Alexa একই দিনে পাঁচ স্থানে দুদকের অভিযান

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ১ ১৪২৬,   ১২ জ্বিলকদ ১৪৪০

একই দিনে পাঁচ স্থানে দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:২২ ১৮ জুন ২০১৯   আপডেট: ২২:৪০ ১৮ জুন ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঢাকা শিশু হাসপাতালসহ দেশের পাঁচ স্থানে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি-হয়রানি বন্ধে পাঁচ উপজেলার নির্বাহী অফিসারকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট চিঠি দিয়েছেন। 

দুদকের এসব অভিযানের মধ্যে রয়েছে ঢাকা শিশু হাসপাতালও। বিভিন্ন অনিয়ম, ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগে মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাউফুল ইসলাম এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে দুদক টিম যথানিয়মে ওই হাসপাতালের ডাক্তারদের উপস্থিত না হওয়ার প্রমাণ পায়। মে-জুন মাসের বায়োমেট্রিক হাজিরা খতিয়ে তার জানতে পারে, একজন চিকিৎসক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত রয়েছেন। একইসঙ্গে আরো কয়েকজন ডাক্তার সঠিকভাবে হাসপাতালে উপস্থিত না হওয়ার প্রমাণ পায়।

দুদক টিম আরো জানতে পারে, হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে একটি প্রশাসনিক তদন্ত প্রতিবেদন ব্যবস্থাপনা বোর্ডের কাছে কিছু সুপারিশসহ দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সুপারিশ অনুযায়ী এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দুদক টিম অবিলম্বে ওই রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হাসপাতালের পরিচালককে পরামর্শ দেন।

অন্য আরেক অভিযানে রাজউকের অনুমোদনবিহীন নকশা অনুসারে ভবন নির্মাণের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুদক। 

দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন- ১০৬) আসা এক অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে রাজউক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে রাজধানীর আদাবরে এ অভিযান চালানো হয়। 

অভিযানে যথানিয়মে পরিমাপ করে উত্তর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির ৬ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে অনুমোদিত নকশার বাইরে বেশ কিছু অংশ নির্মিত হয়েছে এমন প্রমাণ পায়। এ সময় ৫ জুলাই এর ভেতরে ওই ভবনের বর্ধিতাংশ অপসারণে নোটিশ দেয় রাজউক। 

নির্মাণাধীন ভবনের মালিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন এমএলএসএস। বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়ে অবৈধভাবে এ বাড়িটি নির্মাণ করেছেন এমন তথ্য পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করার অনুমতি চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম।

এদিকে, রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রামে পাসপোর্ট অফিসে হয়রানির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুদক। সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, পাঁচলাইশে অভিযান চালায়। 

অভিযানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। দুদক টিম জানতে পারে, সাধারণ জনগণ যথাযথভাবে পাসপোর্টের ফরম পূরণ করে জমা দিতে গেলেও পাসপোর্ট অফিসের লোকজন তা জমা নেয় না। অথচ বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়। কিন্তু দালালের মাধ্যমে আবেদন করা হলে এ ধরণের হয়রানির স্বীকার হতে হয় না। এ সময় দালালদের দৌরাত্ম্য ও সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করে দুদক।

অন্য আরো একটি অভিযানে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি চাল ক্রয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। সমন্বিত জেলা কার্যালয়, টাঙ্গাইলের একটি টিম মির্জাপুরে এ অভিযান চালায়। অভিযানে দুদক টিম জানতে পারে, ওই এলাকায় দুটি রাইস মিল বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তাদের নিকট হতে চাল ক্রয় দেখিয়ে অনৈতিকভাবে অবৈধ অর্থ আয় করা হচ্ছে। এ অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানের সুপারিশ করে কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে এনফোর্সমেন্ট টিম।

এদিকে, কুষ্টিয়ায় দুইটি মহাসড়কের বেশ কিছু জায়গায় সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুষ্টিয়ার টিম এ অভিযান চালায়।

ওই সড়কে নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে অবহিত হয়ে অবিলম্বে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে নির্দেশনা দেয় দুদক টিম।

অপরদিকে, সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণ করার অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক ঈদের চাল বিতরণের জন্য কার্ড দেয়ায় ঘুষ নেয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে  খুলনার রূপসা উপজেলার নির্বাহী অফিসারকে চিঠি দিয়েছে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট।

এছাড়া ঘুষ নেয়ার মাধ্যমে বিদ্যালয় অবৈধ নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসারকে, সরকারি গুদামে চাল দেয়ার কথা বলে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসারকে এবং সরকারি রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে গৃহনির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট চিঠি দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/আরএইচ