একটি পাহাড় কেটেই ভীনগ্রহীরা তৈরি করেছে রহস্যময় মন্দির

ঢাকা, রোববার   ৩১ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৮ ১৪২৭,   ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

একটি পাহাড় কেটেই ভীনগ্রহীরা তৈরি করেছে রহস্যময় মন্দির

সাদিকা আক্তার  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০৪ ১ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৬:১৫ ১ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীতে এমন মন্দির আছে যা নিজের সৌন্দর্যের জন্য সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত। তবে ভারতে এমন একটি মন্দির আছে, যেটি তার সৌন্দর্যের আড়ালে অনেক রহস্য লুকিয়ে রেখেছে কোটি কোটি বছর ধরে। বলছি ঔরঙ্গাবাদ এর কৈলাস মন্দিরের কথা। 

মন্দিরটির রহস্য ইতিহাসও এখনো খুঁজে বের করতে পারেনি। কারো মতে, মন্দিরটি ভিনগ্রহের প্রাণীদের দ্বারা তৈরি কিন্তু সত্যিই কি তাই! যে মন্দিরটি আরঙ্গজেব পর্যন্ত তার হাজার সেনাবাহিনী দিয়ে ধ্বংস করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে যান।

একটি পাথর কেটে নির্মিত মন্দিরএই মন্দিরটি মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ জেলায় প্রসিদ্ধ ইলোরা গুহার মধ্যে অবস্থিত। ইলোরা গুহাকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন গুহা বলে মনে করা হয়। এখানে পাথর কেটে ৩৪ টি গুহা এবং একটি রহস্যময় প্রাচীন হিন্দু মন্দির বানানো হয়েছে। যার নাম কৈলাস মন্দির। এই মন্দিরটি অন্যান্য মন্দিরের মতো পাথরের টুকরো জুড়ে বাড়ানো হয়নি, এটি বানানো হয়েছে একটি পাহাড়কে কেটে। তাও আবার উপর থেকে নিচের দিকে কাটা হয়েছে এটি। পৃথিবীর যেকোনো গুহা লক্ষ্য করলে দেখা যাবে সেগুলো বাইরের দিক থেকে ভেতরের দিকে কাটা হয়েছে। 

উপর থেকে মন্দিরের দৃশ্য দেখতে এমনইযাকে কাট ইন মোনোলিথ পদ্ধতি বলা হয়। যা খুবই কঠিন এবং জটিল। এই মন্দিরে স্তম্ভ এবং কলাকৃতি দেখে আপনি হয়ত অনুমান করতে পারবেন এই মন্দির তৈরিতে প্রচুর পরিমাণ পাথর কেটে সরাতে হয়েছে। আজ পর্যন্ত কেউ সঠিক অনুমান করতে পারিনি যে এই মন্দির কত বছরের পুরনো। এটিকে শুধু একটি পাহাড় কেটে বানানো হয়েছে। আর পাহাড়ের বয়স এবং মন্দিরের বয়সের মধ্যে তফাৎ থাকাটা স্বাভাবিক কারণ পাহাড় কোটি বছরের পুরনো হতে পারে এবং পরে সেই পাহাড় কেটে মন্দির নির্মাণের কাজ কয়েক হাজার বছর পরই শুরু করা হয়েছে বলে মনে করা হয়।

সত্যিই কি এলিয়েনরা তৈরি করেছে মন্দিরটি?আর্কিওলজিক্যাল এবং জিওলজিস্টরা পরীক্ষা করে জানিয়েছে, এটি কোনো সাধারণ মন্দির নয়। এই মন্দিরের নিচে আছে ভূমিগত গুহা। যেখানে যাওয়ার রাস্তা সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ করা আছে। দরজাটির পিছনে আছে এমন এক সুরঙ্গ যা মানুষকে নিয়ে যাবে এক ভূগর্ভস্থ শহরে। আর্কিওলজিস্টরা বলছেন, একটি পাথর কেটে এই ধরণের মন্দির বানাতে প্রায় চার লাখ টন পাথর কেটে সরাতে হবে! ইতিহাস বলছে, কৈলাস মন্দির বানানোর জন্য কেবলমাত্র ১৮ বছর সময় লেগেছিল যা সত্যিই অসম্ভব!

অসাধারণ কারুকাজ করা মন্দিরটিধরে নেয়া যাক, এই মন্দির বানানোর জন্য শ্রমিকরা প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা করে কাজ করেছে। তাহলেও ১৮ বছরের মধ্যে চার লাখ টন পাথর কেটে সরানো সহজ ব্যাপার নয়। তাদের প্রতিবছর প্রায় ২২ হাজার ২২২ টন পাথর কেটে সরাতে হয়েছে। যার মানে হচ্ছে সাত টন পাথরকে রোজ এবং পাঁচ টন পাথরকে প্রতি ঘণ্টায় এখান থেকে কেটে সরাতে হয়েছে। এইতো হলো শুধু পাথরগুলো কেটে সরানোর অনুমান। এরপর রয়েছে এই মন্দিরের কলা কৃতি ও ভাস্কর্যের। মন্দিরের ভবনগুলো বানাতে কতটা সময় লেগেছে সেই রহস্য কৈলাস মন্দিরকে আরো রহস্যময় করে তুলেছে। 

উপর থেকে নিচের দিকে পাথর কেটে তৈরি করা হয় মন্দিরটিআজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে যখন আজকের মতো আধুনিক উপকরণ ছিল না। তখন শুধু পাথরের কিছু যন্ত্রপাতির সাহায্যে এই ধরণের মন্দির তৈরি করা সত্যি একটি অবিশ্বাস্য বিষয়। আর যদি এই মন্দির প্রাচীন মানুষেরা পাথরের তৈরি যন্ত্রপাতির সাহায্যে বানিয়ে থাকে তাহলে এই মন্দির নির্মাণ করতে কয়েক লক্ষ বছর সময় লাগার কথা। সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ব্যাপারটি হলো পাহাড় কেটে যে পাথরগুলো বের করা হয়েছিল তার অবশিষ্টগুলো এই মন্দিরের আশেপাশে এমনকি কয়েক’শ মাইলের মধ্যেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

মন্দিরের ভেতরের দৃশ্যএখন প্রশ্ন হল, সেই সময়ে যখন কোনো বড় ক্রেনের মত যন্ত্র এবং উন্নত প্রযুক্তি ছিল না, সেই সময় এত পরিমাণ পাথর কীভাবে কাটা সম্ভব হয়েছিল এবং মন্দির স্থল থেকে কীভাবেই বা সরানো হয়েছিল? এই মন্দিরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ভূমিগত নালার ব্যবস্থাও দেখা যায়। এই মন্দিরের ছাদ, সিঁড়ি এবং থাম এত নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়েছে যা দেখে এটি মানুষ দ্বারা নির্মিত বলে সন্দেহ হয়! কারণ এই থামগুলো পরে নির্মাণ করা কখনোই সম্ভব নয়। করা মন্দিরটি উপর থেকে নিচের দিকে কেটে বানানো হয়। 

মন্দিরের দেয়াল কেটে তৈরি বিভিন্ন মূর্তির ছবিএর থেকে পরিষ্কার প্রমাণিত হয় যে মন্দিরটিকে তৈরি করার আগে খুব ভালোভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ১৬৮২ সালে তৎকালীন রাজা আওরঙ্গজেব এক হাজার জন সৈনিকের একটি দল পাঠিয়েছিল এই মন্দিরটিকে পুরোপুরি ভেঙ্গে নষ্ট করে দেয়ার জন্য। প্রায় তিন বছর ধরে এই মন্দিরটিকে ভাঙার চেষ্টা চালিয়ে যায়, তবুও তারা মন্দিরটি পুরোপুরি ভেঙ্গে নষ্ট করতে পারেনি। ঔরঙ্গজেব বুঝতে পারেনি মন্দিরটিকে নষ্ট করা প্রায় অসম্ভব। তখন তিনি মন্দিরটিকে নষ্ট করার কাজ বন্ধ করে দেন।

মন্দিরে পর্যটকের আনাগোনা চোখে পড়ার মতবর্তমানে এই ধরণের মন্দির বানানোর জন্য হাজার ড্রইং, কয়েকশ’ কম্পিউটার এবং অনেক ছোট ছোট মডেল বানিয়ে এর পরিকল্পনা করতে হবে। তবে সেই সময় এই সমস্ত প্রযুক্তি ছাড়াই এই কাজটি কি করে করা সম্ভব হলো? সেই প্রশ্ন সবার মনেই। বর্তমানের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এই ধরণের দ্বিতীয় আরেকটি মন্দির বানানো প্রায় অসম্ভব। ডালিয়ান্ট এস্ট্রনট থিওরি অনুযায়ী, এই মন্দিরের নির্মাণ এলিয়ন বা দৈবিক প্রযুক্তিতে করা হয়েছিল। আপনার কি মনে হয় এই মন্দিরের নির্মাণ সত্যিই কোনো এলিয়ন বা দৈবিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা?

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস