.ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৭ ১৪২৫,   ১৪ রজব ১৪৪০

একটি ফলের দাম ১৯ লাখ টাকা!

খালিদ মাহমুদ খান

 প্রকাশিত: ১৪:৩৩ ১১ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৪:৩৩ ১১ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ফল মাত্রই সুস্বাদু হবে এবং দাম থাকবে হাতের নাগালের মধ্যে। সারা বিশ্বে প্রায় ২ হাজার প্রজাতির ফল রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ফলই এশিয়া মহাদেশে জন্মে থাকে এবং কম বেশি সব ফলেরই দাম ক্রেতার ধরাছোঁয়ার মধ্যে। তবে বিশ্বে এমন কিছু ফল রয়েছে যেগুলোর দাম নাগালের বেশ বাইরে। সাধারণ ক্রেতার এতই নাগালের বাইরে যে এদের মধ্যে কয়েকটি ফল বিশ্বের খুব কম মানুষই কেনার সাহস দেখাবে। তাহলে চলুন জেনে আসি এরকই আকাশচুম্বী দামের কয়েকটি ফল সম্পর্কে-

চৌকোণা তরমুজ- তরমুজ একটি মৌসুমী এবং প্রচুর উৎপাদনশীল ফল। তবে আমরা সাধারণত যে তরমুজ খেয়ে থাকি তার আকৃতি সিলিন্ডার আকৃতির যেটিকে পঞ্চভূজাকার বললেও ভুল হবে না। তবে এখন যে চৌকোণাকার তরমুজের কথা বলা হচ্ছে সেটি সব জায়গায় জন্মায় না। এই চৌকোণাকার তরমুজের উৎপাদন শুধু জাপানেই হয়। চৌকোণা আকৃতির কারণেই এই তরমুজটি অত্যন্ত দামি। ২০১৪ সালের পর থেকে এই তরমুজ জাপানের বাইরেও নিয়মিত রপ্তানি করা হচ্ছে। এই তরমুজটিকে চারকোণা আকৃতি দেয়ার জন্য বাক্সেই এটির উৎপাদন করা হয়। এক একটি তরমুজের ওজন হয় ৫ থেকে ৬ কেজি এবং প্রত্যেক সংখ্যা প্রতি তরমুজের দাম হয় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। এজন্য যারা এত দাম দিয়ে তরমুজ কেনে তারা হয়তো খাওয়ার থেকে ঘরে সাজিয়ে রাখতেই বেশি পছন্দ করে।

হেলিগানের আনারস- যুক্তরাজ্যের হারান বাগান নামে খ্যাত হেলিগানের আনারস বিশ্বের অন্যতম সুস্বাদু এবং দামী একটি ফল। এর একটি আনারসের জন্য যে কাউকে গুণতে হবে প্রায় ১২ হাজার টাকা। এখানে আনারসের এতো চড়া মূল্য হওয়ার কারণটাও বেশ স্বাভাবিক। কারণ যুক্তরাজ্যে এই একটি মাত্র বাগানে আনারস চাষ করা হয়। এমনকি এই মহাদেশের মধ্যে এই একটিই আনারস বাগান। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে একবার এখানে একটি আনারস নিলামে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

ইউবারি কিং তরমুজ- জাপানে উৎপাদিত বাদামী বর্ণের এই তরমুজটির এক জোড়া কিনতে আপনাকে গুণতে হবে প্রায় ২২৫ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশী টাকায় যেটি প্রায় ১৮ হাজারের মতো। এমনকি একবার এই ইউবারি তরমুজের দাম দাঁড়িয়েছিল ১৯ লাখ ৭ হাজার টাকা যেটি এখন পর্যন্ত বিশ্বে সবচেয়ে বেশি দাম দিয়ে কেনা ফল। সাধারণত গ্রিন হাউজের মধ্যে এই ফলটি উৎপাদন করা হয়।

টায়োনো টোমাগো আম- জাপানি ভাষা টায়োনো টোমাগোর মানে দাঁড়ায় সূর্যের ভেতর ডিম। যদিও এই আম খেতে মোটেই ডিমের মতো নয় তবে এর আকৃতি ডিমের মতোই। এই ফলটির জন্মস্থান মূলত জাপানে এবং এই আমে চিনির পরিমাণ তুলনামূলক বেশ কম। মাত্র দুটি টায়োনো টোবাগো আম কিনতে হলে ক্রেতাকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা গুণতে হবে।

রুবি রোমান আঙুর- এই আঙুরটি জাপানের ইসিকাওয়া প্রিফিকচারে উৎপাদন করা হয়। লাল রঙের এই আঙুরটি টেবিল গ্রেপ নামেই বেশি পরিচিত এর টেবিল টেনিস বা পিংপং বলের ন্যায় আকৃতির জন্য। ২০০৮ সাল থেকে এই কম উৎপাদনশীল আঙ্গুর জাপানের বাজারে বিক্রি হচ্ছে। মাত্র ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি থোকার কেনার জন্য আপনাকে ব্যয় করতে হবে প্রায় ৮০ হাজার টাকা অর্থাৎ একটি মাত্র আঙুরের দাম দাঁড়ায় প্রায় দুই হাজার টাকা। ২০১৬ সালে ৭০০ গ্রামের এক থোকা আঙুর বিক্রি হয়েছিলো প্রায় পাঁচ লাখ টাকায়।

ডেনসুকি তরমুজ- সাধারণত তরমুজ দেখতে সবুজ রঙের হয়ে থাকে তবে এই ডেনসুকি তরমুজ দেখতে কালচে লাল ধরনের। এর আকৃতিও সাধারণ তরমুজের চেয়ে বেশ বড় এবং একেকটি তরমুজ সাধারণত ১০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই তরমুজটির জাত এতটাই দুষ্প্রাপ্য যে বছরে মাত্র একশোটি ডেনসুকি তরমুজের উৎপাদন সম্ভব হয় এবং বিশ্বে এই তরমুজের একমাত্র উৎপাদনকারী স্থান জাপানের হাক্কাইডো দ্বীপ। দামের প্রসঙ্গে বলতে গেলে খুব বিত্তশালী না হলে এই তরমুজ কেনার কেউ সাহস করবে না। প্রতিটি তরমুজের জন্য ক্রেতাকে গুণতে হয় তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস