একতাবদ্ধ হয়ে চলাই সোনালি বানরদের বেঁচে থাকার মূল কৌশল!
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=193766 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৯ ১৪২৭,   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

একতাবদ্ধ হয়ে চলাই সোনালি বানরদের বেঁচে থাকার মূল কৌশল!

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৭ ১৩ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৫:০২ ১৩ জুলাই ২০২০

ছবি: সোনালি নীল মুখের ভোঁতা নাকের বানর

ছবি: সোনালি নীল মুখের ভোঁতা নাকের বানর

পৃথিবীতে বর্তমানে বিদ্যমান ১৯ প্রজাতির বানর রয়েছে। এদের মধ্যে এক প্রজাতি বানর হলো সোনালি ভোঁতা নাক বানর। সোনালি ভোঁতা নাক বানরগুলো তিব্বতের আদিবাসী। 

জায়ান্ট পান্ডার মতো, এই প্রাণীগুলোর খুব কমই বন্যের মধ্যে থাকে। সোনালি ভোঁতা নাক বানরগুলোর মুখের পাশে ছোট একটি নাক রয়েছে। বানরের নামটি তার নাক এবং এর সুন্দর লালচে-সোনালি চুল থেকে প্রাপ্ত। এই বানরগুলো শেনংজিয়া অঞ্চলের পর্বতসমূহ চীনের সবচেয়ে উঁচু পর্বতমালায় বেশি দেখা যায়। 

মায়ের কোলে সন্তানসেখানকার জঙ্গল সম্পর্কে এ যাবৎকাল পর্যন্ত মানুষ খুব কমই জানতো। এমনকি ওই জঙ্গলে কোন ধরণের বন্য প্রাণীর বসবাস তাও কারো জানা ছিল না। আর এই জঙ্গলেই বাস এক অদ্ভুত তুষার বানরের বসবাস। নীল মুখের, সোনালি দেহ ও ভোঁতা নাকের এক অবিশ্বাস্য সুন্দর বানর।

একটি পুরুষ সোনালি বানরের দেহের দৈর্ঘ্য ৫৭ থেকে ৭৬ সে.মি.। তাদের লেজের দৈর্ঘ্য ৫১ থেকে ৭২ সে.মি.। পুরুষদের ওজন সাধারণত ১৫ থেকে ৩৯ কেজির মধ্যে হয়। আর স্ত্রীদের ওজন ছয় দশমিক পাঁচ থেকে ১০ কেজি হয়। পুরুষ সোনালি বানর সাত বছর বয়সে যৌন পরিপক্কতায় পৌঁছায়। আর নারী সোনালি বানর চার থেকে পাঁচ বছর বয়সে যৌন পরিপক্কতায় পৌঁছে যায়। 

নীল মুখো, ভোতা নাকের বানরের মুখে হাসিশীতের সময় এই বানরেরা তাদের আবাসস্থল পরিবর্তন করে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তারা সঙ্গী খুঁজে নেয় এবং এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে সন্তান জন্ম দেয়। বানরের গর্ভকালীন সময়টি প্রায় সাত মাস। মা বানরেরা প্রতি প্রজনন মৌসুমে একজন বা কম সংখ্যক দুটি সন্তানের জন্ম দেয়। 

তবে সোনালি বানরদের আয়ু কতদিন তা এখনো অজানা। এরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বানরগুলোর মধ্যে একটি। বড় প্রাণীরা ছোটদের তুলনায় অতি সহজেই শরীর গরম রাখতে পারে। আর এ কারণেই এই বানরেরা সবচেয়ে ঠাণ্ডা আবহাওয়াতেও টিকে আছে। শরীর গরম রাখতে পুরো দল সুযোগ পেলেই একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। 

মা কি করছে দেখছে খুদে বানর

দলবদ্ধভাবে একসঙ্গে ৬০ থেকে ৭০টি বানর থাকতে পারে। কারণ প্রাপ্তবয়স্করা দল থেকে আলাদা হয়ে গেলে ঠাণ্ডায় মারা যেতে পারে। শীতের মাঝামাঝি সময়ে এই জঙ্গলে খাবার পাওয়া খুবই দুষ্কর হয়ে ওঠে। খাবারের সন্ধানে দলের প্রধান সবাইকে রাজ্যের একবারে কিনারায় নিয়ে যায়। 

তবে গাছের ছাল, মস, লাইকেন ছাড়া সেখানে আর তেমন কোনো খাবারই মেলে না। একটি পরিবার তো দূরের কথা একটি বানরের জন্যও এখানে পর্যাপ্ত খাবার নেই। তবুও এরা শান্তিপূর্ণভাবে খাবার ভাগাভাগি করে নেয়। কারণ টিকে থাকা নির্ভর করে দলের একতার উপর। 

শীতে জড়োসড়ো বানরএসব পর্বতে প্রতিটি খাদ্য কণা মহামূল্যবান। অনেক সময় প্রতিপক্ষ দলগুলোর মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যায়। প্রথম দলের প্রধান পুরুষ বানরেরা লড়াইয়ে জড়িয়ে যায়। এরপর যোগ দেয় নারী বানরেরাও। বিবাদ সামান্য কারণে হলেও, এর জন্য অনেক সময় চড়া মূল্য দিতে হয়। মারাত্মকভাবে আহত হওয়া এবং দল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া তাদের জন্য অস্বাভাবিক কিছু নয়। 

তবে শীতকালের এই কঠিন সময় পার করতে দলবদ্ধ থাকার কোনো বিকল্প নেই। কারণ, কঠিন সময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা টিকে থাকার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। আর এই নীতি মেনে চলে সোনালি বানরেরা। তারা প্রতি পদক্ষেপে দলের সঙ্গে মিলে থাকে। একতাবদ্ধ হয়ে তারা জীবনযাপন করছে আদিকাল থেকেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস