং ২০৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ২০টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ১৮৮ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ও ৭৭.৬০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা এবং ১১টি ব্রিজ কালভাট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বাঁধে আশ্রিতদের জন্য ওয়াটার ট্টিটমেন্ট প্লান্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া পানি বিশুদ্ধকরণ ৩৬ হাজার ৩৫০টি ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় ৩২টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এবারের বন্যায় ২৩ হাজার ৩০ হেক্টর জমির পাট, আউশ ধান, বীজতলা, মরিচ, আখ ও বিভিন্ন সবজি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যায়ন ২ হাজার ৩৩০টি ল্যান্টিন ও ২ হাজার ৭৩৬টি টিউবয়েল নষ্ট হয়ে যায়। সাপে কেটে এবং বন্যার পানিতে পড়ে এ পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ডিসি ফয়েজ আহাম্মদ জানান, এ পর্যন্ত বন্যা কবলিত সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনট ও গাবতলী উপজেলায় ৮৫০ মেট্রিক টন জিআর চাল, ৩ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, জিআর ক্যাশ ১২ লাখ টাকা, শিশু খাদ্য ক্রয়ের জন্য ১ লাখ টাকা ও গোখাদ্যের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

Best Electronics
Best Electronics